কয়রায় পাউবোর বাঁধ

ঠিকাদারি বেচাকেনা বন্ধ হোক

২৩ মে ২০১৯

বুধবার সমকালে 'ঠিকাদারি বেচাকেনা' প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আমাদের সরকারি কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। এ বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করা হলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয়ে আসতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেটা করতে আগ্রহ-উৎসাহ দেখাবে কি? তারা একটু তৎপর হলেই জানতে পারবেন, কীভাবে জাতীয় বাজেটের অর্থের অপচয় ঘটছে। প্রতিবেদনটি রচিত হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি কাজ নিয়ে। নিয়মমাফিক বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের কাজটি পেয়েছেন এক ঠিকাদার। কাজ পেতে তিনি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা কতটা পেয়েছেন এবং এ জন্য কী খরচাপাতি গেছে, সেটা জানা সহজ নয়। তবে এমনটি যে হয়, সেটা ওপেন সিক্রেট। বাঁধ সংস্কার বা মেরামতের জন্য ১৯ লাখ টাকা ব্যয় হবে। যিনি প্রথমে বরাদ্দ পেয়েছেন, তিনি ১৫ লাখ টাকায় বরাদ্দপত্রটি বিক্রি করেছেন।

তার লাভ হয়েছে চার লাখ টাকা। এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তি ছয় লাখ টাকা লাভ রেখে বরাদ্দপত্রটি পাওয়ার পর কাজটি তুলে দিয়েছেন আরেক ব্যক্তির হাতে- ৯ লাখ টাকায়। যিনি এভাবে কাজ পেয়েছেন, তিনি নিশ্চয়ই সর্বোচ্চ মাত্রায় লাভ করতে সচেষ্ট হবেন। তাহলে কয়রা উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৫০ মিটার বাঁধের সংস্কার কাজ কেমন হবে? নাকি আদৌ কাজ হবে না, কেবল পানি উন্নয়ন বোর্ডের মূল বরাদ্দ ১৯ লাখ টাকাই এভাবে কয়েক ব্যক্তির মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়ে যাবে? ঠিকাদারি বেচাকেনার ব্যবস্থা বহুকাল ধরেই প্রচলিত। এর কুফল বহুবিধ। এটা সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানে না, সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাহলে কেন এমন অব্যবস্থাপনা চলতে দেওয়া হচ্ছে? সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল- এটা প্রবাদে পরিণত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাটি কাটার অনেক প্রকল্প সম্পর্কে সাধারণ ধারণা হচ্ছে- পানিতে টাকা ঢালার জন্যই এমন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প প্রণীত হয়, অনুমোদনের পর টেন্ডার আহ্বান শেষে স্বচ্ছতার জন্য ই-টেন্ডারেরও ব্যবস্থা আছে। কিন্তু এভাবে টেন্ডার বেচাকেনার মাধ্যমে হাতবদল হতে থাকলে সকলই যে গরল ভেল! এমন কুপ্রথা কেন চালু রাখা হচ্ছে?

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)