হতাশার মধ্যেও ভালো থাকাটা জরুরি

০৬ জানুয়ারি ২০১৬

শারমিন লাকি। মডেল ও উপস্থাপিকা। আরটিভিতে তার উপস্থাপনায় প্রচার হচ্ছে রূপচর্চা বিষয়ক অনুষ্ঠান 'লাক্স ব্রাইডাল শো'। এ অনুষ্ঠানসহ নতুন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি_
২০১৬ সাল ঘিরে কোনো পরিকল্পনা আছে?
নতুন বছর অনেক স্বপ্ন আর প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সে কারণে নিজে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনেক কিছু করার পরিকল্পনা করেছি। আমার ছেলে ইশরাক তার ছুটি শেষ হলে অস্ট্রেলিয়া চলে যাবে। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে, প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা সময়সূচি তৈরি করতে হবে। এ তো গেল পারিবারিক বিষয়। এবার আসি টিভি আয়োজনের কথায়। টিভি আয়োজন নিয়ে নানা রকম পরিকল্পনা আছে। কিন্তু ছোট পর্দা নিয়ে আগের যে হতাশা ছিল তা এখনও কাটেনি। তাই নিয়মিত কাজ করব কি-না সে বিষয়ে এ বছর নতুন করে ভাবতে হবে।
ছোট পর্দা নিয়ে আপনার মতো অনেকেই হতাশ। এ থেকে উত্তরণের কোনো উপায় দেখতে পান?
ছোট পর্দার অনুষ্ঠানগুলোকে মানসম্মত করে তুলতে আগে ভাবতে হবে দর্শকের চাহিদার কথা, তারপর অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করতে হবে। আমাদের মূল সমস্যা হলো, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কখনও স্বার্থ ছাড়া শিল্পীদের কথা ভাবেনি। আমরা নানাভাবে একটি অনুষ্ঠানকে সুন্দর করে তোলার চেষ্টা করি। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন, অনুষ্ঠানের মান এবং বাজেটের কারণে এর দর্শক ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণে এখন কোনো আশার আলো দেখতে পাই না। একই সমস্যা নিয়ে দিনের পর দিন কথা বলতে বলতে আমি বিরক্ত। এখন তাই কাজের পরিবর্তে একা নিজের মতো থাকতেই ভালো লাগে। কারণ আমি হতাশার মধ্যেও ভালো থাকাটা জরুরি মনে করি।
আবৃত্তির ইচ্ছাও কি একেবারে চলে গেছে?
কবিতা আবৃত্তির প্রতি ভালো লাগা আগের মতোই আছে। বলতে পারেন, আবৃত্তি আমার ভালো লাগার অন্যতম অনুষঙ্গ। আগে 'এ সময়'-এর সঙ্গে আমি নিয়মিত কাজ করতাম। প্রয়াত নরেন বিশ্বাস, প্রদীপ ঘোষ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, আলী যাকের, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও আসাদুজ্জামান নূরের মতো গুণী ব্যক্তিদের কাছ থেকে শিখেছি আবৃত্তি কতটা নান্দনিক করে তোলা যায়। আবৃত্তিচর্চার অভ্যাসটা তৈরি হয়েছে সাহচর্য থেকে। সে কারণে হয়তো চাইলেও আবৃত্তি থেকে বিরত থাকতে পরব না। এ বছর নতুন উদ্যমে আবৃত্তি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে।
'লাক্স ব্রাইডাল শো' নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
অনুষ্ঠানটি এরই মধ্যে ২০০তম পর্ব পার করেছে। জনপ্রিয়তার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে বলে আমি মনে করি। কারণ এখন সময় পাল্টেছে। আগে বিয়ে এবং রূপচর্চা নিয়ে মানুষ খুব বেশি সচেতন ছিল না। এখন বিয়ের অনেক আগে থেকেই সাজসজ্জা নিয়ে পরিকল্পনা শুরু হয়। এ অনুষ্ঠানটি দর্শকদের বিয়ে সংক্রান্ত অনেক সমস্যা সহজ করে দিয়েছে। কারণ অনুষ্ঠানের প্রতি পর্বেই আমরা নতুন কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা বলা পছন্দ করি। কোনো দিন হয়তো বিয়ের খাবার, কখনও হলুদ সন্ধ্যা, কখনও বরের উপহার। ফলে দর্শকদের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ হয়।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)