পানি রেখেই খাল খনন

২০ মে ২০১৯

এম আর ইসলাম রতন, নওগাঁ

নওগাঁর রানীনগরে খরা মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এবং কৃষিজমিতে সেচের সুবিধার্থে চলছে খাল খননের কার্যক্রম। এ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। খাল থেকে পানি সেচে খননের কথা থাকলেও পানির মধ্যেই এক্সক্যাভেটর মেশিন দিয়ে খনন করা হচ্ছে। অন্যদিকে খননকৃত মাটি খালের পাড়ে রাখার ফলে মানুষের চলাচলের অসুবিধা হচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুজাইল রেগুলেটর থেকে সরগরামপুর ও সাদোকালীর মাঠ (বিল) হয়ে রেলওয়ে চকের ব্রিজ চকবলরাম পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার খাল খননের কাজ চলছে। কাজের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

এ উপজেলার কাশিমপুর ও গোনা ইউনিয়নের কুজাইল, দুর্গাপুর, সরগরামপুর, ভবানীপুর, এনায়েতপুর, গোনা ও খট্টেশ্বর গ্রামের ৫০ হাজার কৃষকের মাত্র একটি ফসল ইরি-বোরো। খরা মৌসুমে খালে পানি না থাকায় জমিতে ঠিকমতো পানি দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই পানি সংরক্ষণে রাখতে খাল খনন করা হচ্ছে। পানি শুকিয়ে খাল খনন করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। আবার খননকৃত মাটি খালের পাড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে খালের পাড়ে রাখা মাটি আবারও খালে ভরাট হয়ে যাবে।

দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক আজিজার রহমান বলেন, খাল যে পরিমাণ গভীর করার কথা তা করা হচ্ছে না। খালে পানি রেখেই মাটি কাটা হচ্ছে। পানির মধ্য থেকে কী পরিমাণ মাটি কাটা হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না। ধারণার ওপর এক্সক্যাভেটর দিয়ে পানির মধ্য থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। খরা মৌসুমে পানি থাকার কথা থাকলেও তা হবে না। এতে সরকারের যে উদ্দেশ্য তা ভেস্তে যাবে।

সরগরামপুর গ্রামের কৃষক খাজা মণ্ডল, মুনছুরসহ কয়েকজন বলেন, পাড় কেটে খালে নামিয়ে দিয়ে এরপর আবার মাটি পাড়ে রেখে দেওয়া হচ্ছে। নদীর মধ্য থেকে মাটি কাটা হচ্ছে না। খাল খননে অনেক টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আর যেভাবে খাল খনন করা হচ্ছে, তাতে হয়তো অর্ধেক টাকাই খরচ হবে না। তারা আরও বলেন, এখন ধান কাটার ভরা মৌসুম। মাঠ থেকে ধান কাটার পর খালের পাড় দিয়ে কৃষকদের আসা-যাওয়া করতে হয়। খালের পাড়ে যেভাবে মাটি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে ধানবোঝাই করে হেঁটে যাওয়া তো দূরের কথা, শুধু মানুষ হাঁটাই কষ্টকর। দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক নাসির সরদার বলেন, কাজের মান একেবারেই খারাপ হচ্ছে। কোথাও মাটি কাটা হচ্ছে, আবার হচ্ছে না। এক্সক্যাভেটর চালক সুমন বলেন, তলা ৩২ ফুট গভীরতা ৩-৪ ফুট করা হচ্ছে। পানির মধ্য থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে গভীর হলেও সমান হচ্ছে না। কারণ পানিতে ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, ডেল্টা প্ল্যানের আওতায় এ খালটি খনন করা হচ্ছে। সাড়ে ৬ কিলোমিটারের মধ্যে ইতিমধ্যে সাড়ে ৩ কিলোমিটার খননকাজ হয়েছে। তবে সিডিউলে যা আছে তা থেকে কিছু বেশিই খনন করা হচ্ছে। খালে কিছু দূর পরপর বাঁধ দিয়ে পানি শুকিয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে সেখানে পানি জমে যাচ্ছে। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)