সরকারি ক্রয় আইনে বড় সংশোধনী আসছে

০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

খান এ মামুন

সরকারি কেনাকাটায় সিন্ডিকেট করে ঠিকাদারদের কাজ বাগিয়ে নেওয়াসহ নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে। ২০০৬ সালে প্রণীত ক্রয় আইন এবং এর বিধিমালায় ফাঁক-ফোকরের সুযোগ নিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থায় সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম ঠেকাতে ক্রয় আইন ও বিধিমালায় বড় ধরনের সংশোধন আনছে সরকার। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আইন ও বিধিমালায় এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্রয় আইনে উল্লেখযোগ্য যেসব পরিবর্তন হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে_ সংস্থার নিজস্ব আয়কে পাবলিক মানি হিসেবে ঘোষণা, একটি প্যাকেজে মূল্য ছাড় ব্যবস্থা চালু, দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্যের ঊর্ধ্বহার ও নিম্নহার নির্ধারণ, এক ঠিকাদারকে দুটির বেশি কাজ না দেওয়া, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রে স্থানীয় ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার, দরপত্র জামানত সুস্পষ্টকরণ, বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ বাড়ানো এবং মূল্যায়ন কমিটির সম্মানী বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া সফটওয়্যারকে পণ্য, না কি সেবা হিসেবে বিবেচনা করা হবে সেটিও স্পষ্ট করা হবে নতুন সংশোধনীতে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক কেনাকাটায় পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানি উচ্চদরে কাজ পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রয়ে যোগসাজশে উচ্চদরে কাজ নিচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানি। এ কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায়। স্থানীয় কেনাকাটার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এ জন্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের ৩৮টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন করা হচ্ছে। এতে সরকারি কেনাকাটায় নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি হবে না।
অভ্যন্তরীণ কেনাকাটায় এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতি প্রচলিত আছে। এ জন্য আর্থিক ও কারিগরি প্রস্তাব একই সঙ্গে নেওয়া হয়। এর পর কারিগরি মূল্যায়ন করে আর্থিক বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ জন্য সিন্ডিকেট করে উচ্চদর দেওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে আন্তর্জাতিক কেনাকাটায় প্রথমে কারিগরি প্রস্তাব নেওয়া হয়। এখানে যারা বিবেচিত হয় তারা আর্থিক প্রস্তাব দেয়। এর ফলে কারিগরি প্রস্তাবে নির্বাচিত কয়েকটি কোম্পানি আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ পায়। এভাবে বিদ্যুৎ বিভাগ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সিন্ডিকেট করে উচ্চদর দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগের নজরে আসায় আন্তর্জাতিক কেনাকাটায় এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতি অন্তর্ভুক্তি করার সুপারিশ করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) মহাপরিচালক ফারুক হোসেন সমকালকে বলেন, ক্রয় আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক দরপত্রে এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতি প্রচলন করা হচ্ছে।
সিপিটিইউ পরিচালক (বিধি ও প্রশিক্ষণ) ওয়েদুন্নবী সরকার সমকালকে বলেন, সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এর বাইরে বর্তমান আইনের অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরিবর্তন করা হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)