ড. আর এ গণির দাফন সম্পন্ন

১৬ জানুয়ারি ২০১৬

সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. আর এ গণিকে বনানীতে দাফন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে তিন দফা জানাজার পর বিকেলে বনানী কবরস্থানে স্ত্রীর কবরে তাকে সমাহিত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা ধানমণ্ডির ঈদগাহ মাঠে ড. গণির প্রথম জানাজায় স্থানীয় গণ্যমান্যরা অংশ নেন। এরপর দুপুর আড়াইটায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তার দ্বিতীয় জানাজা হয়। এতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম খান, জোট শরিক জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়াসহ নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। জানাজা শেষে সাংবাদিকদের কাছে মির্জা ফখরুল বলেন, ড. আর এ গণি একজন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।
এর পর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রয়াতের তৃতীয় জানাজা হয়। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
গত ৭ জানুয়ারি অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে বুধবার থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
ড. আর এ গণি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বসনিয়াপাড়া গ্রামে
১৯২৭
সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গাইবান্ধা লোকাল বয়েজ স্কুল থেকে অংশ নিয়ে ম্যাট্রিকুলেশনে ১৩তম স্থান অর্জন করেন। এরপর কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯৫২ সালে তিনি আহছানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বর্তমান বুয়েট) থেকে পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকায় গণি বাংলা লিমিটেড নামে একটি প্রকৌশল বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ১৯৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএস (স্নাতকোত্তর) এবং ওয়াশিংটনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিএসসি (ডক্টরেট) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com