মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ঋণ শোধ করার নয়

'বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত' বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা

২৫ মার্চ ১৮ । ০০:০০

সমকাল প্রতিবেদক

'বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে এগিয়ে এসেছিল ভারত। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, মিত্র বাহিনী গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি মানবিক দিক থেকে এক কোটিরও বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল দেশটি। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে শরাণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, তা বিশ্বে অদ্বিতীয়। ভারতের এ ঋণ কখনও শোধ করার নয়।' গতকাল শনিবার সকালে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব সাংবাদিক হারুন হাবীবের সম্পাদনা ও সংকলনে তিন খণ্ডে 'বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত' বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে বিশিষ্টজন এমন মন্তব্য করেন।

বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বইটির প্রকাশনা সংস্থা সাহিত্যপ্রকাশ। ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। বইটি নিয়ে কথা বলেন এর সম্পাদক ও সংকলক হারুন হাবীব এবং ত্রিপুরা পর্বের গবেষণা সমন্বয়ক নন্দিতা দত্ত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাহিত্যপ্রকাশের পরিচালক মফিদুল হক।

আনিসুজ্জামান বলেন, বইটিতে ভারতের উল্লিখিত চারটি রাজ্যের স্থানীয় জনগণ, রাজনীতিবিদের প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ভূমিকার কথা সুচারুভাবে উঠে এসেছে। বইটি পাঠ করার পর মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্মৃতি রোমন্থনের পাশাপাশি ভারতের জনগণের কাছে ঋণের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যুদ্ধের  সময়ের স্মৃতিচারণ করে এই শিক্ষাবিদ বলেন, যখন বিভিন্ন সভা-সেমিনারে ভারতের কাছে বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ের দাবি তোলা হচ্ছিল, তখন তারা আমাদের পৃথক ভূখণ্ডের কথা বলতেন। সে সময় আমার এক বড় ভাই বলেছিলেন, ত্রিপুরা আমাদের ভূখণ্ড। কারণ, সেখানকার জনগণের চেয়ে শরণার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল। শরণার্থীর চাপে ত্রিপুরায় দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যায়। সেখানকার মানুষের আর্থিক অবস্থাও ভালো ছিল না। তারপরও তারা হাসিমুখে এ দেশের মানুষকে গ্রহণ করেছেন।

সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যারা চর্চা করবেন, তারা এ গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের ভূমিকার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস পাবেন। তিন খণ্ডের এ বইটি বিশাল, দুরূহ ও পরিশ্রমসাধ্য কাজ। যাতে গ্রন্থের সম্পাদকের ঐকান্তিকতা উঠে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের চারটি রাজ্যে এক কোটি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই, যেখানে প্রতিবেশী রাষ্ট্র এত মানুষ আশ্রয় দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের কাছে আমাদের অপরিশোধ্য ঋণ।

হারুন হাবীব বলেন, মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর যৌথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছে বাংলাদেশের মাটি। রচিত হয়েছে অমোচনীয় ইতিহাস। সে সময় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত সরকার, সেইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয়ের রাজ্য সরকার এবং দেশটির সকল স্তরের মানুষের অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

নন্দিতা দত্ত বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই দেশের মধ্যে কোনো দেয়াল ছিল না। সে সময় ত্রিপুরা রাজ্যের সবার বাড়িতেই বাংলাদেশের মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বলতে এটাই ছিল। এ কাজ করতে গিয়ে আমি মুক্তিযুদ্ধকে বুঝেছি। মানসিকভাবে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা বলে মেনেছি।

তিন খণ্ডের এই গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ত্রিপুরা এবং তৃতীয় পর্বে আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের ভূমিকা। এতে মুজিবনগর সরকারের কর্মকাণ্ডসহ ভারতীয় রাজ্যগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের বিস্তৃত কর্মকাণ্ডের একটি গ্রন্থনা, যার তথ্য-উপাত্তের মূল ভিত্তি রাজ্যগুলোর পত্র-পত্রিকা, বিধানসভার কার্যবিবরণী, সংশ্নিষ্টজনের স্মৃতিচারণ, লেখালেখি এবং সরকারি বিভিন্ন নথিপত্র। এ ছাড়াও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে ভারত সরকারের সংরক্ষিত বাংলাদেশ সম্পর্কিত দলিল-দস্তাবেজ থেকে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com