লোকবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে রেলওয়ে

১৫ জুন ১৯ । ০০:০০

সৌমিত্র শীল চন্দন, রাজবাড়ী

রাজবাড়ী রেলওয়েতে লোকবলের চরম সংকট বিরাজ করছে। গোয়ালন্দ ঘাট-পোড়াদহ রেলপথের রাজবাড়ী অংশে নয়টি স্টেশনের মধ্যে চারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। পুনরায় চালু হওয়া রাজবাড়ী-ফরিদপুর ও কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেলপথের ১৯টি স্টেশনের মধ্যে স্টেশন মাস্টার আছেন মাত্র ছয়টিতে। অন্যান্য সেকশনেও লোকবলের চরম সংকট রয়েছে। এতে সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রাজবাড়ী রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঐতিহ্যগতভাবেই রাজবাড়ী রেলের শহর হিসেবে পরিচিত। রাজবাড়ী থেকে বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন একটি আন্তঃনগরসহ ১৩টি ট্রেন চলাচল করে। রাজবাড়ীতে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে রেল অনেক বেশি জনপ্রিয়।

রাজবাড়ী থেকে চারটি রুটে চলাচল করে ট্রেন। রাজবাড়ীর পূর্বদিকে রাজবাড়ী-গোয়ালন্দ ঘাট রুটে রয়েছে পাঁচুরিয়া জংশন, গোয়ালন্দ এবং গোয়ালন্দ ঘাট স্টেশন। এর মধ্যে গোয়ালন্দ রেলস্টেশনটিতে স্টেশন মাস্টার না থাকায় তা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বহু আগেই। রাজবাড়ীর পশ্চিমে রাজবাড়ী-পোড়াদহ রুটে রাজবাড়ী অংশের মধ্যে রয়েছে সূর্যনগর, বেলগাছি, কালুখালী জংশন, পাংশা ও মাছপাড়া স্টেশন। এর মধ্যে সূর্যনগর, বেলগাছি ও মাছপাড়া স্টেশন বন্ধ রয়েছে লোকবলের অভাবে। এসব স্টেশনে ট্রেন শুধু থামে। টিকিট বিক্রিসহ অন্যান্য কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ।

এদিকে ২০১৩ সালে পুনরায় চালু হওয়া কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া প্রায় ৮০ কিলোমিটার রেলপথে রয়েছে ১৩টি স্টেশন। এগুলো হলো- রামদিয়া, বহরপুর, আড়কান্দি, নলিয়া গ্রাম, মধুখালী, ঘোড়াখালী, সাতৈর, বোয়ালমারী, সহস্রাইল, বেসপুর, কাশিয়ানী ও ভাটিয়াপাড়া। এর মধ্যে মধুখালী, বোয়ালমারী ও ভাটিয়াপাড়া স্টেশনে মাস্টার রয়েছেন। বাকিগুলোতে এখনও স্টেশন মাস্টার পদায়ন করা হয়নি। ২০১৪ সালে পুনঃচালু হওয়া রাজবাড়ী-ফরিদপুর রেলপথের স্টেশনগুলোতেও বিরাজ করছে একই সমস্যা। এ রুটে পাঁচুরিয়া জংশন, খানখানাপুর, বসন্তপুর, আমিরাবাদ, অম্বিকাপুর ও ফরিদপুর নামে ছয়টি রেলস্টেশন রয়েছে। যার মধ্যে শুধু পাঁচুরিয়া ও ফরিদপুর স্টেশনে মাস্টার রয়েছেন। রাজবাড়ী-ফরিদপুর ও রাজবাড়ী-ভাটিয়াপাড়া রেলপথের ২২টি স্টেশনে ৬৪ জন মাস্টারের স্থলে রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। বেলগাছি এলাকার ব্যবসায়ী সুরেশ রায় জানান, আগে এই স্টেশন থেকে মালপত্র বুক করা যেত। এখন স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

রাজবাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে একজন স্টেশন মাস্টার এবং তিনজন সহকারী স্টেশন মাস্টারের পদ রয়েছে। অথচ রয়েছেন মাত্র দু'জন সহকারী স্টেশন মাস্টার। স্টেশন মাস্টার কামরুজ্জামানের মৃত্যুর পর গত ছয় মাস ধরে এ পদে দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী স্টেশন মাস্টার তন্ময় কুমার দত্ত। অন্যজন শিমুল কুমার বিশ্বাস সহকারী স্টেশন মাস্টারের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া পোর্টার চারজনের স্থলে দু'জন রয়েছেন। এর মধ্যে একজন নারী। গার্ড ১২ জনের স্থলে রয়েছেন নয়জন।

টিকিট সেকশনে একজন জেআরআই, একজন সিনিয়র টিটি, ছয়জন জুনিয়র টিটি, দু'জন টিসি থাকার কথা। সেখানে সব মিলিয়ে টিটি আছেন মাত্র তিনজন। এর মধ্যে একজন জেআরআই পদের চার্জে। যে কারণে ট্রেনগুলোতে টিকিট চেকিং করতে গিয়ে চরমভাবে হিমশিম খেতে হয়। বুকিং সেকশনে চারজনের স্থলে রয়েছেন মাত্র দু'জন।

রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার তন্ময় কুমার দত্ত জানান, লোকবল সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত তাদের হিমশিম খেতে হয়। বন্ধ হয়ে থাকা স্টেশনগুলোতে ক্রসিং বা সিগন্যাল দেওয়া যাচ্ছে না। এতে একটি ট্রেনের সঙ্গে অন্য ট্রেনের ক্রসিং দিতে সময় ব্যয় হচ্ছে বেশি।

এ ব্যাপারে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (পাকশী) আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতি মাসে লোকবল সংকটের কথা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট দিচ্ছি। লোকবল নিয়োগ দেবেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এখানে আমার তো কিছু করার নেই।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com