লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল রফতানি আয়

০৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

তিন বছর পর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করল দেশের রফতানি খাত। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রফতানি বেশি হয়েছে ৪ শতাংশ। আর আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ বেশি হয়েছে রফতানি। শুরুটা ভালো হলেও গত অর্থবছরের শেষ মাসগুলোতে রফতানি প্রবৃদ্ধি কমে আসার প্রবণতা ছিল। এ কারণে অন্যান্য বারের মতো এবারও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রফতানি ছিল আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। শেষ মাস জুনে রফতানি কমেছে আগের বছরের জুনের তুলনায় ৫ শতাংশ কম।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাপ্ত অর্থবছরে রফতানি হয়েছে চার হাজার ৩৪ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ প্রথমবারের মতো ৪০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল রফতানি খাত। লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৬৬৮ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রা থেকে আয় বেশি হয়েছে ৩৮৭ কোটি ডলার।

রফতানি পরিসংখ্যান বিশ্নেষণে দেখা যায়, এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি বেশি হয়েছিল। এর আগের টানা চার অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। এদিকে দীর্ঘদিন পর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আয় বেশি হলেও একক মাস হিসেবে গত জুনে রফতানি কমেছে অনেক। এ মাসে লক্ষ্যমাত্রা থেকে রফতানি আয় ২৩ শতাংশ কমেছে। ৩৬০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৮৮ কোটি ডলার কমে রফতানি হয়েছে ২৮৭ কোটি ডলারের পণ্য। গত বছরের জুনে রফতানির পরিমাণ ছিল ২৯৪ কোটি ডলার।

বরাবরের মতো প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকের রফতানি এর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি হওয়ায় গোটা রফতানিচিত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর রফতানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি হয়েছে ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। মোট তিন হাজার ৬১ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে গত অর্থবছরে। মোট রফতানি আয়ে তৈরি পোশাকের অংশ আরও বেড়ে ৮৫ দশমিক ৫৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরে (২০১৭-১৮) পোশাকের অংশ ছিল ৮৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে পোশাকের রফতানি বেশি হয়েছে ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর আগে তিন বছর সার্বিকভাবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তৈরি পোশাকের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আয় বেশি হয়েছে ১ দশমিক ৫১ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রফতানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি সমকালকে বলেন, মোট রফতানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় পোশাকের একক প্রবৃদ্ধি বেশি- এটা শুনতে খুব ভালো শোনায়। তবে সমস্যা হচ্ছে, ভালো প্রবৃদ্ধি মানেই ভালো মুনাফা নয়। পরিমাণে অনেক রফতানি সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত লোকসান গুনছেন উদ্যোক্তারা। কারণ, বড় অঙ্কের সংস্কার ব্যয় এবং বর্ধিত মজুরিতে বাড়তি উৎপাদন ব্যয় সত্ত্বেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারেই দর কমছে। এ কারণে ক্রেতাদেরও খুব বেশি কিছু করার নেই। আবার রফতানি আদেশ কম থাকায় অনেক কারখানা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম দামে রফতানি আদেশ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এ সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। সংকট বিবেচনার বাজেটে বিশেষ নীতি সহায়তা চেয়েছিলেন তারা। নগদ সহায়তা মাত্র ১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ বৃদ্ধি খুব বেশি কাজে দেবে না বলে মনে করেন তিনি।

রফতানি খাতের অন্যান্য বড় পণ্যের মধ্যে আয় কমেছে পাট ও পাটপণ্যের ২০ শতাংশ। চিংড়ি এবং অন্যান্য হিমায়িত মাছের কমেছে যথাক্রমে গত অর্থবছরে ২ ও ১২ শতাংশ। চামড়ার রফতানি কমেছে ১০ শতাংশ। চামড়া পণ্যের দাম কমেছে ২৭ শতাংশ। এ খাতের মধ্যে একমাত্র চামড়ার জুতোর রফতানি বেড়েছে ৭ শতাংশের কিছু বেশি। বছরজুড়েই এসব পণ্যের রফতানি কমার প্রবণতার মধ্যে ছিল। অন্যদিকে বড় পণ্যের মধ্যে কৃষিপণ্যের রফতানি বেড়েছে ১৪৭ শতাংশ। ওষুধের ২৬ শতাংশ এবং টেরিটাওয়েলের ২০ শতাংশ রফতানিও বেড়েছে। আয় খুব বেশি নয়, এমন অন্যান্য পণ্যের রফতানি বেড়েছে।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]