গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, ২ জনের মৃত্যু

১৮ জুলাই ২০১৯

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে আশ্রয়স্থলের সন্ধানে ছুটছেন বন্যাদুর্গতরা -সমকাল

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে গাইবান্ধা পৌর এলাকাসহ চারটি উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষ এবং বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এদিকে গত দু’দিনে সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের গোদারহাট এলাকার সোহাগ (৫) নামে এক শিশু বন্যার পানিতে ডুবে ও সাঘাটার কুন্ডুপাড়ায় উজ্জল কুমার (১৫) নামে এক কিশোর সাপের দংশনে মারা গেছে। 

অন্যদিকে ত্রিমোহিনী থেকে বোনারপাড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবারও লালমনিরহাট-সান্তাহার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের কদমের তল থেকে ফকিরপাড়া পর্যন্ত এবং গাইবান্ধা-ফুলছড়ি-সাঘাটা সড়ক, গাইবান্ধা-বালাসীঘাট সড়ক, গাইবান্ধা-বোনারপাড়া সড়ক এখনও হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত। ফলে সড়কগুলোতে সকল প্রকার যানবাহন ও পথচারিদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে গাইবান্ধা শহরের পিকে বিশ্বাস রোড, সান্দার পট্টি রোড, স্টেশন রোডের কাচারী বাজার থেকে পুরাতন জেলখানা পর্যন্ত, ভিএইড রোড, ডেভিড কোম্পানিপাড়ার ২টি সড়ক, মুন্সিপাড়া শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক, মধ্যপাড়া, ব্রিজ রোড কালিবাড়িপাড়া সড়ক, কুটিপাড়া সড়ক, পূর্বপাড়া সড়ক, একোয়ার স্টেটপাড়া সড়ক, বানিয়ারজান সড়ক, পুলিশ লাইন সংলগ্ন সড়কে হাঁটু পানি। গাইবান্ধা শহরের অধিকাংশ এলাকার বসতবাড়িতে পানি ওঠায় মানুষদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। পানিবন্দি মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। শহর সংলগ্ন বেশকিছু বাধ ভেঙে যাওযায় বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। তবে জেলা রোভারের উদ্যোগে এবং সিভিল সার্জন অফিসের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে বন্যা আশ্রিতদের মধ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইনসহ বিভিন্ন ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত বন্যা দুর্গত এলাকার ৪ উপজেলার প্রতিটির জন্য ৪৫ মেট্রিক টন চাল নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন জানান, এখন পর্যন্ত কোন সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তার জন্য আবেদন করা হয়েছে। পৌর এলাকার বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে মেয়রের পক্ষ থেকে দু’বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে খিচুরি ও শুকনো খাবার। এছাড়াও জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, স্যালাইনও সরবরাহ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। 

সিভিল সার্জন ডা. এবিএম হানিফ জানান, ১১০টি মেডিকেল টিম জেলার বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পাশাপাশি পৌরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিটি কেন্দ্রে জরুরি ওষুধপত্রসহ বন্যা দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষণিক কর্মরত রয়েছে। 

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: [email protected] (প্রিন্ট), [email protected] (অনলাইন)