দেশের দীর্ঘদেহী মানুষটি গুরুতর অসুস্থ

১৫ অক্টোবর ২০১৭

খালেদ শহীদ রামু (কক্সবাজার)


উনিশ বছরেই জিন্নাত আলীর উচ্চতা ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি। দেশের দীর্ঘদেহী মানুষ সে। কক্সবাজারের রামু উপজেলার দরিদ্র কৃষক পরিবারের এই ছেলেটি দাঁড়াতে পারে না সোজাভাবে- শারীরিক দুর্বলতা, হাঁটুতে ব্যথা। অতি উচ্চতার কারণে শোয়া, বসা ও হাঁটাচলা করতে হয় ঘরেই। খাবার চাহিদা বেশি তার। দরিদ্র বাবা-মা তাকে পর্যাপ্ত খাদ্য দিতে পারেন না। অপুষ্টিসহ নানান জটিল রোগে আক্রান্ত সে।
জিন্নাত আলীকে চিকিৎসা করানো হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ওখানে তার রোগটিকে জাইগানটিজম বলে শনাক্ত করা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, জাইগানটিজম একটি টিউমার সংক্রান্ত রোগ। শরীরের অভ্যন্তরে টিউমারের প্রভাবে অতিরিক্ত
হরমোন নিঃসরণ হয়। ফলে শরীরের আকৃতি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা করে আক্রান্ত স্থান থেকে টিউমারটি অপসারণ করতে পারলে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এ রোগ থেকে।
মাথায় টিউমার হয়েছে জিন্নাত আলীর। টাকার অভাবে ব্যয়বহুল এ চিকিৎসা করাতে না পেরে ওই সময় হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসা হয় তাকে। বর্তমানে জিন্নাতের শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
জিন্নাত আলীর পায়ের আকারও বড়। 'আমার মাপের জুতা কোথাও পাওয়া যায় না। খালি পায়ে হাঁটতে হয়। ডান পায়ের একটা ক্ষতস্থানে পচন ধরেছে। বাম পা-টা আবার ইঞ্চি দুয়েক খাটো। গ্রামের পথে হাঁটলে মানুষ আমার দিকে চেয়ে থাকে।' গত শনিবার জিন্নাত আলী এভাবেই জানালেন নিজের কথা- 'এখন আপনার সঙ্গে কথা বলছি। আগামীকাল আসলে হয়তো চিনতেও পারব না আপনাকে। কী বলেছিলাম- তাও মনে করতে পারব না। কোনো কথাই মনে থাকে না আমার। আমি সুস্থ থাকতে চাই; ভাত খেয়ে ক্ষুধা দূর করতে চাই।'
জিন্নাত আলীর মা শায়ফুরা বেগম বলেন, 'জন্মের সময় ওজন একটু বেশি ছিল ওর। স্থানীয় একটা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। পড়ালেখা মনে রাখতে না পারায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় তার। ওর বয়স যখন ৭-৮, তখন থেকেই ওর বাড়ন্ত শরীরকে অস্বাভাবিক মনে হতে থাকে। স্থানীয় চিকিৎসকদের দেখালেও কোনো রোগ বা অস্বাভাবিকতা আছে বলে জানাতে পারেননি। তার পেট ভরবে এমন খাবারও দিতে পারছিলাম না আমরা। আমি আমার ছেলেকে সুস্থ দেখতে চাই। যতদিন বেঁচে আছি, তার মা ডাকটা শুনে যেতে চাই।'
বাবা আমির হামজা জানান, 'ছেলেটা স্বাভাবিকের চেয়ে লম্বা। চলাফেরা করতে, গাড়িতে করে কোথাও নিয়ে যেতে সমস্যা হয়। উচ্চতার কারণে গাড়িতে বসানো যায় না। চিকিৎসার জন্য এক বছর আগে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে আবারও ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করার পরামর্শ দেন তারা।'
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, 'দীর্ঘদেহী জিন্নাত আলীর পর্যাপ্ত খাদ্য ও চিকিৎসা দরকার। চিকিৎসার প্রয়োজনে ওকে যেখানে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, নিয়ে যাওয়া হবে সেখানে। প্রাথমিকভাবে ওর পরিবারকে নগদ দুই লাখ টাকা দিয়েছি। এ ছাড়াও প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে ওদের।'

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)