ধোনির শেষের ধ্বনি

১২ জুলাই ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্ক

মহেন্দ্র সিং ধোনির ক্রিকেট জীবনের শুরু আর শেষটা কি একবিন্দুতে মিলে গেল! ২০০৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল তার। সেদিন তাপস বৈশ্যর ছুড়ে দেওয়া বল ধরে খালেদ মাসুদ পাইলট স্টাম্প ভেঙে দিলে রানআউট হয়ে ফিরেছিলেন ধোনি। গত বুধবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মার্টিন গাপটিলের অসাধারণ থ্রোয়ে ক্রিজে ফেরা হয়নি তার। ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ ওয়ানডেতেও যেন শুরুর দিনের ছায়া! যদিও এটা তার শেষ ওয়ানডে কি-না, সে বিষয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। হারের পর ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলিও বলেছেন, অবসর নিয়ে ড্রেসিংরুমে কিছুই বলেননি ধোনি। তবে ৩৮ বছর বয়সী এ ক্রিকেটারের গুডবাই বলার সম্ভাবনাই বেশি।

বিদায়বেলায় আশা জাগিয়েও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি ধোনি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের সেমিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৮ রানে হেরে শেষ হয়ে গেছে ভারতের তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন। জাদেজার সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১১৬ রান যোগ করে নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছিলেন দলকে। বরাবরের মতো ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাট চালিয়ে হাফ সেঞ্চুরিও করেছিলেন; কিন্তু রানআউটে শেষ হয়ে যায় সবকিছু। তবে এই বিপর্যয়ের পর তৎক্ষণাৎ শুরু হয়ে গেছে ময়নাতদন্ত। কোহলিদের স্কোয়াড নির্বাচনে কি কোনো ভুল ছিল? চার নম্বর নিয়ে কেন এত টানাহেঁচড়া হলো? সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে চাপের মুখে কেন দিনেশ কার্তিকের আগে তরুণ ঋষভ পান্তকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হলো? তবে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে, বহু যুদ্ধের পোড় খাওয়া সৈনিক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে সাতে পাঠানো নিয়ে। ম্যাচ শেষে স্টার স্পোর্টসের বিশ্নেষণে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, ধোনিকে সাতে পাঠানো ছিল 'টেকটিক্যাল ব্লান্ডার'। একই অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন ভারতের আরেক সাবেক তারকা ভিভিএস লক্ষ্মণ।

সৌরভ গাঙ্গুলী মনে করেন, মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত ব্যাটসম্যানকে এত পরে নামানোটা ঠিক হয়নি। পরিস্থিতির বিচারে তার আরও আগে আসা উচিত ছিল। সৌরভের ধারণা, ধোনি এক পাশে থাকলে ঋষভ পান্ত মোটেও ওই ধরনের শট খেলত না। ধোনি শুধু নিজে খেলেন না, অন্যকেও গাইড করতে পারেন। যেভাবে তিনি রবীন্দ্র জাদেজাকে প্রতি মুহূর্তে পরামর্শ দিয়েছেন। সৌরভ ও লক্ষ্মণ ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালের উদাহরণও দেন। সেদিন ব্যাটিং অর্ডার ভেঙে যুবরাজের আগে নেমেছিলেন ধোনি। এ ম্যাচেও তেমন কিছু করা উচিত ছিল বলে মনে করছেন তারা। তবে ওই ম্যাচে অধিনায়ক ছিলেন বলেই ধোনি সিদ্ধান্তটা নিতে পেরেছিলেন। কিন্তু ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তার ছিল না। সেটা অধিনায়ক ও কোচের ব্যাপার। ২৪ রানে ৪ উইকেট পতনের পরও ধোনিকে সাত নম্বরে নামানোটা টিম ম্যানেজমেন্টের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলেও মনে করছেন তারা।

শুরুতে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির আউট হওয়াটা ছিল ভারতীয়দের জন্য একটা বিরাট ধাক্কা। সেটা সামলানোর জন্যই নবীন ঋষভ পান্তের আগে অভিজ্ঞ দিনেশ কার্তিককে পাঠানো উছিল ছিল বলেও মনে করছেন সৌরভ। খেলার ধরনের কারণেও এমন পরিস্থিতিতে কার্তিককে নামানো উচিত। কারণ পান্তের তুলনায় কার্তিকের ডিফেন্স অনেক ভালো। এমন চাপের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে কার্তিকের। তবে ধোনিকে সাতে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সৌরভ। সৌরভ বলেন, 'ধোনি আজ খারাপ খেলেনি কিন্তু। সেই সময় পার্টনারশিপ দরকার ছিল। জাদেজার সঙ্গে সে সেটাই করেছে। তবে তাকে দেরিতে নামানো হয়েছে। আরও আগে আসা উচিত ছিল ধোনির। যদি ঋষভ পান্তের ব্যাটিংয়ের সময় ধোনি অন্য প্রান্তে থাকতেন তাহলে এ তরুণকে বাতাসের বিপরীতে তুল শট খেলতে দিতেন না।' স্কোয়াড নির্বাচনেও দুর্বলতা দেখছেন তারা। লক্ষ্মণের মতে, ব্যাটিংয়ে চার নম্বর পজিশনটা নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট। বিজয় শঙ্কর বা ঋষভ পান্ত প্রতিভাবান, কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বিশাল মঞ্চে অভিজ্ঞতা একটা বড় বিষয়। সে বিবেচনায় আম্বাতি রাইডুকে তারা কাজে লাগাতে পারতেন বলেও মনে করছেন লক্ষ্মণ।

কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারও মনে করছেন, ধোনিকে সাতে পাঠানো ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। টুইটারে শচীন নিজের মতামত তুলে ধরেন, 'ম্যাচের এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ ধোনিকেই কি আগে পাঠানো উচিত ছিল না? সম্ভবত হার্দিকের (পান্ডিয়া) আগে ধোনির নামা উচিত ছিল। পাঁচে কার্তিকের ব্যাট করতে নামাটাও প্রথাগত সিদ্ধান্ত মনে হয়নি। শেষ পর্যন্ত জাদেজাকে সঙ্গে নিয়ে ধোনি কিন্তু সবকিছু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিল প্রায়।' ধোনিকে এত পরে ব্যাটিংয়ে নামানোর কারণটা সংবাদ সম্মেলনে ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। কোহলি বলেন, 'এটা আসলে টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। ফিনিশিং দেওয়ার জন্যই তাকে একটু পেছনে নামানো হয়।' অবশ্য জাদেজাকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচটা প্রায় ফিনিশিং দিয়েও ফেলেছিলেন ধোনি। কিন্তু মার্টিন গাপটিলের থ্রোতে সব শেষ হয়ে যায়।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]