'বিলম্বে পরীক্ষা হলে এসেছিল পপি'

১২ জুলাই ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তার মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল খায়ের। আদালতে তিনি বলেছেন, নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছিল উম্মে সুলতানা পপি। গতকাল বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রোববার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

গতকাল সকালে নুসরাত হত্যার ১৬ আসামিকে আদালতের হাজতে আনে পুলিশ। দুপুর ১২টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল খায়েরের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেন। আদালতে শিক্ষক আবুল খায়ের বলেন, ৬ এপ্রিল নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়ার সময় তিনি আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রের ৯ নম্বর কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা বিলি করেন। ওই সময় পর্যন্ত মামলার অন্যতম আসামি উম্মে সুলতানা পপি হলে উপস্থিত ছিল না। এ সময় মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের

ওপর থেকে শরীরে আগুনসহ পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে দৌড়ে নিচে নামতে দেখি। একজন পুলিশ সদস্য ও মাদ্রাসার পিয়ন মোস্তফা রাফির শরীরের আগুন নেভাচ্ছিল। এর দুই-এক মিনিট পর উম্মে সুলতানা পপি পরীক্ষার হলে আসে। বিলম্বে আসার কারণ জানতে চাইলে সে জানায়, বাথরুমে গিয়েছিল। জেরায় শিক্ষক আবুল খায়ের আরও বলেন, মাদ্রাসার বাথরুম সাইক্লোন শেল্টারের তৃতীয় তলায় অবস্থিত। সেখানেই নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হয়েছিল।

সাক্ষ্য দেওয়া শেষ হলে আবুল খায়েরকে আসামিদের পক্ষে জেরা করার আদেশ দেন আদালত। বিচারক বলেন, যেহেতু সাক্ষী মাত্র একজন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাই আসামিপক্ষে জেরা করবেন সংশ্নিষ্ট আসামির আইনজীবী। পরে আদালতে সাক্ষীকে জেরা করেন উম্মে সুলতানা পপির আইনজীবী আহসান কবির বেঙ্গল। এ সময় আসামিপক্ষের অন্য আইনজীবীরা তাকে সহযোগিতা করেন।

আদালতে পিপি হাফেজ আহাম্মদ ও বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু জানান, সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষে আদালত আগামী রোববার মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। এদিন সাক্ষী হিসেবে সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর ও মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদের সাবেক সদস্য শেখ আবদুল হালিম মামুন ও ব্যবসায়ী আবু ইউসুফকে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেন আদালত।

গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নির্যাতন করে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে মামলা তুলে নিতে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসার ভেতরে নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষ সমর্থক দুর্বৃত্তরা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যু হয় নুসরাতের। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত শেষে অধ্যক্ষ সিরাজসহ ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। এ মামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

সুস্থ আছেন নুসরাতের মা :বুধবার সাক্ষ্য ও জেরার পর আদালতের এজলাসেই জ্ঞান হারান নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। বিচারক মামুনুর রশিদ তাকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দিলে পুলিশ ও স্বজনরা তাকে ফেনী হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান জানান, সুস্থ হয়ে উঠলে বুধবার সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি নেওয়া হয়েছে। তিনি এখন ভালো আছেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: [email protected] (প্রিন্ট), [email protected] (অনলাইন)