রহমতের রমজান

সুপথে চলার প্রশিক্ষণ

১৬ মে ২০১৯

বিলাল হোসাইন মালেকী

রমজান আগমনের উদ্দেশ্যই হলো কিছু নিয়মকানুন মানার মাধ্যমে দুনিয়ার সব অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখা। রোজাদারের কু রিপু ও আমিত্বকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে শেষ করে দেওয়া আল্লাহর বিধানাবলির চর্চা এবং প্রশিক্ষণের নিমিত্তে তিনি মানবতার সংবিধান কোরআন নাজিল করেছেন পবিত্র রমজান মাসে। রমজান প্রত্যেক রোজাদারকে সব কাজে তাকওয়া শিক্ষা দেয়। পবিত্র কোরআন হলো জীবন পরিচালনার একটি নিখুঁত গাইড, আর তা বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হলো রমজান মাস। প্রিয় রোজাদারগণ রোজার বিধান পালনের প্রশিক্ষণস্বরূপ ভোররাতে নির্দিষ্ট সময়ে

সেহরি খান। সারাদিন আল্লাহর বিধিবিধান পালনার্থে যাবতীয় পানাহার, কামাচার ত্যাগ করে ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যস্ত থাকেন। পড়ন্ত বিকেল পেরিয়ে, সূর্যাস্তের পরপরই ইফতার গ্রহণের আনন্দে মেতে ওঠেন। এ যেন স্বর্গীয় প্রশিক্ষণ। সীমাহীন উদগ্রীবতার সঙ্গে ছুটে চলেন মসজিদ পানে তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য। আল্লাহর পক্ষ থেকে অবারিত রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বারতা নিয়ে এলো মাহে রমজান। রমজানে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার প্রশিক্ষণ নিতে হবে, আর এ প্রশিক্ষণে বান্দা অর্জন করবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বিশাল প্রতিদান। যে প্রতিদান মহান রব নিজ হাতে প্রদান করবেন।

হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহপাক বলেন, রোজা বান্দাহ আমার জন্যই রাখে এবং আমি নিজ হাতেই এর পুরস্কার দেব (বুখারি ও মুসলিম)। রমজান হচ্ছে কঠোর পরিশ্রম ও শ্রমসাধনার মাস। পরবর্তী এগারো মাসে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানার জন্য এ মাসে বার্ষিক প্রশিক্ষণের ৩০ দিনব্যাপী দীর্ঘ কোর্স সমাপ্ত করতে হয়। এটা আমল ব্যবহার ও প্রয়োগের প্রশিক্ষণ কোর্স। ইফতার ও তারাবির নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে ফিরে ফজর পর্যন্ত একটানা শুয়ে থাকা হচ্ছে ক্লান্ত শরীরের অনিবার্য দাবি। কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে একটি সুন্দর প্রশিক্ষণ লালন করার স্বার্থে ভোররাতে উঠে যেতে হয় সেহরি খাওয়ার জন্য। সুন্দর ও পরিপাটি ইবাদতের উত্তম কর্মসূচি এর চেয়ে আর কী হতে পারে? দীর্ঘ টানা এক মাসের এ প্রশিক্ষণ ও শ্রমসাধনার পেছনে আল্লাহর যে ইচ্ছা কাজ করে, তা হলো মুসলিম মিল্লাত কখনও অলস, শ্রমবিমুখ ও নিষ্ফ্ক্রিয় হতে পারে না। পরকালে নাজাতের চাকাকে সচল রাখতে হলে ইবাদতে সুপ্রশিক্ষিত হতে হবে। সিয়াম সাধনার দীর্ঘ প্রশিক্ষণের ফলে রোজাদারগণ মহান প্রতিপালকের ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হন। কোরআনের পরিভাষায় যে জান্নাতের বিশালতা ও প্রশস্ততা আসমান-জমিনের সমান। যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পালনীয় রোজার মাধ্যমে রোজাদার অর্জন করবে জান্নাতের স্পেশাল একটি দরজা, যার নাম রাইয়্যান।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, বেহেশতে রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে, রোজাদাররা ছাড়া সে দরজা দিয়ে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না, রোজাদারগণ প্রবেশ করা শেষ হলেই তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না (বুখারি, মুসলিম ও ইবনে খুজাইমা)। সেখানে রোজাদারগণকে এমন স্বাদের পানি পান করানো হবে, যার ফলে আর কোনোদিন তৃষ্ণার্ত হবে না। মাসব্যাপী নামাজ, রোজা, ইমান, আমল, তাকওয়া, কোরআন তিলাওয়াত ইত্যাদির যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়ে যারা পরবর্তী মাসগুলো প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে জীবন পরিচালনা করবে, তাদের জন্যই রোজা। মানবজীবনকে সুন্দর, পরিপাটি ও শান্তিময় করতে হলে আল্লাহপাকের আবশ্যকীয় বিধানগুলো পালন করা চাই। তবেই মানুষ লাভ করবে শান্তিময় নিয়মতান্ত্রিক কল্যাণময় বরকতপূর্ণ জীবন। আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মাহকে মাহে রমজানের নিয়মকানুন ও ইবাদতের প্রশিক্ষণকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে বছরজুড়ে সুশৃঙ্খল এবং সুখীময় জীবনযাপনের তাওফিক দান করুন। আমিন।





© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]