টানা দরপতনে সূচক আড়াই মাসে সর্বনিম্ন

১২ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

দেশের শেয়াবাজারের সূচক কমছে গত দুই সপ্তাহ ধরে। লেনদেন পরিস্থিতিও নাজুক। এমন পরিস্থিতিতে নতুন গুজবে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর উত্থান-পতন দেখা গেছে লেনদেনে। দিনের লেনদেনের শুরু থেকেই গুজব ছিল প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর পর্ষদ ১৬ কোম্পানিকে তালিকাচ্যুতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এতে আস্থাহীনতায় থাকা বিনিয়োগকারীরা আরও সংশয়ে পড়েন। তবে ডিএসই সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, এসব তথ্য সঠিক নয়।

এরকম গুজবের মধ্যে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে। এ নিয়ে দরপতন গড়াল টানা পঞ্চম দিনে। এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৫২২২ পয়েন্টে নেমেছে। সূচকটির এ অবস্থান গত ২ মে বা আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। গতকালের পতনসহ চলতি সপ্তাহে সূচক কমেছে ১৫৮ পয়েন্ট বা প্রায় ৩ শতাংশ।

দিনের লেনদেন শেষে প্রাপ্ত তথ্য

অনুযায়ী, ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০৮টির দর বেড়েছে। অন্যদিকে ২১৯টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত থেকেছে

২৬টির। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ৬৪ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৭৫টির দর কমেছে, অপরিবর্তিত ২৪টির দর।

অধিকাংশ শেয়ারের দর হারানোর পাশাপাশি গতকাল দুই বাজারের লেনদেনও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। উভয় বাজারে কেনাবেচা হয়েছে মোট ৩৬৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার। এর মধ্যে ডিএসইর লেনদেন প্রায় ৫৮ কোটি টাকা কমে ৩৫১ কোটি টাকায় নেমেছে। সিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ১২ কোটি ২১ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইতে ব্যাংক, বীমা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাত ছাড়া বাকি সব খাতের অধিকাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে। এমনকি অধিকাংশ মিউচুয়াল ফান্ডও গতকাল দর হারিয়ে কেনাবেচা হয়েছে। এ চার খাতে ছিল মিশ্রধারা।

গতকাল তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রুগ্‌ণ, আর্থিকভাবে দুর্বল বা বন্ধ কোম্পানির শেয়ারগুলো দর হারিয়েছে বেশি। উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ এবং গত কয়েক বছর ধরে একটানা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোকে বৃহস্পতিবারের পর্ষদ সভায় তালিকাচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ- একটি অনলাইন সংবাদ পোর্টালের এমন খবরে এ ধরনের শেয়ারগুলোর দরপতন হয় বেশি।

তবে ডিএসইর একাধিক পরিচালক সমকালকে নিশ্চিত করেন, গতকালের পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে কোনো এজেন্ডা ছিল না। খবরটি সত্য নয়, একেবারে গুজব বলেও মন্তব্য করেন তারা। তারা জানান, লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ ও দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ কোম্পানিগুলো তালিকাচ্যুত করার বিষয়ে ডিএসইর পর্ষদ নীতিগত অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে চিঠি দিয়ে দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে কোনো দিকনির্দেশনা এখনও পাননি তারা।

এমন গুজবে গতকাল অন্তত ২১ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়েছিল। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির এবং ক্রেতাশূন্য অবস্থায় ছিল। সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হওয়া শেয়ারগুলো হলো- বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, জুট স্পিনার্স, তুংহাই নিটিং, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, আরামিট সিমেন্ট, বিচ হ্যাচারি, সিএনএটেক্স, ঢাকা ডাইং, গোল্ডেন সন, ইনফরমেশন সার্ভিসেস, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক্ক, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, শ্যামপুর সুগার মিলস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, শাইনপুকুর সিরামিক্স ও তাল্লু স্পিনিং।

এর বাইরে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কোম্পানির অবসায়নের খবরকে কেন্দ্র করে টানা চতুর্থ দিনে কোম্পানিটির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়। গতকাল ডিএসইতে শেয়ারটি কেনাবেচা হয়েছে তিন টাকা দরে। এর প্রভাব আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের অন্য কিছু কোম্পানিতেও দেখা গেছে। এর মধ্যে বে-লিজিং ও বিআইএফসির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়।

এ ছাড়া সরকার অনুমোদিত মেয়াদ শেষে ৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার সহযোগী বিদ্যুৎ কোম্পানি এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের খবরে গতকাল শাশা ডেনিম কোম্পানির শেয়ারও সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়। গত বুধবার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধের খবর দিয়েছিল কোম্পানিটি।

এদিকে সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কিছু কোম্পানির কেনাবেচার পাশাপাশি গতকাল সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে ছয় কোম্পানির শেয়ার ও চারটি মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে অন্তত সাতটি লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির থাকে। এমনকি বিক্রেতাও ছিল না। সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হওয়া শেয়ারগুলো হল- অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, ইমাম বাটন, মুন্নু সিরামিক, নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং ও পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স। তিন মিউচুয়াল ফান্ড হলো- প্রাইম ফাইন্যান্স প্রথম, এসইএমএল ফারমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ গ্রোথ ফান্ড ও এসইএমএল লেকচার ইক্যুয়িটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]