সীতাকুণ্ডে শতবর্ষী পুকুর-দীঘি ভরাট

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

এম সেকান্দর হোসাইন, সীতাকুণ্ড

সীতাকুণ্ডে পুকুর ও দীঘি ভরাট বন্ধ হচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গত এক বছরে বড় কয়েকটি দীঘিসহ ১০টির বেশি পুকুর ভরাট করা হয়েছে। বর্তমানেও চলছে একাধিক পুকুর ভরাট। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নেতৃত্বে একাধিকবার পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও কোনো কাজ হয়নি। অভিযানের পর কিছুদিন পুকুর ভরাট বন্ধ রাখা হলেও পরে আবার শুরু হয় ভরাট কাজ। ফলে শুস্ক মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ পুকুরে মাছের চাষের ঐতিহ্য। আবার অগ্নিকাণ্ডের সময় পানি পাওয়া যায় না।

গত বুধবার স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলম উপজেলার ফকিরহাট কাজীপাড়ায় পুরনো একটি পুকুর ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি ও ভূমিদস্যুরা পুকুর ভরাটের সাথে জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয়রা এমপিকে অভিযোগ করেন। ছলিমপুর ইউনিয়নের পাকা রাস্তার মাথার পশ্চিমে জেলপাড়া সংলগ্ন আরও একটি শত বছরের পুরনো পুকুর ভরাট করা হচ্ছে।

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডে বিভিন্ন ইউনিয়নে গত বছর বড় দুটি দীঘিসহ ১০টির বেশি পুকুর ভরাট করা হয়েছে। রক্ষা পায়নি কয়েকশ' বছর পুরনো বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নুরমার দীঘি। গত বছরের জুনে নুরমার দীঘি ভরাটের সময় এক্সক্যাভেটরসহ মাটি ভরাটের সরঞ্জাম জব্দ করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল ইসলাম। আটক করেন কয়েকজন শ্রমিককেও। ওই সময় মাটি ভরাট বন্ধ করে দিলেও দীঘির চারপাশে উঁচু দেওয়াল করে দেওয়া হয়। ফলে ওই এলাকার মানুষ দীঘির পানি ব্যবহার করতে পারছেন না।

বাড়বকুণ্ড এলাকার বাসিন্দা শাহাজাহান বলেন, নুরমার দীঘি প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো। কয়েক একর আয়তনের করা হচ্ছে। সে জন্য মালিকরা দীঘিটি ভরাট করছে। তবে ইউএনও দীঘি ভরাট কাজ বন্ধ করে দিলেও ভূমিদস্যুরা দীঘির বাইরে দেয়াল দিয়ে ভেতরে ভরাট কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

ফকিরহাট কাজিপাড়ার বাসিন্দা খন্দকার মোহাম্মদ আলী বলেন, স্থানীয় ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দীন আজিজ, শাহাদাত হোসেন মেম্বার, আলাউদ্দীন, মঞ্জু সন্ত্রাসী দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি এনে দক্ষিণ সলিমপুর ফকিরহাট কাজী বাড়ির দেওয়ানজি পুকুর ভরাট করছেন। এ পুকুরটির পানি ব্যবহার করতেন খাদেমপাড়া, কাজিপাড়া ও ফকিরপাড়ার বাসিন্দারা। স্থানীয়রা পুকুর ভরাটে বাধা দিলে ভূমিদস্যুরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ভরাট কাজ অব্যাহত রেখেছে। পুকুরের মালিকরা পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলায় লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

ছলিমপুর লতিফপুর এলাকার বাসিন্দা আরিফ হোসেন সিদ্দিকী জানান, পাকা রাস্তার মাথার পশ্চিমে জেলেপাড়া এলাকায় পুরনো একটি পুকুর ভরাট করছে প্রভাবশালীরা। রাতের আঁধারে পাহাড় থেকে মাটি এনে এই ভরাট কার্যক্রম চলছে। ওই পুকুর ভরাট করে প্লট করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। অভিযোগের বিষয়ে ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আজিজ বলেন, পুকুরটি কয়েক বছর আগে ভরাট করা হয়েছিল। বর্তমানে ভরাট কাজ চলছে না।

স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলম বলেন, 'এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে আমি নিজে গিয়ে পুকুর ভরাটের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। এই পুকুরের পানি পাশের ৩-৪টি গ্রামের মানুষ ব্যবহার করতেন।'

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় বলেন,্তুপুকুরের শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে কালেক্টরের অনুমোদন লাগবে। অনুমোদন ছাড়া কোনো জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা যায় না। ফকিরহাট ও পাকার রাস্তার মাথা এলাকায় পুকুর ভরাটের বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]