জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ১১ পোড়া রোগী

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মেরিনা লাভলী, রংপুর

'ওরে বাবারে, মোর গাও কোনা পুড়ি যাও ছোল মাও। বাতাস করো ক্যানতা (আমার শরীর পুড়ে যাচ্ছে মা। বাতাস কর)।' এভাবেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছিল কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটের কৃষক শিবু রায় ও কাজলী বেগমের দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ূয়া একমাত্র মেয়ে পিংকি (৯)। গেল মাসে পানি গরম করতে গিয়ে চুলার পাশে থাকা গ্যাস লাইট বিস্ম্ফোরিত হয়ে শরীরে আগুন লেগে কোমর থেকে পা পর্যন্ত পুড়ে যায় তার। তারপর কবিরাজিসহ নানা চিকিৎসা শেষে অবস্থার যখন আরও অবনতি হয়, তখন তাকে ভর্তি করা হয় বার্ন ইউনিটে।

ক্যামেরার ফ্লাশ চোখে পড়তেই কেঁদে উঠে পিংকি। চিকিৎসকরা জানান, এক মাস আগে পিংকির কোমর থেকে পা পর্যন্ত পুড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে পোড়া সারাতে কবিরাজ ধূপকাঠি ও তেল ব্যবহার করতে দেন। এতে পোড়া অংশ তো সারেইনি বরং সেখানে বড় বড় ঘা হয়ে তার জীবন এখন সংকটাপন্ন।

পিংকির মা কাজলী বেগম এখন ক্ষোভে, দুঃখে নিজের মাথার চুল ছিঁড়ছেন। মেয়ের এই ভোগান্তির জন্য নিজেকেই দায়ী করছেন তিনি।

শুধু পিংকি নন, গত এক মাসে এরকম অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর কবিরাজি ও পল্লী চিকিৎসকের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এসেছেন গাইবান্ধার ডোমারের নূরজাহান বেগম, রংপুর নগরীর শালবন এলাকার আমেনা বেগম, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জের নইমুদ্দিন, নীলফামারীর জলঢাকার আওলাদ, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার আনোয়ারা, নীলফামারী সদরের কচুকাটার মিনু বেগম, দিনাজপুর খানসামার নুরুতন নেছা, কুড়িগ্রামের উলিপুরের সুমি আক্তার, রংপুরের গঙ্গাচড়ার হালিমা ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের শ্রীপুরের সাহানুর। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মারুফুল ইসলাম বলেন, পুড়ে যাওয়ার পর সঠিক চিকিৎসা পেতে যত দেরি হয়, রোগীর ক্ষত তত গভীর হতে থাকে। তাই পোড়া রোগীদের দ্রুততম সময়ে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, পল্লী চিকিৎসক কিংবা কবিরাজের মাধ্যমে অপচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেই রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে, শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। তাই দগ্ধ হওয়া রোগীকে বাসায় চিকিৎসা নয় বরং হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দিলে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসবে। এর জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]