দুর্নীতির চক্র ভাঙতে হবে

সমকালীন প্রসঙ্গ

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

এম হাফিজউদ্দিন খান

দুর্নীতিতে সর্বোচ্চ স্থানটি ছিল বাংলাদেশের। সেই পরিস্থিতি থেকে অনেকটাই উত্তরণ ঘটেছে বটে; কিন্তু দুর্নীতির চক্র যে ভাঙা যাচ্ছে না, টিআইর প্রতিবেদনে ফের তাই দেখা গেল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতি সূচকে বিশ্বে চার ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। ১৮০টি দেশের মধ্যে ২০১৮ সালে অধঃক্রম অনুযায়ী (খারাপ থেকে ভালো) বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম, যা আগের বছর ছিল ১৭তম। এই হিসাবে দেখা যায়, বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে। আবার সূচকের ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী যদি বিশ্নেষণ করা যায় তাহলে দেখা যায় (ভালো থেকে খারাপ), বাংলাদেশের অবস্থান ছয় ধাপ পিছিয়ে ১৪৩ থেকে ১৪৯তম অবস্থানে এসেছে। অন্যদিকে দুর্নীতি পরিস্থিতি উন্নয়ন সংক্রান্ত স্কোরে ১০০ নম্বরের মধ্যে এবার বাংলাদেশ পেয়েছে ২৬। আগের বছর ছিল ২৮। অর্থাৎ টিআইর তিন সূচকেই বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে। তুলনামূলক বিশ্নেষণে বলা যায়, ২০০৫-এর পর থেকে পরিস্থিতির অনেকটাই উত্তরণ ঘটেছে; কিন্তু এরপরও যা আছে তাকে সহনীয় বলার উপায় নেই। বাংলাদেশে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক চিত্রের অনুজ্জ্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে, তা বলার অবকাশ নেই। দুর্নীতির রাহুগ্রাস আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকেই শুধু বাধাগ্রস্ত করছে না, এর বহুমুখী বিরূপ প্রভাব সমাজদেহে পড়েছে এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্রও স্ম্ফীত হচ্ছে।

জার্মানির বার্লিনভিত্তিক সংস্থা টিআই ২৯ জানুয়ারি দুর্নীতির যে সূচক প্রকাশ করেছে, তা ২০১৮ সালের দুর্নীতির পরিস্থিতি বিবেচনায় তৈরি একটি ধারণা প্রতিবেদন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভুটান। বৈশ্বিক তালিকায় সর্বনিম্ন স্কোর পেয়েছে সোমালিয়া। ভুটান ছাড়া দক্ষিণ এশীয় সব দেশেরই দুর্নীতির যে ব্যাপকতার চিত্র ফুটে উঠেছে, তা উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রায় সব রাজনৈতিক সরকারই শূন্য সহিষুষ্ণতা ঘোষণা করেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর গঠিত নতুন সরকার এবং এর পূর্ববর্তী দুই সরকারেরই দুর্নীতির ব্যাপারে অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি ছিল একই রকম। কিন্তু 'শূন্য সহিষুষ্ণতা' ঘোষণার পরও এই যে চিত্র দেখা গেছে, তা বড় প্রশ্ন এবং এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা-বিশ্নেষণের বিষয় বলে মনে করি। সম্প্রতি স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির কিছু চিত্র ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে এসেছে। এটি খণ্ডিত দৃষ্টান্তমাত্র। এ রকম খাত আরও আছে।

সরকারপ্রধানের দুর্নীতির ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি কিংবা সতর্কবার্তা আশাব্যঞ্জক। কিন্তু একই সঙ্গে এও উল্লেখ করা প্রয়োজন, দুর্নীতিবিরোধী জোরালো অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতির পরও বিদ্যমান চিত্র সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে নতুন করে কিছু বার্তা দিয়েছে। যেমন- আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্যের যথাযথ প্রয়োগ করে নির্মোহ অবস্থান নিয়ে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে, বিশেষ করে উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের কার্যকর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসনে দৃষ্টি দিতে হবে। সর্বাগ্রে উৎসে হাত দিয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় হতে হবে এবং কোনো ব্যাপারেই সময়ক্ষেপণ করা যাবে না। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে আপসহীনতার ব্যাপারেও সমভাবেই মনোযোগী হতে হবে। দুর্নীতি হ্রাসে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সরকারের সংশ্নিষ্ট সব সংস্থাকে সত্যিকার অর্থে করতে হবে কার্যকর। 'দুর্নীতি বন্ধ করব', 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাব'- এমন অঙ্গীকারের কার্যকারিতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন আছে, সেসবের নিরসনে অঙ্গীকার পূরণে অটল থাকতে হবে।

সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, কার্যকর জাতীয় সংসদ জনপ্রত্যাশা মোতাবেক এখনও আমরা পাইনি। সংসদীয় কমিটিগুলো কতটা কার্যকর কিংবা নিজ নিজ ক্ষেত্রে এসব কমিটির দায়িত্বশীলরা কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে কতটা কী করতে পেরেছেন, অতীতের পরিস্থিতি এমন প্রশ্নও দাঁড় করায়। সংসদীয় কমিটিগুলো সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোতে সুপারিশ পেশ করার মধ্য দিয়েই যেন সব দায়দায়িত্ব শেষ মনে করছে। এর নিরসন জরুরি। সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়নে যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি সংসদীয় কমিটিগুলোর দায়িত্বশীলদেরও নিজ নিজ মন্ত্রণালয় কিংবা বিভাগের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের দৃষ্টি শানিত ও যথাযথ কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রয়োজন রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরুর প্রথমেই আমরা নতুন করে আবার পুরনো অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি শুনলাম। আমরা প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কথার ফল পেতে চাই।

সংসদীয় কমিটিগুলো যাতে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখে, তা আমাদের প্রত্যাশা। দুর্নীতি হ্রাসে কিংবা নির্মূলে সর্বাগ্রে দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। দুর্নীতি দমন কমিশনের যেসব সংকট-সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাও দূর করতে হবে। যদি তা করা না যায় তাহলে সংস্থাটি সত্যিকার অর্থে কার্যকর থাকবে না বা কার্যকর ভূমিকা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পালন করতে পারবে না। রাষ্ট্রশক্তিকে অবশ্যই শক্ত অবস্থান নিতে হবে। অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন যদি দৃশ্যমান করতে হয়, তাহলে এসব শর্তের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে হবে। আমাদের অভিজ্ঞতায় আছে, কোনো দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে মামলা হলে সেখানে নানা ধরনের জটিলতা ও ফাঁক থাকে এবং এর সুযোগ নেয় দুর্নীতিবাজ কিংবা দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি। এটা অবশ্যই বড় সমস্যা বলে মনে করি এবং এ জন্যই দুর্নীতির চক্র শত অঙ্গীকারের পরও ভাঙা যাচ্ছে না।

দুর্নীতির মামলাগুলোর সুরাহা যত দ্রুত করা যায়, এ ব্যাপারে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। যে যে ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতা রয়েছে, সেসব চিহ্নিত করে তা বন্ধ করতে হবে। আর দুর্নীতি বন্ধ করতে যদি সত্যিকারের সদিচ্ছা থাকে, তাহলে ধরতে হবে ওপর থেকে। কোনো কারণে রাজনৈতিক ছায়ায় যেন কেউ স্থান না পায়, তাও নিশ্চিত করতে হবে। অনেক দুর্নীতিবাজ বড় বড় রাজনৈতিক দলের ভেতরে ঢুকে আছে- এই যে অভিযোগ বারবার নানা মহল থেকে উঠছে, তা তো অমূলক নয়। এখানেই আসে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয়টি। ওপরের দিকে হাত পড়লে নিচের স্তরটা এমনিতেই স্বচ্ছ হবে। সম্পদের হিসাব শুধু সরকারি কর্মচারী কেন, রাষ্ট্রশক্তির বিভিন্ন স্তরে যারা রয়েছেন, তাদের সবারই নেওয়া দরকার। এ ব্যাপারেও এ যাবৎ কথাবার্তা কম হয়নি; কিন্তু কাজের কাজ কতটা কী হয়েছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিই এর সাক্ষ্যবহ।

উল্লেখ্য, এ ব্যাপারে অতীতে একটি আইনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু আজও এর কোনো ইতিবাচক কিছু লক্ষ্য করা যায়নি। তবে এ সত্য সর্বাংশে সত্য বলে মনে করি যে, রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিরা স্বচ্ছ থাকলে স্বচ্ছতার আন্দোলনে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হলে এবং তারা যদি দেশপ্রেমবোধ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে দুর্নীতি রোধের পথ প্রশস্ত হবে। একই সঙ্গে সমাজের সচেতন জনগোষ্ঠীকেও সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হতে হবে ব্যক্তি বা কতিপয়ের চিন্তা করে নয়, সামাজিকভাবে দেশ-জাতির স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে। গণমাধ্যমের বিকাশ বিগত দুই দশকে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম কর্মীদের আরও জোরদার ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের ভূমিকায় জনগণ আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার প্রেরণা পাবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরন্তর কর্ম প্রচেষ্টা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথটাকেও সুগম করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করি।

