চমেক হাসপাতাল স্টাফ কো-অপারেটিভ সোসাইটি

পদ ধরে আছে পুরনো কমিটি

নির্বাচিত হয়েও দায়িত্ব নিতে পারছে না নতুন কমিটি

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শৈবাল আচার্য্য

নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়েছে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ভোটাভুটির মাধ্যমে জয়ী হয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কিন্তু তারপরও নতুন কমিটির দায়িত্ব নিতে পারছেন না নির্বাচিতরা। বিদায়ী কমিটি দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় নতুনরা জয়ী হয়েও নিতে পারছেন না দায়িত্ব। এমন অবস্থায় অনেকটা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্টাফ কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড (মেডিকপস)।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সামসুজ্জোহার উদ্যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্টাফ কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড (মেডিকপস) প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭২ সালের ২৭ জুন সমবায় মন্ত্রণালয়ধীন সমবায় বিভাগ চট্টগ্রাম থেকে সংগঠনটি নিবন্ধন (নং ২৬২০) লাভ করে।

এ প্রসঙ্গে চমেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, 'নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একেবারে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়ে নতুনরা জয়ী হয়েছেন। কিন্তু তারপরও বিদায়ী কমিটি দাবি করছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, যা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। পুরনো কমিটি দায়িত্ব হস্তান্তর না করার কারণে নতুনভাবে নির্বাচিত সদস্যরা দায়িত্ব নিতে পারছেন না। এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার নতুন ও পুরনো কমিটির সদস্যরা দেখা করেছেন আমাদের সঙ্গে। বিষয়টি এখন তদারকি করছে সমবায় অফিস।'

নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও পাঁচলাইশ থানা সমবায় অফিসার সুমিত কুমার দত্ত সমকালকে বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। সব নিয়ম-কানুন মেনেই নির্বাচনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আমাদের ৩৫ জন অফিসার নির্বাচনের যাবতীয় কাজ তদারকির দায়িত্ব ছিলেন। নিয়ম মেনেই ভোটগ্রহণ থেকে গণনা সবকিছু করা হয়েছে। এরপরও পরাজিতরা নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবি করছে। তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।'

এ বিষয়ে নির্বাচনে হেরে যাওয়া কমিটি জেলা সমবায় অফিসে একটি আবেদনও করেছে। আবেদন প্রসঙ্গে জেলা সমবায় অফিসার শেখ কামাল হোসেন সমকালকে বলেন, 'যে কেউ সমবায়ে আবেদন করতে পারে। এটি নিয়ে সমবায়ের একটি নিয়ম আছে। সেই নিয়ম অনুসারেই গত ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরাজিত কমিটি আমাদের কাছে একটি আবেদন করেছে। আবেদনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবি করেছে তারা। দাবি করেছে তার মানে এই নয় যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বা তাদের দাবি আমরা মেনে নিয়েছি। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা আইন অনুসারে যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখব। এর জন্য শুনানিরও প্রয়োজন রয়েছে। তবে এখনও শুনানির কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।'

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ও হাসপাতালে কর্মরত কর্মচারীদের নিয়ে গঠিত মেডিকপসে সদস্য রয়েছেন প্রায় ১৩ শতাধিক। নিয়ম অনুযায়ী, গত ১৩ ডিসেম্বর সংগঠনের সদস্যদের ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে পাঁচলাইশ থানা সমবায় অফিসার সুমিত কুমার দত্ত নির্বাচন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া নির্বাচন কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চমেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রণব কুমার হাওলাদার ও থানা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক বিপ্লব চক্রবর্ত্তী।

নির্বাচনে রতন কুমার নাথ ছাতা প্রতীকে ৩৯৮ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার হারিকেন প্রতীকে ৩৫৪ ভোট ও নৃপেন্দ্র কুমার সিংহ আনারস প্রতীকে পান ২৭৩ ভোট। অন্যদিকে আশু চৌধুরী মাছ প্রতীকে ৪৯৩ ভোট পেয়ে সহসভাপতি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. নুরুল ইসলাম নুরু উড়োজাহাজ প্রতীকে পান ৩৪৮ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবদুল মতিন মানিক দোয়েল পাখি প্রতীকে ৪০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. নাছির উদ্দিন দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে ভোট পান ২৬৬ ভোট।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রণব কুমার হাওলাদার বলেন, 'নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন  কর্মকর্তার অত্যন্ত স্বচ্চভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তারপরও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবি করছেন পরাজিত কমিটি। সাধারণত প্রত্যেক নির্বাচনেই পরাজিতরা এমন দাবিই করে বেশি।'

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মতিন মানিক সমকালকে বলেন, 'সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সংগঠনের সদস্যরা নতুন কমিটি নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু নির্বাচনের এতদিন পরেও নতুন কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করেনি বিদায়ী কমিটি। তাদের এমন আচরণে আমরা চরমভাবে বিব্রত। থানা সমবায় অফিসার নতুন কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পুরনো কমিটিকে চিঠিও দিয়েছে। এরপরও দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পুরনো কমিটি নানা তালবাহানা ও গড়িমসি করার কারণে আমরা চিঠি দিয়ে বিষয়টি সমবায় অফিসকে অবহিত করি। এরপর পুরনো কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে কয়েকবার চিঠি দিয়ে ও মৌখিকভাবে জানানোর পরও এখনও পর্যন্ত তারা আমাদের দায়িত্ব হস্তান্তর করেনি। নির্বাচনে হেরে গিয়ে অযথা নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে তারা। তাদের এমন আচরণে কমিটির দায়িত্ব পেয়েও আমরা সংগঠনের জন্য কাজ করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এর ফলে অনেকটা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী মেডিকপস।'

বিদায়ী সভাপতি নৃপেন্দ্র কুমার সিংহ সমকালকে বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই আমরা সমবায় অফিসে আবেদন করেছি। এখন সমবায় যে সিদ্ধান্ত দেবে তাই আমরা করব। সমবায় যদি নতুন কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে বলে আমরা তা করব।'

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]