হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ এখনও চাকরিতে

পল্লবী থানা হেফাজতে মৃত্যু

১২ জুলাই ২০১৯

ইন্দ্রজিৎ সরকার

রাজধানীর পল্লবীতে পুলিশ হেফাজতে গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেন জনি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা এখনও চাকরিতে বহাল রয়েছেন। তারা হলেন- এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু ও রাশেদুল হাসান। আইনজীবীরা বলছেন, অপরাধ সম্পৃক্ততার অভিযোগে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিচার শুরু হলে তিনি আর দায়িত্বে থাকতে পারেন না। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন। অবশ্য অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, আদালত মামলার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ জারির পর তারা কাজে যোগ দিয়েছেন। যদিও সেই স্থগিতাদেশের বলে তাদের চাকরিতে ফেরার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তাছাড়া চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার আদেশ দেন হাইকোর্ট।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) সোহেল রানা সমকালকে বলেন, তারা বিধিবহির্ভূতভাবে চাকরিরত থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এসএম রেজাউল করিম জানান, দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে এ মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, কারাগারে যাওয়ার পর তারা দায়িত্বে থাকতে পারেন না। তারা অবশ্যই সাময়িক বরখাস্ত হবেন। মাঝে তাদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মামলার কার্যক্রমে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। তবে এর সঙ্গে তাদের চাকরিতে বহাল হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ আদালত এমন কোনো নির্দেশনা দেননি। তারা সুস্পষ্টভাবে আইনের লঙ্ঘন করছেন।

মামলার বাদী ইমতিয়াজ হোসেন রকি জানান, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পল্লবী থানাধীন মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ইরানি ক্যাম্পে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মেয়েদের সঙ্গে অশালীন

আচরণ করে পুলিশের সোর্স সুমন। এর প্রতিবাদ করায় ইশতিয়াক হোসেন জনি ও তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় সুমনের। সুমন থানায় জানালে দুই ভাইকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের থানায় নিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করা হলে জনির মৃত্যু হয়। ওই বছরের ৭ আগস্ট এ ঘটনায় নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন রকি। বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেন ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল এ মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তারা হলেন- পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ, এএসআই রাশেদুল হাসান ও কামরুজ্জামান মিন্টু, পুলিশের সোর্স সুমন ও রাশেদ। তিন পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে এসআই জাহিদ কারাগারে রয়েছেন। অপর দু'জনের মধ্যে রাশেদুল এখন মিরপুর ও মিন্টু গুলশান থানায় কর্মরত। সমকালের অনুসন্ধানে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অভিযুক্ত এএসআই মিন্টু আট-নয় মাস ধরে গুলশান থানায় কর্মরত থাকার কথা এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেন। এ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তিনি এএসআই মিন্টুর কথা মনে করতে পারছেন না। তবে ৯ জুলাই বিকেলে গুলশান থানার ডিউটি অফিসার শিক্ষানবিশ এসআই আতিকুর রহমান নিশ্চিত করেন, মিন্টু ওই থানায় দায়িত্ব পালন করছেন।

মিরপুর থানায় কর্মরত এএসআই রাশেদুল জানান, মামলার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। তবে আদালত স্থগিতাদেশ দেওয়ায় বছর খানেক ধরে তিনি মিরপুর থানায় দায়িত্ব পালন করছেন। পরে আদালত মামলার বিচার চলমান রাখার যে আদেশ দিয়েছেন, সেটির কপি তিনি পাননি। কপি পেলে আপিল করবেন।

মিরপুর থানার ওসি দাদন ফকির জানান, তিনি এই থানায় যোগ দেওয়ার আগে থেকেই রাশেদুল কর্মরত। তবে যতটুকু জানতে পেরেছেন, রাশেদুল হাইকোর্টের আদেশেই আবারও চাকরিতে যোগ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী বদিউজ্জামান তপাদার সমকালকে বলেন, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু মামলার আসামিরা চাকরিতে বহাল থাকতে পারেন না। বিচার শুরুর পর থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বরখাস্ত থাকার কথা। বিচারে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তারা চাকরি ফিরে পাবেন। এক্ষেত্রে অভিযুক্তরা সম্ভবত স্থগিতাদেশের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে চাকরি করছেন। তবে হাইকোর্ট ওই আদেশ বাতিলের পর এখন আর কোনো যুক্তিতেই তাদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই।





© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]