২১ শিক্ষক পদের ৯টিই শূন্য

১৬ মার্চ ২০১৯

আনোয়ারুল হায়দার, নোয়াখালী

নোয়াখালীর চাটখিল পাঁচগাঁও মাহবুব সরকারি ডিগ্রি কলেজে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। এখানে ২১ জন শিক্ষকের অনুমোদিত পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১২ জন। ৯ জন শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এতে করে প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কলেজের সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী। এই সমস্যার সমাধানে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় কলেজের একাডেমিক সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাটখিল উপজেলার বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া এলাকায় চাটখিল পাঁচগাঁও কলেজ নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৮৭ সালে এরশাদ সরকার আমলের শিক্ষামন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান কলেজটিকে জাতীয়করণ করলে এর নামকরণ করা হয় চাটখিল পাঁচগাঁও মাহবুব সরকারি ডিগ্রি কলেজ। কলেজ জাতীয়করণের ৩২ বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি। এই কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ এবং স্নাতক শ্রেণিতে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। ভালোমানের কোনো শিক্ষক এই কলেজে যোগদান করে সংশ্নিষ্ট দপ্তরে তদবিরের মাধ্যমে শহরের কলেজে চলে যান। বিশেষ করে নারী শিক্ষকরা এই কলেজে যোগদান করেই তদবির করে অন্যত্র চলে যান। বর্তমানে এই কলেজে কোনো নারী শিক্ষক নেই। এতে করে কলেজে নারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ ছাড়া কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তীব্র আবাসন সংকট থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমছে।

কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘ ১ বছর ধরে কলেজে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের কোনো শিক্ষক নেই। গত ১ বছরের বেশি সময় ধরে তারা যথাযথ ইতিহাস শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য তাদের নির্ধারিত সিলেবাসও শেষ করতে পারেনি। স্নাতক শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও একই অভিযোগ। শিক্ষার্থী অভিভাবক আব্দুল হান্নান, ফাতেমা ইয়াসমিন, আব্দুল কাইউম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি কলেজ ভেবে সন্তানদের এই কলেজে ভর্তি করিয়েছিলাম। কিন্তু এখানে নেই বিষয়ভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষক। এতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম কলেজে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রতি মাসেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়। কিন্তু কোনো লাভ হয় না।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]