অভিবাসী ঠেকাতে চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো

শুল্ক্ক স্থগিতের ঘোষণা

০৯ জুন ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে শরণার্থীর স্রোত ঠেকাতে 'নজিরবিহীন পদক্ষেপ' নিতে রাজি হয়েছে মেক্সিকো। এ বিষয়ে দেশটি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক্ক আরোপের হাত থেকে রেহাই পেল মেক্সিকো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং মেক্সিকান পণ্যে শুল্ক্ক আরোপের ঘোষণা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছেন। খবর বিবিসির।

গত মাসে সীমান্তে অবৈধ শরণার্থীর প্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা না নিলে মেক্সিকো থেকে আমদানি করা পণ্যে প্রতি মাসে ৫ শতাংশ হারে শুল্ক্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আগামীকাল সোমবার থেকে ট্রাম্পের শুল্ক্ক বাড়ানোর ঘোষণা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এ হারে বাড়তে থাকলে অক্টোবরের মধ্যেই মেক্সিকোর পণ্যগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে হলে ২৫ শতাংশ শুল্ক্ক দিতে হতো।

দু'দেশের চুক্তির বিষয়টি মেক্সিকোর পররাষ্ট্র সচিব মার্সেলো এবরার্ড টুইট বার্তায় নিশ্চিত করেছেন। তিন দিনের আলোচনার পর শরণার্থী বিষয়ে মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার সমঝোতায় পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, মধ্য আমেরিকা থেকে যেসব শরণার্থী সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে মেক্সিকোকে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

শুক্রবার চুক্তির বিষয়ে দু'দেশের যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জানানো হয়, সীমান্তে শরণার্থী স্রোত ও মানব পাচার থামাতে মেক্সিকো 'নজিরবিহীন পদক্ষেপ' নিতে রাজি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার থেকেই দেশজুড়ে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করবে মেক্সিকো। গুয়েতেমালা সীমান্তে অতিরিক্ত ছয় হাজার রক্ষী মোতায়েন করবে মেক্সিকো। এ ছাড়া মানব পাচার  রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে  মেক্সিকো। অন্যদিকে, চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী মর্যাদাপ্রত্যাশীদের  মেক্সিকোয় পাঠানোর কর্মসূচির মেয়াদ বাড়ানো হবে। এ বিষয়ে আইনি লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের যুক্তরাষ্ট্রেই রাখা হবে।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, সমস্যা সমাধানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলতে থাকবে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। মেক্সিকোর নেওয়া পদক্ষেপ থেকে যদি প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া যায়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

শেষ মুহূর্তে এসে ট্রাম্প কেন মেক্সিকোর পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক্ক প্রত্যাহারে রাজি হলেন তা পরিস্কার জানা যায়নি। বিশ্নেষকরা বলছেন, নিজের দলের চাপে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে মেক্সিকোর নমনীয় আচরণ দেখানো এর কারণ হতে পারে। আবার শুল্ক্ক আরোপের পরবর্তী ঘটনাক্রম বিবেচনায় নিয়ে ট্রাম্প এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। দু'দেশের অর্থনীতি পরস্পরের ওপর কতটা নির্ভরশীল তা দেশ দুটির প্রতিনিধিদের আলোচনার সময় বারবার উঠে আসে। অনেকে এও বলেন, মেক্সিকান পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক্ক আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারী এবং ভোক্তা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]