এই সময়ে ডায়রিয়া

১৬ জুন ২০১৯

ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার, সহযোগী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

চারদিকে ভ্যাপসা গরম। বৃষ্টিতেও গরম কমছে না। আর এ রকম গরম আবহাওয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত নানা বয়সের রোগীর ভিড়। অসহ্য গরমে গলা যখন শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়, তখন চোখের সামনে যে ধরনের পানীয় থাকুক না কেন, তা দিয়ে গলা ভেজাতেই মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। পানীয় দূষিত না বিশুদ্ধ সেদিকে কারও নজর থাকে না। 

এভাবে খাদ্য ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। আর এ ডায়রিয়াকে বলে সামার ডায়রিয়া।

ডায়রিয়ার জীবাণু

সাধারণত পরিপাকতন্ত্রে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণেই ডায়রিয়া হয়ে থাকে।

আমাদের দেশে এ সময় ব্যাপক হারে ডায়রিয়ার প্রধান কারণ রোটা ভাইরাস, কখনও কখনও নোরো ভাইরাস। তবে পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে বা প্রবল জ্বর দেখা দিলে তা ভাইরাস নয়, বরং ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণে হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।

যে কারণে হয়

অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, যেখানে-সেখানে ও পানির উৎসের কাছে মলত্যাগ, সঠিকভাবে হাত না ধোয়া, অপরিচ্ছন্ন উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এ সময় দোকান, রেস্তোরাঁ বা বাসায় ফ্রিজের পচন ধরা খাবার গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।

ডায়রিয়া হলে যা করণীয়

-ডায়রিয়া হলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায় এবং রক্তে লবণের তারতম্য দেখা দেয়। 

-এ দুটোকে রোধ করাই ডায়রিয়ার মূল চিকিৎসা।

প্রাথমিক পরিচর্যা

-প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর বয়স অনুযায়ী পরিমাণমতো খাবার স্যালাইন পান করাতে হবে।

-জন্ম থেকে দুই বছর :১০-২০ চা চামচ (৫০-১০০ মি.লি.)

-দুই বছর থেকে ১০ বছর :২০-৪০ চা চামচ (১০০-২০০ মি.লি.)

 -১০ বছর বা তার বেশি বয়সে যতটুকু খেতে পারে।

-খাবার স্যালাইন ছাড়াও ডাবের পানি, ঘরে তৈরি তরল খাবার যেমন ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, তাজা ফলের রস ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে। তবে ফলের রসের কারণে ফ্রুক্টোজের প্রভাবে রোগীর পেট ফেঁপে যাতে বিপত্তির সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। স্বাভাবিক খাবারও পাশাপাশি চালিয়ে যেতে হবে। বুকের দুধ খাওয়া শিশুরা খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি বুকের দুধও খাবে।

ডায়রিয়ার জটিলতা 

পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত, জ্বর, প্রচণ্ড পেটব্যথা বা কামড়ানো, পিচ্ছিল মল, মলত্যাগে ব্যথা ইত্যাদি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, চোখ গর্তে ঢুকে যাওয়া বা জিভ ও ত্বক শুস্ক হয়ে যাওয়া, রোগীর মাঝে নিস্তেজ ভাব পানিশূন্যতার লক্ষণ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে বা বমির কারণে পর্যাপ্ত স্যালাইন না খেতে পারলে রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

ডায়রিয়া প্রতিরোধে করণীয়-

১. রাস্তাঘাটের শরবত, পানি, খাবার ইত্যাদি পান পরিহার করতে হবে।

২.যতই লোভনীয় হোক পচা-বাসি খাবার খাওয়া যাবে না।

৩. হাত ভালোভাবে পরিস্কার করে খাবার খেতে হবে।

৪. ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে শুধু মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।

৫. যদি সম্ভব হয় তবে শিশুকে অসুস্থ লোক বা রোগী থেকে দূরে রাখতে হবে।

৬. খাবার তৈরির আগে, শিশুকে খাওয়ানোর আগে এবং মলত্যাগের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।

৭. সব সময় সেদ্ধ করে পানি ব্যবহার করতে হবে।

৮. বোতলের দুধ পান করানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

 সহযোগী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল 

৯. ছোট বাচ্চাদের হাত দিয়ে যতটা সম্ভব কম খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে।

১০. পাকা পায়খানা বা স্যানেটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)