ঢাবির বৃত্তি তহবিলে অর্থ অনুদান দিলেন এ. কে. আজাদ

২৯ জানুয়ারি ২০১৯

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীনের কাছে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ -সমকাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রতিষ্ঠিত 'মির্জা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং বেগম বদরুন্নেসা বৃত্তি তহবিল'-এর মূলধন বাড়াতে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ। 

মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীনের কাছে অনুদানের এ চেক হস্তান্তর করেন তিনি। একই দিন আরও দুটি তহবিলে ছয় লাখ টাকার অনুদানের চেক দেন তিনি।

উপাচার্য দপ্তরে আয়োজিত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান, মির্জা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মেয়ে এবং ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান প্রমুখ।

এ ট্রাস্ট ফান্ডের আয় থেকে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ প্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থীকে 'মির্জা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং বেগম বদরুন্নেসা স্বর্ণপদক' প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ইনস্টিটিউটের কিছু অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এ. কে. আজাদ পাঁচ লাখ টাকার পৃথক একটি চেক বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করেন। 'অধ্যাপক ড. শেখ শামীমুল আলম মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ড'-এর তহবিল বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক লাখ টাকার আরেকটি চেক তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে প্রদান করেন।

উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান অনুদানের জন্য দাতাকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদের আদর্শ অনুসরণ করে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবন উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। 

উপাচার্য বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স প্রায় একশ' বছর। এখান থেকে অনেক শিক্ষার্থী বের হয়েছেন। এ. কে. আজাদের মতো যদি আরও একশ'জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অসচ্ছল শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেন, তাহলে টাকার অভাবে তারা ঝরে পড়বে না।

এ. কে. আজাদ বলেন, অ্যালামনাইয়ের সঙ্গে যদি আমি সম্পৃক্ত না থাকতাম, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমার ধারণা থাকত না। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখনকার প্রেক্ষাপট ও আজকের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এতগুলো ডিপার্টমেন্ট, এত ছাত্র, এত শিক্ষক। সমস্যাও বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একার পক্ষে এত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বের অনেক দেশেই গিয়েছি। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অনেক শক্তিশালী। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক অবদান রাখেন। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা সেভাবে এগিয়ে আসছেন না। আমি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর সমস্যাগুলো অনুধাবন করতে পেরেছি, যার কারণে আমি এগিয়ে এসেছি। এ কাজে অন্য বন্ধুদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এ. কে. আজাদ বলেন, আমরা প্রতিবছর এক হাজার ২০০ ছেলেমেয়েকে বৃত্তি দিই। সামনের বছর আরও পাঁচ থেকে ৬০০ জনকে বৃত্তি দেব। এ টাকা জোগাড় করা যে কত কঠিন। মানুষ সবকিছু দিতে পারে, কিন্তু টাকা দিতে পারে না। তবে একবার কেউ বিষয়টি বুঝলে তিনি অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। এজন্য যে যেখানে পারেন, মানুষকে উদ্বুদ্ধ করুন।

উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে অনুরোধ করে তিনি বলেন, আপনারা যখন সুযোগ পাবেন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করবেন। তাহলে তারা এগিয়ে আসবেন। পিছিয়ে পড়া বিভাগগুলোর অ্যালামনাই শক্তিশালী হলে প্রশাসনের ওপর চাপ কমবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: [email protected] (প্রিন্ট), [email protected] (অনলাইন)