রোডস চলে গেলেন রেখে গেলেন প্রশ্ন

১২ জুলাই ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

এমনিতে সদা হাস্যোজ্জ্বল এক মানুষ তিনি। সামনে পড়লে পরিচিতদের তো বটেই, এমনকি অপরিচিত কারও সঙ্গেও 'হাই-হ্যালো' করতে ভোলেন না। ভক্ত-সমর্থকদের সেলফি তোলার আবদার মেটান সময় নিয়ে। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলাতেও কখনও থাকে না তাড়াহুড়োর ছাপ। এক বছর ধরে এমনভাবেই স্টিভ রোডসকে দেখেই অভ্যস্ত সবাই। তবে গতকাল মিরপুরের বিসিবি কার্যালয়ে যেন দেখা গেল অচেনা এক রোডসকে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে তার সম্পর্ক চুকেবুকে গেছে, সেটা জানা গিয়েছিল আগেই। গতকাল শেষবারের মতো এসেছিলেন নিজের কর্মস্থলে, বাকি থাকা আনুষ্ঠানিকতা সারতে। স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিকরা তার মুখ থেকে শুনতে চেয়েছিলেন কিছু কথা। কিন্তু নিজের কাজ শেষে এদিন সংবাদমাধ্যমের অনুরোধ রাখেননি সদ্যসাবেক এই প্রধান কোচ। মুখে হাসি নিয়েই অপারগতা জানিয়েছেন কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ব্যাপারে। হয়তো সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার মানসিকতা ছিল না। বা হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চাননি বলেই!

দ্বিতীয় কারণটাকেই মনে হতে পারে বেশি যৌক্তিক। কারণ, এখন পর্যন্ত বিসিবির পক্ষ থেকে রোডসের চলে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে পরিস্কারভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। 'মিউচুয়াল সেপারেশন' বা পারস্পরিক সম্পর্কচ্ছেদের একটা তকমা দেওয়া হয়েছে এটাকে। কিন্তু এই তকমার পরিস্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বোর্ডসংশ্নিষ্ট কারও কাছ থেকেই। সাধারণত, কোচের কাজে সন্তুষ্ট না হতে পারলে বোর্ড থেকে তাকে ছাঁটাই করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোচ নিজেও পদত্যাগ করতে পারেন, রোডসের পূর্বসূরি চন্ডিকা হাথুরুসিংহে যেমন করেছিলেন। কিন্তু 'মিউচুয়াল সেপারেশন'-এর ধারণা বাংলাদেশের কোনো কোচের ক্ষেত্রে সম্ভবত এই প্রথম। গতকাল মধ্যরাতেই বাংলাদেশ ছেড়েছেন রোডস, তাই তার কাছ থেকে এই পারস্পরিক সম্পর্কচ্ছেদের ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব নয়। ব্যাখ্যা দিতে পারলেন না বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনও, 'আমাকে আবারও বলতে হবে যে, এটি মিউচুয়াল সেপারেশন ছিল। আর সেক্ষেত্রে আমি আবারও বলি যে কোনো চুক্তিতেই কিছু শর্ত থাকে। রিনিউ বা এক্সটেনশনের বিষয়গুলো যখন ঠিক হয়, তখন সেটি পারস্পরিক মতামতের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে। এখানেও ব্যাপারটা সেসব শর্তপূরণ করেই হয়েছে।' রোডসের উত্তরসূরি হিসেবে ইতিমধ্যেই শোনা যাচ্ছে বেশ কয়েকজন কোচের নাম। তবে এখনই নির্দিষ্ট কারও ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি নন বিসিবির এই কর্মকর্তা। বললেন, 'এ মুহূর্তে কারও নাম বা কোনো কিছু প্রকাশ করা ঠিক হবে না। আমাদের বোর্ডের জন্যও ঠিক হবে না, যাদের সঙ্গে যোগাযোগ হবে বা হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রেও ঠিক হবে না। কারণ এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ, বা যে কোনো জাতীয় দলের প্রধান কোচের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারও নাম আসার পর যদি শেষ পর্যন্ত না হয় তাহলে তার জন্য এটি বিব্রতকর, বোর্ডের জন্যও কঠিন হয়ে যায় পরে কাউকে চূড়ান্ত করা। আমরা চেষ্টা করব, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোচ নিয়োগ দিতে, সবকিছু চূড়ান্ত হলে এরপর আমরা জানাতে পারব।'

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]