কর্ণফুলীতে সেতু নির্মাণে অধিকতর সমীক্ষার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

০৮ আগস্ট ২০১৮

সমকাল প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়নি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি উঠলেও অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্প নিয়ে আরও সমীক্ষা করার নির্দেশ দেন।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্প প্রস্তাবটি একনেকে অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী সমীক্ষার কাজ শেষ হলে প্রকল্পটি অনুমোদন পাবে।

কর্ণফুলী নদীর ওপর রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণ প্রকল্প ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানন্দা সেতুর সংযোগ সড়ক প্রকল্পও বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে এটি স্বল্প সময়ের মধ্যেই অনুমোদন পাবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

গতকাল মঙ্গলবার একনেক বৈঠকে ছয় হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকেই দেওয়া হবে ছয় হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। সংস্থার অর্থায়ন থেকে দেওয়া হবে সাত কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

ভবিষ্যতে চীন, ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সংযুক্ত করে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশবিশেষ হিসেবে কর্ণফুলী নদীর রেল কাম সড়ক সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেতুটির নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ১৬৪ কোটি

৯৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৮১ কোটি ১৭ লাখ এবং কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) ঋণ থেকে ৭৮৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল। এ রোড ও রেলসেতু নির্মাণের মাধ্যমে জোড়াবিহীন রেল পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা যাবে এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার করিডোরের অপারেশনাল বাধা দূর হবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য বড় আকারের করিডোরও তৈরি করা যাবে।

কক্সবাজারসহ চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কালুরঘাটে একটি পুরনো ও দুর্বল রেলসেতু এখন চালু আছে। মিটারগেজ লাইনে সেতুটি ১৯৩১ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯৬২ সালে সড়ক সেতু যুক্ত করে এটিকে রেল কাম সড়ক সেতুতে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে সেতুটির অবস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এর কার্যক্ষমতাও কমেছে। সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করতে পারে এবং ২০ মিনিট পরপর যানবাহন সেটিকে অতিক্রম করে। ট্রেন চলার সময় সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ফলে সেতুর দু'পাশেই ব্যাপক যানজট লেগে যায়। এ অবস্থায় বিদ্যমান সেতুটির পরিবর্তে নতুন রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণ অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার এসএমইসি, তাইওয়ানের উয়িকন কোম্পানি এবং বাংলাদেশের এসিই কনসালট্যান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম যৌথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করে।

এদিকে নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপ, হাতিয়া, ভাসানচর এবং স্বর্ণদ্বীপে পর্যটক টানতে সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৬৯ কোটি টাকা।

হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপ আকর্ষণীয় স্থান হওয়ায় প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক এ সড়ক পথে চলাচল করেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নোয়াখালীর কেন্দ্রস্থল সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট হয়ে দ্বীপ এলাকা হাতিয়া, ভাসানচর এবং স্বর্ণদ্বীপে দ্রুত ও নিরাপদে যাতায়াত করা যাবে।

একনেকে তাঁত বোর্ডের আওতায় পাঁচটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, একটি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট এবং দুটি মার্কেট প্রমোশন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী একটি অনুশাসন দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ স্থানগুলোতে প্রকল্প নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, সিলেটের মনিপুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে তাঁত শিল্প বিকাশে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প তাগিদ দিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ; ডেসকো এলাকায় স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার সরবরাহ ও স্থাপন প্রকল্প; ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন; সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোটমণি নিবাস নির্মাণ; সিলেট হাইটেক পার্কের অবকাঠামো নির্মাণ; ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং প্রকল্প; বীরগঞ্জ-খানসামা-দাড়োয়ানী, খানসামা-রানীবন্দর এবং চিরিরবন্দর-আমতলী বাজার জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন; কুলাউড়া-পৃথিমপাশা-হাজীপুর-শরীফপুর সড়কের পিসি গার্ডার নির্মাণ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প এবং ঢাকা জেলার দোহার উপজেলাধীন মাঝিরচর থেকে নারিশাবাজার হয়ে মোকসেদপুর পর্যন্ত পদ্মা নদী ড্রেজিং ও বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প।





© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: [email protected] (প্রিন্ট), [email protected] (অনলাইন)