উপজেলা নির্বাচন

বিনা ভোটেই জনপ্রতিনিধি তারা

১৫ মার্চ ২০১৯

শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় চট্টগ্রামের ১৩ উপজেলার সাতটিতেই চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা ভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন।

দ্বিতীয় ধাপে চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলায় নির্বাচন হবে। এর মধ্যে ছয়টিতেই চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। তৃতীয় ধাপেও ছয়টি উপজেলার একটিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা ভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন। এ ছাড়া রাউজান ও আনোয়ারায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যানের

তিনটি পদেই বিনা ভোটে জয় পাচ্ছেন

প্রার্থীরা। ফলে এই দুই উপজেলায় আর ভোট উৎসব হচ্ছে না। এতে ভোটাররা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

দ্বিতীয় ধাপে বিনা ভোটে জয়ী হতে যাওয়া প্রার্থীরা হলেন- রাউজানে একেএম এহেছানুল হায়দার চৌধুরী, সীতাকুণ্ডে এসএম আল মামুন, সন্দ্বীপে মো. শাহজাহান, রাঙ্গুনিয়ায় খলিলুর রহমান চৌধুরী, মিরসরাইয়ে জসিম উদ্দিন এবং হাটহাজারীতে এসএম রাশেদুল আলম। তৃতীয় ধাপে আনোয়ারা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তৌহিদুল হক চৌধুরী বিনা ভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন।

চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হোসাইন খান সমকালকে বলেন, নির্বাচনী বিধি মোতাবেক একজন করে প্রার্থী থাকলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাবেন। ফলাফল ঘোষণার দিন এসব প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে ও ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

রাউজান উপজেলায় তৃতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ একেএম এহেছানুল হায়দার চৌধুরী। বিনা ভোটে জয়ী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি সমকালকে বলেন, 'প্রার্থী যত বেশি হবে নির্বাচনও তত বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। ভোটাররাও চায় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক। ব্যক্তিগতভাবে চেয়েছি চেয়ারম্যান পদে কয়েকজন প্রার্থী থাকুক। কিন্তু একমাত্র আমি ছাড়া আর কোনো প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দেননি। আমার জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতার কথা বিবেচনা করে হয়তো আর কেউ ফরম জমা দেননি।'

সীতাকুণ্ডে দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হতে যাওয়া এসএম আল মামুন বলেন, 'প্রথমবার দায়িত্ব পেয়েই মানুষের জন্য কাজ করেছি। তাদের জন্য কাজ করতেই আমি জনপ্রতিনিধি হতে চেয়েছি। অতীতের মতো আগামীতেও এলাকার মানুষের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব।'

মিরসরাইয়ে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, 'প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছি আমি। এটি আমার অনেক বড় পাওয়া। এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য যা করা প্রয়োজন আমি তা করব।' আনোয়ারা উপজেলায় বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে যাওয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, 'বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিগত পাঁচ বছরের মতো আগামীতেও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব।'

রাউজানের প্রবীণ ভোটার আবছার উদ্দিন বলেন, 'নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হলে ভোটাররা অনেক কিছু সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নিতে পারেন। ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে যে আত্মতৃপ্তি আছে তা বিনা ভোটে নির্বাচনের মধ্যে নেই। এত বড় পদ উপজেলা চেয়ারম্যান অথচ প্রার্থী কেবল একজন। বিষয়টি খুবই হতাশার।' সন্দ্বীপের তরুণ ভোটার ইমতিয়াজ বলেন, বিনা ভোটে জয়ের এমন রীতি ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত।'





© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]