ইলিশের নতুন অভয়াশ্রমের কার্যক্রম শুরু মার্চে

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সুমন চৌধুরী, বরিশাল

বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কোলঘেঁষে বয়ে যাওয়া মেঘনার শাখা-প্রশাখা এবং সদর উপজেলার কীর্তনখোলা এখন ইলিশের অভয়াশ্রম। এটিকে দেশের ষষ্ঠ ইলিশ অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর আয়তন ৩১৮ বর্গকিলোমিটার। নির্দিষ্ট এ জলসীমায় আগামী ১ মার্চ থেকে টানা দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকার মধ্য দিয়ে অভয়াশ্রমের কার্যকারিতা শুরু হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রস্তুতি শুরু করেছে মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়।

অধিদপ্তরের বরিশালের পরিচালক ড. মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের গেজেট প্রকাশ হয়েছে। দেশের অন্য পাঁচটি অভয়াশ্রমের সঙ্গে এ বছর নতুন অভয়াশ্রমেও টানা দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্যে হলো জাটকা ইলিশ (৯ ইঞ্চির কম সাইজের) রক্ষা করা। তবে অন্য মাছ ধরার অজুহাতে জেলেরা নদীতে নেমে যাতে জাটকা নিধনের সুযোগ না পায়, সেজন্য অভয়াশ্রম জলসীমার মধ্যে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়।

ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, প্রতি বছর ১ মার্চ থেকে ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে মাছ ধরার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়। ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে এবার প্রথমবারের মতো এ নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। ফলে বিষয়টি মৎস্য অধিদপ্তরের মাঠ কর্মকর্তাদের জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জ। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।

মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস জানান, অভয়াশ্রম এলাকার জেলেপল্লীতে সচেতনতামূলক সভা ও প্রচার চালানো হচ্ছে। বিতরণ করা হচ্ছে লিফলেট। এ ছাড়া পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটানো হচ্ছে। গতকাল সোমবার থেকে সংশ্নিষ্ট নদীতে মাইকিং শুরু হয়েছে। তা ছাড়া এই দুই মাস নদী পাহারা দিতে জেলেদের নিয়ে গঠন করা হবে ফিশগার্ড। নৌবাহিনী ও জেলা প্রশাসন নিয়ে একাধিক টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।

বিমল চন্দ্র দাস জানান, ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের সীমানার মধ্যে তিনটি উপজেলা হলো- মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা ও সদরের আশিংক। এই তিন উপজেলায় তালিকাভুক্ত জেলে আছেন প্রায় ৬০ হাজার। দুই মাসের প্রণোদনা হিসেবে তাদের চাল বরাদ্দের জন্য মৎস্য অধিদপ্তর থেকে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। তবে জেলেদের সংগঠন ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি হিজলা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বলেন, মেঘনা ঘেরা হিজলায় এখন পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা শুরু করেনি মৎস্য অধিদপ্তর।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের সীমানা হচ্ছে- সদর উপজেলার কালাবদর নদীর হবিগনর পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জের বামনীরচর পয়েন্ট পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১৪ বর্গকিলোমিটার, মেহেন্দীগঞ্জের গজারিয়া নদীর হার্ডপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৩০ দশমিক ২৭ বর্গকিলোমিটার, হিজলার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত ২৬৩ বর্গকিলোমিটার। এ সীমানার মধ্যে নদীগুলো হচ্ছে- কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, নয়ভাঙ্গুলী, গজারিয়া ও কীর্তনখোলার আংশিক।

অভয়াশ্রম ঘোষণার সুপারিশে মৎস্য অধিদপ্তর উল্লেখ করেছে, উল্লিখিত নদীগুলো মূলত মেঘনার শাখা-প্রশাখা। এগুলোর গভীরতা কম। জাটকা ইলিশের প্রয়োজনও অপেক্ষাকৃত অগভীর ও কম স্রোতস্বিনী নদী। চর ও ডুবোচর থাকায় এখানে আছে জাটকার প্রয়োজনীয় শেওলা জাতীয় উদ্ভিদ খাবার। ফলে গভীর মেঘনা থেকে জাটকা এসে এ নদীগুলোতে আশ্রয় নেয়।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিছুর রহমান জানান, প্রতি ১০০ মিটার জাল ফেলে ঘণ্টায় ৫০টি ইলিশ ধরা পড়লে এবং পানির গুণগত মান ভালো হলে ওই নদী ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘ বছর পর্যবেক্ষণ করে ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের জলসীমায় এর সব গুণাগুণ পাওয়া গেছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ অভয়াশ্রম ঘোষণার জন্য সংশ্নিষ্ট নদীগুলোতে ২০০৯ সাল থেকে গবেষণা শুরু হয়। ২০১১ সালে এই এলাকার নদীতে ইলিশের বিশাল বিচরণ ক্ষেত্রের সন্ধান মেলে। এলাকাটি অভয়াশ্রম ঘোষণার জন্য ২০১৩ সালে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। মৎস্য অধিদপ্তর, বিএফআরআই ও ওয়ার্ল্ডফিশের বিশেষজ্ঞ দলের পর্যবেক্ষণ শেষে ২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল প্রস্তাবিত অভয়াশ্রমের ম্যাপ তৈরি হয়।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)