দুর্নীতির রাশ টানতে হলে ক্ষমতার অপব্যবহার যাতে না হয়, এ জন্য সজাগ-সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশে ক্ষমতার অপব্যবহারও বড় রকমের ব্যাধি। ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গঠনমূলক সমালোচনা আমলে নিয়ে যথাযথ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। গঠনমূলক সমালোচনা সইবার মানসিকতা অর্জন করা চাই। সমালোচনার সুযোগটা অবাধ হোক। ভিন্ন মতপ্রকাশের পথে কোনো বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। সরকার ও প্রশাসনের স্তরে স্তরে জবাবদিহি-দায়বদ্ধতার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই হবে। শুধু মুখে মুখে 'শূন্য সহিষুষ্ণতা' উচ্চারণ করে দুর্নীতির রাশ টেনে ধরা যাবে না। 'শূন্য সহিষুষ্ণতা'র প্রত্যয়ের যদি সত্যিকার কার্যকারিতা দেখাতে হয়, তাহলে এই বিষয়গুলো আমলে রেখে প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে হবে কঠোর অবস্থান নিয়ে। একই সঙ্গে প্রয়োজন সুচিন্তিত ও অংশীজন এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় কার্যক্রম বেগবান করা। সর্বস্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এরও কোনো বিকল্প নেই।

সরকারের ও প্রশাসনের সবারই জবাবদিহির ক্ষেত্র যেন সংকুচিত না হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধাকরদের সহনশীল হতে হবে। তারা যদি এই অবস্থানে থাকতে পারেন, তাহলে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ক্ষমতাকে দেশের উন্নয়নের প্রয়োজনীয় মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডের পথও নিস্কণ্টক করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও গণমাধ্যম গণসচেতনতা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে; কিন্তু দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে সরকারের নির্বাহী শাখাগুলোকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহির আওতায় আনতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। ঘুষ-দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পেতে হলে কথা নয়, কাজের মাধ্যমে সবকিছু প্রমাণ দিতে হবে। দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করার কাজটা মোটেও কঠিন নয়, যদি সরকারের সদিচ্ছা থাকে। তেমনি প্রতিকারের ক্ষেত্রেও সে রকম সদিচ্ছা দরকার।

দুর্নীতি একটি বৈশ্বিক প্রবণতা হলেও উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, সুশাসন ও আইনের শাসনকে অর্থবহ করতে হলে দুর্নীতির রাশ টানার বিকল্প নেই। অতীতে সংঘটিত দুর্নীতির বিচারের পাশাপাশি বর্তমান দুর্নীতি রোধে যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, সেই অপ্রিয় সত্যটি অনেক ক্ষেত্রেই নীতিনির্ধারকরা ভুলে যান। ফলে দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমাদের এই অবস্থান। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় যে হাতিয়ার শানিত করতে পারিনি, বিদ্যমান পরিস্থিতিই এরও সাক্ষ্যবহ। শাসন ব্যবস্থার সর্বস্তরে, বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের দ্বারা সরাসরি পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে তা প্রশাসন ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করবে। দুর্নীতির চক্র থেকে বের হতে হবে এবং সদিচ্ছা থাকলে সেটা যে সম্ভব, কাছের ও দূরের অনেক দেশই তা প্রমাণ করেছে। ঘুষ-দুর্নীতির অবসান ঘটাতে হবে- এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কথাবার্তা হচ্ছে। এই ইস্যু নিয়ে সবসময়ই প্রচারও চলছে। কার আমলে ঘুষ-দুর্নীতি বেশি ছিল বা কম ছিল, এ নিয়ে তুমূল বিতর্কের ঝড় ইতিমধ্যে কম বয়ে যায়নি। আরও লক্ষণীয়, দুর্নীতির অভিযোগকে ক্ষমতা পরিবর্তনের লড়াইয়ে ইস্যু বানানো হয়েছে। কিন্তু কার্যত ফলটা কী? দুর্নীতি তো দূর হচ্ছে না। সরকার যায়-আসে কিন্তু দুর্নীতি দূর হয় না। জনগণের অজেয় শক্তি যদি জেগে ওঠে, তাহলে শক্তিধর সিন্ডিকেটের রাহুগ্রাস উপড়ে ফেলা মোটেও কঠিন নয়। কিন্তু এ জন্য সরকার ও সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল সংস্থাকে হাত গুটিয়ে থাকলে চলবে না। তাদের কাজটা তো তাদেরকেই করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান টিআইর প্রতিবেদনে যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে প্রতিবেদনটি তিনি পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। দুদক চেয়ারম্যান যখন দুর্নীতির ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণ চেয়েছেন, তখনই আমরা জিএফআইর প্রতিবেদনে জানলাম, বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার মন্ত্রিসভা গঠন করে পুনর্বার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন এবং দায়িত্বশীলদের সামনে বারবার সতর্কবার্তা উপস্থাপন করছেন, তখন দুদকের উচিত সরকারের এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। তবে দুদক যাতে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেটাও নিশ্চিত করার দায় সরকারের। সরকারপ্রধানের দুর্নীতির ব্যাপারে 'শূন্য সহিষুষ্ণতা' নীতির বাস্তবায়নে সংশ্নিষ্ট বিভাগগুলো কীভাবে কাজ করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও

সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: ad.samakalonline@outlook.com