নওগাঁর দুবলহাটি রাজবাড়ি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

আজ বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস

১৮ এপ্রিল ২০১৬

এমআর ইসলাম রতন, নওগাঁ

সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে নষ্ট হচ্ছে রাজবাড়ি সমকাল

সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নওগাঁ জেলার প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়িটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ গত কয়েক বছর আগে সেখানে সাইনবোর্ড লাগালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ভূমিকা নেই। আজ বিশ্ব ঐতিহ্য দিবসে জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ৮-৯টি প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এলাকার সচেতন মহল।
দুবলহাটি রাজবাড়ি, বলিহার রাজবাড়ি, মান্দার কুসুম্বা মসজিদ, বদলগাছীর হলুদ বিহার, ধামইরহাটের জগদল বিহার, আলতাদীঘি, শালবন বিহার (জাতীয় উদ্যান) মাহিসন্তোষ, ভিমের পান্টি, রানীনগরের কাশিমপুর রাজবাড়ি, পত্নীতলার দিবরদীঘি, আত্রাইয়ের পতিসর, গান্ধী আশ্রমসহ জেলায় অসংখ্য প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। এসব নির্দশনের মধ্যে দুবলহাটি রাজবাড়ির রাজা হরনাথ রায় চৌধুরী ও তার ছেলে রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরীর সময় উন্নতি সাধিত হয় রাজ এস্টেটের। তখন তাদের বার্ষিক আয় ছিল সাড়ে ৪ লাখ টাকা। ৫ একর এলাকাজুড়ে বিশাল প্রাসাদের বাইরে ছিল দীঘি, মন্দির, স্কুল, দাতব্য চিকিৎসালয়, ১৬ চাকার রথসহ বিভিন্ন স্থাপনা। রাজ প্রাসাদের সামনে রোমান স্টাইলের বড় বড় পিলার রাজাদের রুচির পরিচয় বহন করে। ১৮৬৪ সালে রাজপরিবারের উদ্যোগে একটি স্কুল স্থাপন করা হয়। পরে স্কুলটির নামকরণ হয় রাজা হরনাথ উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলটিতে ইংরেজি পড়ানো হতো। প্রধান শিক্ষক ছিলেন একজন ইংরেজ। রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর প্রজা নির্যাতনের অনেক কাহিনীর পাশাপাশি আছে জনহিতকর ও সামাজিক কাজের অবদান। প্রতি বছর এস্টেটের খরচে ৫ জন করে গরিব ও মেধাবী ছাত্রের লেখাপড়ার ব্যবস্থা ছিল।
রঘুনাথ নামের এক ব্যক্তি লবণ ও গুড়ের ব্যবসা করতেন। তিনি দিঘলী বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খয়রা নদী দিয়ে নৌকায় দুবলহাটিতে ব্যবসার জন্য আসেন (বর্তমানে নদীর অস্তিত্ব আর নেই)। তিনি প্রায় প্রতি রাতে স্বপ্ন দেখতেন তাকে কে যেন বলছে 'তুই যেখানে নৌকা বেঁধেছিস সেখানে জলের নিচে রাজ রাজেশ্বরী দেবীর প্রতিমা আছে। সেখান থেকে তুলে স্থাপন কর।' রঘুনাথ একদিন ভোরবেলা জলে নেমে দেখলেন সত্যিই সেখানে রাজ রাজেশ্বরীর প্রতিমা আছে। তিনি প্রতিমাটি পানি থেকে তুলে একটি মাটির বেদি তৈরি করে প্রতিষ্ঠা করলেন। এরপর তার ব্যবসায় ব্যাপক উন্নতি হতে থাকে। রঘুনাথের বিত্ত-বৈভবের খবর পেঁৗছে যায় মোগল দরবারে। মোগল দরবারের নির্দেশে তাকে ডেকে পাঠানো হয় মুর্শিদাবাদ নবাবের দরবারে। নবাব তাকে রাজস্ব প্রদানের নির্দেশ জারি করেন। তিনি নবাবকে জানান, তিনি যে এলাকায় থাকেন সেখানে শুধু জল আর জল। কোনো ফসল হয় না। তবে বড় বড় কৈ মাছ পাওয়া যায়। বিষয় বুঝতে পেরে নবাব তাকে প্রতি বছর রাজস্ব হিসেবে ২২ কাহন কৈ মাছ প্রদানের নির্দেশ দেন। দুবলহাটি রাজপ্রাসাদে সাড়ে ৩০০ ঘর ছিল। ছিল ৭টি আঙ্গিনা। প্রাসাদের ভেতর কোনোটি তিনতলা আবার কোনোটি ছিল চারতলা ভবন। রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরীর নাতি ও কুমার অমরেন্দ্র নাথ রায় চৌধুরীর ছেলে দুবলহাটি রাজ পরিবারের ৫৪তম পুরুষ রবীন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী জানান, দুবলহাটির জমিদারি ছিল সিলেট, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, রংপুর ও ভারতের কিছু অংশে। একটি গোল্ডেন সিলভার ও একটি আইভরির তৈরি সিংহাসন ছিল। ব্রিটিশরা সিংহাসন দুটি নিয়ে যায়। হরনাথ রায় চৌধুরী প্রথম রাজা খেতাব পেয়েছিলেন। রাজা কৃঙ্করীনাথ রায় চৌধুরীর বাবা রাজা হরনাথ রায় চৌধুরী অবকাশ যাপনের জন্য 'রনবাগ' নামে একটি বাগানবাড়ি তৈরি করেছিলেন। প্রাসাদের ভেতরে ও বাইরে ছিল নাটক এবং যাত্রামঞ্চ।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বগুড়ার আঞ্চলিক অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান তালুকদার বলেন, নওগাঁ জেলার সব দর্শনীয় স্থান সংস্কারের জন্য এখনও কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)