ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুট মিল ৪ সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল শিল্প এলাকার বাংলাদেশ জুট মিলে শ্রমিকদের মজুরি চার সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে মিলের প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা কষ্টে জীবনযাপন করছেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি মিলে উৎপাদিত প্রায় ৪০ কোটি টাকা মূল্যের পাটজাত পণ্য অবিক্রীত অবস্থায় মিলের গুদামে মজুদ রয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় উৎপাদিত পণ্য ফিনিশিং বিভাগের যত্রতত্র পড়ে নষ্ট হচ্ছে। তবে এসব পণ্য বিক্রি না হওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষকে অর্থ সংকটে পড়তে হচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জুট মিল পণ্য বিক্রি করে বিজেএমসির কাছে। তাদের কাছে বকেয়া বাবদ ৮৯ কোটি টাকা পায় বাংলাদেশ জুট মিল। কিন্তু বিজেএমসি সময় মতো টাকা না দেওয়ার কারণে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে পারছে না মিল কর্তৃপক্ষ। এদিকে বিজেএমসি পাট কেনার টাকা না দেওয়ায় মিলের উৎপাদন ৪০ থেকে ১৪ টনে নেমে এসেছে।

মিলের বিদ্যুৎ বিল এক কোটি ৩০ লাখ এবং গ্যাস বিল ৮৪ লাখ টাকা বকেয়া জমে গেছে। এ পর্যন্ত শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ৩৬ কোটি ও গ্র্যাচুইটির ১৮ কোটি টাকা বকেয়া থাকলেও ২০১১-২০১৮ সাল পর্যন্ত ৭ বছর মিলের চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির টাকাও দিতে পারছে না মিল কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া বাংলাদেশ জুট মিলের কাছে পাট ব্যবসায়ীরা ২৪ কোটি টাকা পাওনা থাকায় এখন পাটও সরবরাহ করছেন না তারা।

মিলের সিবিএ সভাপতি ইউসুফ আলী জানান, একসময় বাংলাদেশ জুট মিল দেশের অন্যতম লাভজনক জুট মিল ছিল। কিন্তু বিজেএমসি কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতায় মিলটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। বিজেএমসি টাকা না দেওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষ চার সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরি ও এক মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে পারছে না।

বাংলাদেশ জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক গোলাম রব্বানী বলেন, উৎপাদিত পণ্য বিক্রি না হওয়ায় আমরা আর্থিক সংকটে পড়েছি। তাছাড়া বিজেএমসি সময় মতো পাট কেনার টাকা না দেওয়ায় উৎপাদন চালু রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]