শিশুকে খাওয়াতে ভুল করবেন না

১২ জুন ২০১৬

ডা. আবু সাঈদ শিমুলরেজিস্ট্রার শিশু বিভাগঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

'এতটুকু শিশু, ও কি আর চাবাতে পারবে_ এটা চিন্তা করে ছয় মাসের পর থেকে শিশুকে খুব পাতলা করে খাবার দেওয়া শুরু করেন অনেকে। শিশুরাও এতে মহাখুশি থাকে। এতদিন দুধ গিলে খেত, এখন এই পাতলা খাবারই গিলছে, মন্দ কী! কিন্তু বিপত্তিতা ঘটে কয়েকদিন পর। কারণ পাতলা করে বানানো খাবারে পুষ্টিমান কম থাকে, হজম হয়ে শরীরে তাড়াতাড়ি শোষিতও হয়ে যায়। তাই শিশুর পেট ভরে না, ক্ষুধা লেগেই থাকে। আর ওদিকে মায়েদের দুশ্চিন্তাও লেগেই থাকে। এর ফলে মায়েরা সারাদিন ধরেই শিশুকে খাইয়ে যান। অনেক সময় ক্ষুধা না লাগলেও খাওয়ান। অনেকে আবার শিশু কান্না করলেই
খাইয়ে দেন। অথচ শিশুর সব কান্না মানেই কিন্তু ক্ষুধা লাগা নয়। ছয় মাসের পর থেকে শিশুকে বুকের দুধের পাশাপাশি দুই বেলা শক্ত খাবার দিলেই হলো। আট মাসের পর থেকে যা তিন বেলা করা উচিত। এ সময় খাবার এমন ঘন করে বানানো উচিত, যেন কাত করলেও বাটি থেকে পড়ে না যায়। এক্ষেত্রে ব্লেন্ডার ব্যবহার না করাই ভালো। ছয় মাসের পর থেকে ধীরে ধীরে সব খাবারই কিন্তু শুরু করা যায়। অ্যালার্জি হবে মনে করে কোনো খাবার দেরিতে শুরু করতে হবে, এমন নয়। কোনো খাবারে অ্যালার্জি হলে পরে শুধু সেটাই বর্জন করতে হবে। এক বছরের আগে কিন্তু শিশুকে গরুর দুধ দেওয়া যাবে না। আর দুধ বা পানি খাওয়ানোর ক্ষেত্রে ফিডার ব্যবহার না করে গ্গ্নাস কিংবা বাটি ও চামচ ব্যবহার করুন। ফিডার দিলে বোতলের চুষনিকে মায়ের স্তনের বোঁটা ভেবে শিশুরা বিভ্রান্ত হয়, যা শিশুর মনে প্রভাব ফেলে। তা ছাড়া বোতলে সংক্রমণের সম্ভাবনাও বেশি। শিশুকে খাওয়ানোর সময় টিভি দেখিয়ে বা মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। খাবারটাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিন। নতুন স্বাদের বৈচিত্র্যময় খাবার তৈরি করুন, যাতে শিশু খাবারেই প্রকৃত আনন্দ পায়। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, শিশুকে পরিবারের সবার সঙ্গে বসিয়ে নিজ হাতে খাওয়ার অভ্যাস করানো। যত দ্রুত এটা আপনি পারবেন, তত দ্রুত শিশুর খাবার নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তা কমে যাবে।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]