গাইবান্ধা

পরিবার পরিকল্পনা সেবা পায় না চরের নারীরা

টাকা দিয়ে কিনতে হয় বিনামূল্যের সেবা

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ভবতোষ রায় মনা, ফুলছড়ি (গাইবান্ধা)

এক সন্তানের বয়স ৯ মাস না পেরোতেই আবার সন্তান ধারণ গাইবান্ধার চরাঞ্চলের নারীদের জন্য এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ এখানকার নারীরা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে তেমন একটা সচেতন নন। স্বাস্থ্যকর্মীরাও আসেন না নিয়মিত। পরিবার পরিকল্পনাসামগ্রী বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও তা সংগ্রহ করতে হয় অর্থের বিনিময়ে।

গাইবান্ধার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা পরিবেষ্টিত চরাঞ্চলের সংখ্যা ১৬৫টি। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে। অব্যাহত নদীভাঙনে ফুলছড়ি ও সাঘাটার বেশিরভাগ এলাকাই দুর্গম চর। এসব চরে নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও নদীভাঙনে বিপর্যস্ত মানুষের জীবন। অভাব-অনটন আর অশিক্ষার কারণে তারা জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে তারা উদাসীন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও সন্তান ধারণ করেন নারীরা। কিন্তু তা পরিকল্পনামাফিক সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করার এবং পাশাপাশি জন্মনিয়ন্ত্রণের উপকরণ সরবরাহের জন্য কেউ নেই। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীরা সেখানে কালেভদ্রে যান কিংবা একেবারেই যান না বলেই অভিযোগ চরবাসীর। তাই জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগ চরবাসী নারীদের কল্যাণে আসছে না।

ফুলছড়ি ইউনিয়নের বাজে ফুলছড়ি গ্রামের আয়রন বেগম বলেন, 'অভাবের সংসারে বড়ি কিনব না কি সংসার চালামো। সরকার থিকি যদি টিকা, বড়ি ফ্রি দিলে হামার ৪টা বাচ্চা হচে না। আপারা ইনজেকশন দিতে টাকা চায়, ট্যাবলেট চালে কয় নাই।'

চরের আরেক নারী জহুরা খাতুন বলেন, 'একটা করি মায়া বড়ির পাতা ৫০ টাকা। হামরা গরিব মানুষ নয়, কয়দিন কিনি খামো। আপার কাছে বড়ি চালে কয় সরকার বন্ধ করি দিচে।'

গাইবান্ধা জেলা নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক রোকেয়া খাতুন বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের নেতিবাচক মানসিকতার কারণে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে পৌঁছায় না। তারা মাঠ পর্যায়ে না যাওয়ার এ উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখছে না।

গাইবান্ধা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক দেওয়ান মোর্শেদ কামাল জানান, চরাঞ্চলে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পর্যাপ্ত সেবা না পৌঁছানোর অন্যতম কারণ হলো অপ্রতুল জনবল এবং দূর্গম যাতায়াত ব্যবস্থা। তিনি আরও বলেন, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের জন্য কোনো টাকা লাগে না। শুধুমাত্র কনডমের ক্ষেত্রে কিছু টোকেন মানি নেওয়া হয়। যদি কোনো মাঠকর্মী টাকার বিনিময়ে কাজ করেন, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আশার কথা হলো, সরকারের পাশাপাশি শহর এবং চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে সচেতন করার লক্ষ্যে কমিউনিটি রেডিওতে টকশো, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি উঠান বৈঠকসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে ইউকেএইড-ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) এবং কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে আইপাস বাংলাদেশ ও বিএনএনআরসি। এসব অনুষ্ঠানে শ্রোতারা সরাসরি ফোন কলের মাধ্যমে তাদের সমস্যাগুলো প্রশ্নোত্তর মাধ্যমে জেনে নিতে পারছেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)