নকআউটের মাস্টার

১২ জুলাই ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্ক

একাই লড়ে গেলেন স্টিভেন স্মিথ। এক প্রান্তে সতীর্থদের আসা-যাওয়া চলছে, অন্য প্রান্তে অবিচল দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। ইংলিশ বোলিং তোপের জবাবটা একাই দিয়ে গেছেন। তবে একা আর কতটুকু করা যায়! এক প্রান্ত আগলে রেখে ১১৯ বলে ৮৫ রান করেন তিনি, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার আর কারও ব্যাট থেকে বড় রান আসেনি। তাই তো ২২৩ রানে গুটিয়ে যায় তারা।

হয়তো নকআউট ম্যাচের চাপেই ভেঙে পড়েছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ। স্মিথের বেলায় অবশ্য উল্টো হয়েছে। বিশ্বকাপে খুব একটা ফর্মে ছিলেন না তিনি। কিন্তু নকআউটে এসে ঠিকই জ্বলে উঠলেন। নকআউট ম্যাচে বড় ইনিংস খেলাটা অবশ্য স্মিথের পুরনো অভ্যাস। এই যেমন ২০১৫ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে বিপদের সময় ৬৯ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সেদিনও ওয়ার্নার, ফিঞ্চ ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করতে নেমে তার ৯৩ বলে খেলা ১০৫ রানের ইনিংসেই বড় স্কোর দাঁড় করিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্নের ফাইনালে কিউইদের ছোট টার্গেট তাড়া করতে নেমেও শুরুতে আউট হয়ে গিয়েছিলেন ওয়ার্নার ও ফিঞ্চ। সেদিনও ৭১ বলে ৫৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে ঠিকই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছিলেন স্মিথ।

গতকালও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতেই আউট হয়ে যান ওয়ার্নার ও ফিঞ্চ। এবারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনে ব্যাটিং করেছেন উসমান খাজা। কিন্তু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে ছিটকে যান খাজা। তাই গতকাল এই আসরে প্রথমবারের মতো তিনে নামতে হয় স্মিথকে। তিনি উইকেটে যাওয়ার পর আরও দুই উইকেট হারিয়ে ১৪/৩-এ পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়া। অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দেন স্মিথ। ক্যারির সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ১০৩ রান যোগ করেন। অস্ট্রেলিয়ার রান দুইশ' পার হওয়ার মূল কৃতিত্বটা তারই। তবে শেষ বেলায় তার ভাগ্যটা সুপ্রসন্ন ছিল না। একটি সিঙ্গেল নিতে গিয়ে বাটলারের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হয়ে যান। তার আউটের পরপরই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসও। বল টেস্পারিংকাণ্ডে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করে ফিরেছেন স্মিথ। তার পরও চাপের মুখে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে ভোলেননি তিনি।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]