সুদানে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ জনতার

১৩ এপ্রিল ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

সুদানের রাজধানী খার্তুমে জনতার কয়েক মাসের লাগাতার বিক্ষোভের পর প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে গত বৃহস্পতিবার উৎখাত ও গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী। তিন দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা এ স্বৈরশাসকের পতনেও শান্তি ফেরেনি দেশটিতে। বশিরকে উৎখাতের পর শাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিযোগ উঠেছে দেশটির সামরিক পরিষদের বিরুদ্ধে। নতুন সামরিক পরিষদের দেওয়া সান্ধ্য আইন অমান্য করে রাজধানী খার্তুমের সড়কগুলোতে তাই এখনও বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারী অবস্থান করছে। সেনাবাহিনীকে বশির শাসনামলেরই অংশ আখ্যা দিয়ে আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে সেনাবাহিনী বলেছে, তারা কোনো রকম অসহিষ্ণুতা সহ্য করবে না। খবর বিবিসির।

সুদানের প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশনের সারা আবদেল আজিজ বলেন, এটা আগের শাসনেরই ধারাবাহিকতা। তাই আমাদের প্রয়োজন লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান দেশটিতে আরও সংঘাত উস্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিবিসির আফ্রিকা অঞ্চলের সম্পাদক উইল রোজ জানিয়েছেন আরও ভয়ের খবর, নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অংশ এবং আধা সামরিক বাহিনী একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিতে পারে বলে আশঙ্কা তার। গত সপ্তাহে দেশটির সেনাবাহিনীকে গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উর্দি পরা সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। এমতাবস্থায় জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়ন সুদানের সব পক্ষকেই শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে ৭৫ বছর বয়সী বশিরকে গ্রেফতারের খবরে সড়কজুড়ে উল্লাস শুরু হলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সামরিক পরিষদের ক্ষমতা গ্রহণের ঘোষণায় ওই আনন্দ মিইয়ে যায়। রাষ্ট্র পরিচালিত গণমাধ্যমে এক ঘোষণায় সুদানজুড়ে স্থানীয় সময় রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত সান্ধ্য আইন জারির কথাও জানানো হয়। ওই ঘোষণায় বলা হয়, নাগরিকদের তাদের নিরাপত্তার জন্যই এ আইন মেনে চলতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং নাগরিকদের জানমাল রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী ও সামরিক পরিষদ তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তবে কারফিউ জারির পরও খার্তুমের রাস্তা ছাড়েনি আন্দোলনকারীরা। সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরের বাইরে অবস্থানের কর্মসূচি দিয়েছে তারা। বশিরের পতন চেয়ে 'পতন, এটাই সব' স্লোগান পাল্টে 'পতন, ফের' স্লোগান দিতে দেখা গেছে তাদের।

১৯৮৯ সাল থেকে ৩০ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির ক্ষমতায় ছিলেন বশির। তিন দশকের ক্ষমতার মেয়াদে প্রেসিডেন্ট বশির এবারই প্রথম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন। সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বশিরের নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে। সেনা অভ্যুত্থানের পর তাকে গ্রেফতার করে কোথায় রাখা হয়েছে কিংবা তার ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানা যায়নি।

এদিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, কোনো বিশৃঙ্খলা কিংবা হঠকারিতা সহ্য করবে না তারা। তারা ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক ওমর আল বশিরকে অপরাধ আদালতের হাতেও তুলে দেবে না বলে জানিয়েছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)