বিভিন্ন বাহিনীর ৩৮ কর্মকর্তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হচ্ছে

০৪ জুন ২০১৯

আবু সালেহ রনি

সেনাসহ বিভিন্ন বাহিনীর গেজেটভুক্ত ৩৮ কর্মকর্তা কোন প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে। তাই তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিগগিরই তাদের সনদ বাতিলের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৬২তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে গত ১৯ মে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের পর সেনাসহ বিভিন্ন বাহিনীতে যোগ দিয়ে যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছেন, তাদের অধিকাংশের কোনো তথ্য-উপাত্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। অথচ তারা গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বছরের পর বছর ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে গত মার্চে অনুষ্ঠিত জামুকার ৬১তম সভায় গেজেটভুক্ত বিভিন্ন বাহিনীর সব মুক্তিযোদ্ধার সনদ যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই আলোকে মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি বিভিন্ন বাহিনীর ৩৮ কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সমকালকে বলেন, 'বিভিন্ন বাহিনীর যেসব কর্মকর্তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তারা কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছিলেন, সেসবের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। বাতিল হওয়া এসব ব্যক্তি ফের গেজেটভুক্ত হতে চাইলে তাদের পুনরায় উপজেলা ও জামুকায় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, মুক্তিযুদ্ধের পর বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল এবং প্রয়োজনে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি ইতিমধ্যে সেনাপ্রধানকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। শিগগিরই এসব বাহিনীর গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চেয়ে সংশ্নিষ্ট বাহিনীতে  চিঠি দেওয়া হবে।

সনদ বাতিল হয়েছে যাদের :জামুকা সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ৩৮ জনের মধ্যে ৩৫ জন সেনাবাহিনীর সদস্য। দু'জন আনসার এবং একজন নৌবাহিনীর সদস্য। তাদের অধিকাংশই বর্তমানে অবসরে গেছেন।

এই সেনা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আবুল কাশেম, সোনাপুর উপজেলার প্রয়াত মীর হোসেন, দৌলতপুরের মো. সারওয়ার বাহার ভূঁইয়া, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মো. হারুন অর রশিদ ভূঁইয়া, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ছোটকমলদহ গ্রামের মো. নুরুল মোস্তফা, ভগতীপুরের আবু তাহির, সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের কাজী জাফর আহমেদ, ঢাকার সাভার উপজেলার নগরকোন্ডা গ্রামের মোহাম্মদ আলী, ডেন্ডাবর নতুনপাড়া গ্রামের এসএম গোলাম মোস্তফা, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী গ্রামের মো. সোলেমান আলী, বাশিল গ্রামের মো. আফাজ উদ্দিন, ভাওলিভাজু গ্রামের প্রয়াত মো. লোকমান হাকিম, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আইসড়াবাড়ী গ্রামের মো. লাল মিয়া, টেরকী গ্রামের মো. আবদুল করিম মিয়া, ভবানীপুর গ্রামের মো. হাফিজ উদ্দিন, প্রয়াত খোরশেদ আলম তালুকদার, বাসাইল উপজেলার নথখেলা গ্রামের ওয়াজেদ আলী, ঢাকার মোহাম্মদপুরের বিজলি মহল্লার প্রয়াত আব্দুল জব্বার খান, মানিকগঞ্জ সদরের হরিণা গ্রামের কামরুল আবেদীন, মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার উমরনগর গ্রামের মো. বাদশা মিয়া, শ্রীপুর উপজেলার চৌগাছি গ্রামের মো. আবু জাফর, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের মো. হাসান আলী, সদর উপজেলার খরিদ্বার গ্রামের প্রয়াত খান আফজাল হোসেন, চিতলমারী উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের মোজাম্মেল তালুকদার, বরগুনার গৌরনদী থানার উত্তর চান্দশী গ্রামের এ কে এম আব্দুল মান্নান, আমতলী উপজেলার পূর্বচিলা গ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়া, খুলনার দাকোপ উপজেলার হরিণটানা গ্রামের জেমস বিজন, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার আওড়াবুনিয়া গ্রামের মো. আবুল বাশার, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ভাগজোত গ্রামের মো. আব্দুল বারিক, সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার বাংলা গ্রামের মো. রবিউল ইসলাম, শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাক, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পূর্ব ভাণ্ডারিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান, খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারাসাত গ্রামের প্রয়াত আবুল হোসেন মোল্লা ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার শাওড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা শিকদার।

দুই আনসার বাহিনীর সদস্য হলেন ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার করাইয়া গ্রামের মুহাম্মদ মমিন ও শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা গ্রামের মো. হামিদুর রহমান বকাউল। এ ছাড়াও আছেন নৌবাহিনীর সদস্য চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার কাপাইকাপ গ্রামের মো. আবু জাহিদ হোসেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, দেশে এখন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দুই লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৮। ভাতা পাচ্ছেন এক লাখ ৮৭ হাজার ৯৮২ জন। এর মধ্যে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এ পর্যন্ত নতুন করে সরকারি গেজেটভুক্ত হয়েছেন ৩৫ হাজার ৪৮৯ জন। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারের আমলে এ পর্যন্ত ছয়বার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। কিন্ত এর পরেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে।







© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]