দীঘিপাড়া কয়লা খনি উন্নয়নে সমীক্ষা

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আজ চুক্তি

৩০ মে ২০১৭

হাসনাইন ইমতিয়াজ

আবিষ্কারের ২২ বছর পর দিনাজপুরের দীঘিপাড়া কয়লা খনি উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষকে (বিসিএসসিএল) দিয়েই খনিটি উন্নয়ন করা হবে। ইতিমধ্যে খনি উন্নয়নের অনুমোদন দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
কোন পদ্ধতিতে কয়লা তোলা হবে তার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি বিদেশি কনসোর্টিয়ামকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে ওই কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বিসিএসসিএলের চুক্তি সই হবে। জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়ার তিন কোম্পানি নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামটি ২৭ মাসের মধ্যে জরিপের কাজ শেষ করবে।
দীঘিপাড়া হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় কয়লাখনি যেখান থেকে কয়লা তোলার উদ্যোগ নেওয়া হলো। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা তোলা হয়েছে। এই খনির পাশে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া আরও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের ভিশন ২০২১ অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। যার ৫৩ শতাংশ উৎপাদিত হবে কয়লা থেকে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে দেশি ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগৃহীত কয়লা ব্যবহার করা হবে। দেশীয় উৎস হতে কয়লা সরবরাহের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই দীঘিপাড়ার কয়লা উত্তোলনের সম্ভাব্যতা জরিপের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ ও হাকিমপুর উপজেলায় দীঘিপাড়া কয়লাখনিটি আবিষ্কার করে ভূ-তাত্তি্বক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)। জিএসবির খনির সম্ভাব্য আয়তন নির্ধারণ করেছে ২৪ বর্গকিলোমিটার। এই খনিটির উন্নয়নে ২০০৫ সালে পেট্রোবাংলাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে
পেট্রোবাংলা খনির ৪ হাজার হেক্টর ভূমি বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী দীঘিপাড়ায় এ এলাকায় বিভিন্ন স্তরে প্রায় ৮৬৫ মিলিয়ন টন কয়লার মজুদ রয়েছে।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জার্মানির মিরবাগ কনসালটিং ইন্টারন্যাশনাল, দেশটিরই অন্য একটি কোম্পানি ফুগরো এবং অস্ট্রেলিয়ার রাঞ্জ পিনকোক মিনারকো এর যৌথ কনসোর্টিয়ামের চুক্তি হবে। জরিপে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৭ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ ১ জুন ২০১৭ হতে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত অর্থাৎ ২৭ মাস।
সমীক্ষায় মোট ২৪ বর্গকিলোমিটারের এলাকা মূল্যায়ন করা হবে। চুক্তির আওতায় আগে সংগ্রহ করা সকল তথ্য পরীক্ষা করা, টপোগ্রাফিক সমীক্ষা, তৃতীয় মাত্রার ভূকম্পন (থ্রি-ডি সাইসমিক) জরিপ, অনুসন্ধান কূপ খনন, খনির নকশা এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মধ্যে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা, আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর প্রভাব মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা নির্ণয় ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন, ভূতাত্তি্বক এবং ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থা নিরূপণ, কয়লা উত্তোলন পদ্ধতি, প্রকৃত মজুদ, বার্ষিক উৎপাদন হার এবং কয়লাখনির মেয়াদকাল নির্ণয়, বিস্তারিত অর্থনৈতিক মূল্যায়ন এবং প্রকল্প বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক কি-না তা নির্ণয় করাও এই জরিপের উদ্দেশ্য।
দীঘিপাড়ায় সর্বোচ্চ ৪৩৪ দশমিক ৪৯ মিটার এবং সর্বনিম্ন ৩২৩ মিটার গভীরতায় ৭২ দশমিক ৩৬ মিটার থেকে ৪৭ দশমিক ২৯ মিটার পুরুত্বের কয়লার স্তর রয়েছে। দীঘিপাড়া কয়লাখনিতে কয়লা ছাড়া প্রায় ২০০ টন সিলিকা বালু ও সাদামাটি রয়েছে। এই সিলিকা বালু ও সাদামাটি গ্গ্নাস ফ্যাক্টরিতে এবং সাদামাটি সিরামিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com