হাসান আজিজুল হক আলোকিত ৮০

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

রাবি প্রতিনিধি

৮০তম জন্মোৎসব উপলক্ষে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হককে শনিবার রাজশাহীতে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়- সমকাল

আশিতম জন্মদিনে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন বাংলা ছোটগল্পের বরপুত্র উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। এই শুভ দিনে তাকে শ্রদ্ধা জানান ছাত্র-শিক্ষক, রাজনীতিক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা। অধ্যাপক, মেয়র, সাংসদ- সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাবেশ হয় তাকে ঘিরে। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করে 'হাসান আজিজুল হকের ৮০তম জন্মোৎসব উদযাপন পরিষদ'। সাহিত্যজীবনে তার অসামান্য সৃষ্টিসম্ভার নিয়ে কথা বলেন তার অনুরাগীরা। অনুষ্ঠানে হাসান আজিজুল হক বলেন, 'মানুষের বাক অনেক সময় এমনিতেই রুদ্ধ হয়ে যায়,  আজ আমারও ঠিক তাই হয়েছে। নিজের আশিতম জন্মদিনে এমন অনুষ্ঠানে কিছু বলার মতো ভাষা আমার নেই। সত্যি সত্যি ভালোবাসা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। অনেক সময় ভালো-মন্দ কিছুই বিচার করা যায় না। মানুষই এভাবে ভালোবাসতে পারে। এ ভালোবাসা আমি মানুষের কাছে পেয়েছি।'

তিনি আরও বলেন, 'আশি বছর বয়স বাঙালির জন্য অনেক বেশি। গড় আয়ু যখন খুব কম ছিল, তখন মানুষ পঞ্চাশের বেশি ওপরে যেত না। স্বাস্থ্যকররা বলতেন, পঞ্চাশ বছর হলে তাকে আর সংসারে থাকার দরকার নেই। তাকে বনবাসে যাওয়া উচিত। মানে শাকপাতা খেয়ে তার জীবন কাটানো আর মৃত্যু কামনা করা। একালের মানুষ আমি, আশিতে পৌঁছে গেলাম। আমি বুঝতে পারলাম না যে, জীবনটা কীভাবে অতিক্রান্ত হয়ে গেল। যারা আমাকে এভাবে ভালোবাসা উপহার দিলেন, তাদের প্রতিও থাকবে আমার ভালোবাসা।'

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহী শহরটি বাংলাদেশের রাজধানী থেকে অনেক দূরে। এ শহরেই জীবন কাটাচ্ছেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। তিনি চাইলে রাজশাহীর চেয়েও অনেক নামি শহরে গিয়ে নিজেকে আরও বড় জায়গায় রাখতে পারতেন। তবে তিনি তা করেননি। তিনি এখানে থেকে রাজশাহীকে দেশের ইতিহাসে সম্মানিত করেছেন।

রাজশাহী-৩ আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন বলেন, আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। হাসান আজিজুল হক স্যার এখানকার শিক্ষক ছিলেন, আমি তার ছাত্র। সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, স্যারের ছাত্র হিসেবে বলছি, হাসান আজিজুল হক তার লেখনীর মধ্য দিয়ে মানুষের মনে যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন।

রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, অনেক দিন আগে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ধরনের দুস্কৃতকারী শিক্ষার্থী বলেছিল, হাসান আজিজুল হককে টুকরো টুকরো করে কেটে পদ্মায় ভাসিয়ে দেব। আমাদের দুর্ভাগ্য, তখন আমরা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে পারিনি। হুমকি পেয়ে হাসান আজিজুল হক থেমে থাকেননি। তিনি লিখে গেছেন নির্ভয়ে। আজ তার আশি বছর পূর্ণ হলো। তিনি দীর্ঘ সময় আমাদের মাঝে বেঁচে থাকুন।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া বলেন, হাসান আজিজুল হক মহাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বদরবারে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। বাংলার ছোটগল্পকে তিনি করেছেন সমৃদ্ধ। আমরা তার দীর্ঘজীবন কামনা করছি।

হাসান আজিজুল হকের জন্মোৎসবে আরও অংশ নেন রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল খালেক, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মিজানউদ্দীন, অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, পদার্থবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক, পুণ্ড্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোখলেচুর রহমান, নাট্যব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা, লেখক অধ্যাপক জুলফিকার মতিন, ভাষাসংগ্রামী মোশাররফ হোসেন আকুঞ্জি, বঙ্গবন্ধু পরিষদের মহানগর শাখার সভাপতি নুরুল আলম, ব্যবসায়ী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিকান্দার আলী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জন্মোৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক।

১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামের এক সল্ফ্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বরেণ্য এ কথাসাহিত্যিক। ষাটের দশক থেকে তার সাহিত্য সাধনা শুরু। তার উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিকর্মের মধ্যে রয়েছে 'আগুন পাখি', 'সাবিত্রী উপাখ্যান', 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' প্রভৃতি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: [email protected] (প্রিন্ট), [email protected] (অনলাইন)