নোয়াখালীতে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা বেতন ভাতা পান না এক বছর

০৩ জুন ১৯ । ০০:০০

আনোয়ারুল হায়দার, নোয়াখালী

নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা এক বছর ধরে বেতন ও উৎসব ভাতা পাচ্ছেন না। চাকরি করেও দীর্ঘদিন বেতন ও উৎসব ভাতা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। দীর্ঘদিন বেতন- ভাতা না পাওয়া এসব কর্মচারীর এবার ঈদ আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। দ্রুত বেতন-ভাতা পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন কর্মচারীরা। কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে আউটসোর্সিং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কারসাজি ও গড়িমসির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সমকালের অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন নোয়াখালী জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের জন্য গত দুই বছর দরপত্র আহ্বান করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই দরপত্র অনুযায়ী আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের জন্য কাজটি পায় ভোলা জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকির ট্রেডার্স। জাকির ট্রেডার্সের ৫৭৮৮/৫ স্মারকমূলে নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলার ২৪ কর্মচারী ২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল চাকরিতে যোগদান করেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে বেতন- ভাতা পাওয়ার কথা; কিন্তু গত এক বছর চাকরি করেও তারা কোনো বেতন-ভাতা পাননি। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসে ১৪ হাজার ২০০ টাকা মাসিক বেতনে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৪ জন কর্মচারী ২০১৭ সালের এপ্রিলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগদান করেন। তাদের জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়ন করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক বছর চাকরি করে এক টাকা বেতন-ভাতাও হাতে পাননি। এক-দু'দিন পর ঈদ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের জুনে সর্বশেষ বেতন পেয়েছি। এর পর টানা এক বছর বেতন-ভাতা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা।

ভুক্তভোগীরা বলেন, টাকার অভাবে পবিত্র রমজান মাসেও পরিবারে কোনো বাজার সদাই করে দিতে পারেননি। কর্মচারীদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেনকে বেতন-ভাতার জন্য তার ব্যবহূত মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেন না। কালেভদ্রে কারও ফোন রিসিভ করলেও কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার ও ধমকের সঙ্গে কথা বলেন।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঈদের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কয়েক মাসের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে। নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মমিনুর রহমান কর্মচারীদের বেতন-ভাতা না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এজন্য ঠিকাদারের গাফিলতিই দায়ী। ঠিকাদার ইচ্ছা করলে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে পারেন। নিয়ম অনুয়ায়ী আউটসোর্সিং ঠিকাদারদের প্রতি মাসে নিয়োগকৃত কর্মচারীদের প্রতি মাসে বেতন-ভাতা দিয়ে দেওয়ার কথা। বছর শেষে ঠিকাদার মন্ত্রণালয় থেকে তার বিল উত্তোলন করে নিয়ে যাবেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com