মেধাবী ছাত্র আদনান সুলতানের দুটি কিডনিই অকেজো

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সৌভাগ্য বড়ূয়া, চবি

আদনান সুলতান রাজ। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সে। বয়স পনেরো ছুঁই ছুঁই। চট্টগ্রাম নগরীর দিলোয়ারা জাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র সে। পরিবারের সবচেয়ে ছোট হলেও রাজের স্বপ্ন অনেক বড়। পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। মমা কোহিনূর বেগমও যুক্ত আছেন শিক্ষকতার সাথে। একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তিনি। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস। বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকতে পছন্দ করা ছেলেটি বিগত এক মাস ধরে দূরে আছে তার প্রিয় ক্লাস ও বই থেকে। প্রতিনিয়ত এখন লড়াই করতে হচ্ছে বেঁচে থাকার জন্য। কারণ রাজের দুটিই কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে।

রাজকে বাঁচিয়ে তুলতে প্রয়োজন বিশাল অঙ্কের টাকা। সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানিয়েছে তার পরিবার। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা ০১৭১১৭১৫৫৭০ এবং ০১৬৮৩১৭১৯০৯ (বিকাশ) এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নং- ০০৭৩০৪৮১০০২৪০৫ মো. আকরাম সুলতান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। তার বড় ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষার্থী আকরাম সুলতান বলেন, 'পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সদস্য হলো রাজ। সবে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। তবে হঠাৎই যেন আমাদের গোছানো পরিবারটি তছনছ হয়ে যেতে লাগল। ডাক্তাররা পরীক্ষা করে জানালেন, রাজের দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। তাকে বাঁচাতে হলে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করাতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩০ লাখ টাকা।' তিনি বলেন, 'বাবা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করতেন। আর মা বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বর্তমানে রাজকে ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। এর জন্য ইতিমধ্যে প্রায় তিন লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। আমি সবার সহযোগিতা চাইছি।'

রাজকে বাঁচাতে ইতিমধ্যে টাকা সংগ্রহের জন্য কাজ করছেন তার বড় ভাই-বোনের বন্ধুরা। নিজেদের বিভিন্ন কাজ থাকা সত্ত্বেও সবাই এক হয়ে কাজ করছেন টাকা সংগ্রহের জন্য।

রাজের বড় বোন আকলিমা জাহান মিতুর বান্ধবী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি পড়ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে। তিনি বলেন, 'রাজ আমাদের ছোট ভাই। আমরা রাজের চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারব না। রাজকে বাঁচাতে আমাদের অনেক টাকার প্রয়োজন। আমরা চাইব রাজের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসবে।'

চট্টগ্রাম কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে সালমা বলেন, 'রাজকে আমরা হারতে দেব না। তাই আমরা তার চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহে মাঠে নেমেছি। সবার সহযোগিতা কাম্য।' প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, 'রাজকে বাঁচাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। অনুরোধ থাকবে আপনারাও এগিয়ে আসুন। সাহায্য করুন।'

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)