ছোট কারখানার কমপ্লায়েন্সে ছাড় চান উদ্যোক্তারা

আইএলওর সঙ্গে আলোচনা চলছে

০৯ জুলাই ২০১৯

আবু হেনা মুহিব

রানা প্লাজা ধসের পর সংস্কার জোরদারের ফলে বিভিন্ন শর্ত প্রতিপালনে ছোট আকারের পোশাক কারখানা হিমশিম খাচ্ছে। অনেক কারখানা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু কারখানায় ক্রেতারা রফতানি আদেশ দিচ্ছেন না। ছোট এবং মাঝারি মানের এসব কারখানার মৌলিক নিরাপত্তা ঠিক রেখে কিছুটা ছাড় দিয়ে কমপ্লায়েন্স নীতিমালায় শিথিলতা চায় পোশাক খাতের রফতানিকারকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে ঢাকায় আইএলওর কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই সংগঠনের পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

উদ্যোক্তাদের যুক্তি হলো, কমপ্লায়েন্স শর্ত কিছুটা শিথিল হলে ছোট ও মাঝারি মানের অনেক পোশাক কারখানা উৎপাদনে টিকে থাকতে পারে। এতে সবদিক থেকেই লাভবান হবে দেশ। একদিকে শ্রমিকের বেকারত্ব ঠেকানো যাবে, অন্যদিকে উৎপাদন ধরে রাখতে পারলে রফতানি বাড়ানো যাবে। বর্তমান বিনিয়োগকে ঝুঁকি থেকে রক্ষার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগও উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। উদ্যোক্তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য বিরোধ চলছে। এ ছাড়া ভারত, মেক্সিকো ও তুরস্কের শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।

সংস্কার করতে ব্যয়, কমপ্লায়েন্স শর্ত পূরণ এবং বর্ধিত মজুরি পরিশোধের চাপে প্রায়ই কারখানা বন্ধ হচ্ছে। বিজিএমইএর নিবন্ধিত কারখানার সংখ্যা ছিল প্রায় সাত হাজার। এর মধ্যে এখন মাত্র এক হাজার ৯০০ কারখানা শুল্ক্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানিতে প্রাপ্যতা সনদ (ইউডি) নেয়। এসব কারখানাই সরাসরি ক্রেতাদের রফতানি আদেশ পাচ্ছে। বাকি কিছু কারখানা ঠিকা বা সাব-কন্ট্রাক্টের কাজের মাধ্যমে টিকে আছে। বিকেএমইএর ৭০০ সদস্য কারখানা উৎপাদনে নেই। এই দুই সংগঠনের সদস্য নয়, এমন অনেক কারখানায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার (এনপিএ) অধীনে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) তত্ত্বাবধানে সংস্কার চলছে। এমন এক হাজার ৫৪৯ কারখানার মধ্যে ১০৭টির সংস্কার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ৮০৯টির সংস্কার কার্যক্রম চলছে। বাকি কারখানা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে ছোট এবং মাঝারি কারখানাকে উৎপাদনে ধরে রাখতেই শিথিল কমপ্লায়েন্স নিয়ে আইএলওর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বিজিএমইএ। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। আগামী বুধবারের পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক সমকালকে বলেন, ছোট কারখানাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালা চান তারা। আইএলওর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও এটি প্রাথমিক পর্যায়েই রয়ে গেছে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ।

বিকেএমইএর সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান সমকালকে বলেন, কমপ্লায়েন্স বিষয়ে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটিআইনেনের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার বৈঠকে আলোচনা করবে বিকেএমইএ। অবশ্য কমপ্লায়েন্স প্রশ্নে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডসহ (বিএনবিসি) অন্যান্য নিরাপত্তা শর্তের বিষয়ে আইএলওর করার এমন কিছু নেই। তবে নিরাপত্তার বাইরেও অন্যান্য কিছু শর্তের বিষয়ে আইএলও ছাড় দিলে ব্র্যান্ড এবং ক্রেতারা তা মেনে নিতে পারেন।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]