সড়কে শত গর্ত, ক্ষতি শতকোটি টাকা

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা

১২ জুলাই ২০১৯

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

টানা তিন দিনের জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাম নগরীর প্রধান ১০ সড়কে তৈরি করেছে শত মৃত্যুফাঁদ। সড়কে পানি জমে থাকায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এসব গর্তে পড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। জলাবদ্ধতায় সড়কের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বিগ্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও চূড়ান্ত না হলেও কর্তৃপক্ষের ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়ে যাবে শতকোটি টাকার ঘর। কোথায় কোন সড়কে কী পরিমাণ সংস্কার কাজ করতে হবে, সে তথ্য সংগ্রহ করছে চসিক।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি থেকে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নগরীর প্রধান সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি করেছে। কোথায় কী পরিমাণ রাস্তা সংস্কার করতে হবে, সেটির তথ্য সংগ্রহ করছি আমরা। হিসাব এখনও চূড়ান্ত না হলেও সার্বিকভাবে রাস্তা মেরামতে লাগতে পারে শতকোটি টাকারও বেশি। কারণ আবহাওয়া ভালো হলে এসব রাস্তা একবার সংস্কার করতে হবে। জলাবদ্ধতা দীর্ঘায়িত হলে বর্ষা মৌসুম শেষে আবারও দরকার হতে পারে রাস্তা সংস্কারের।' জলাবদ্ধতার কারণে দুই বছর ও রাস্তা সংস্কারে দীর্ঘসূত্রতার কারণে টানা তিন বছর পোর্ট কানেকটিং রোড ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লাখো মানুষকে। বর্ষার আগে এ দুটি সড়কের একাংশ যান চলাচলের উপযোগী করেছিল সিটি করপোরেশন। পোর্ট কানেকটিং রোডের নিমতলা পয়েন্ট থেকে তাসপিয়া গেট পর্যন্ত রাস্তার একটি অংশে কার্পেটিং করে তারা। আরেকটি অংশে কংক্রিট দেওয়া হলেও বাকি ছিল কার্পেটিংয়ের কাজ। কিন্তু টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে কংক্রিটের ঢালাই। ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত এখন বিপজ্জনকভাবে আছে পোর্ট কানেকটিং রোডে।

এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দরগামী পাঁচ হাজার বড় গাড়ি চলাচল করে। হালিশহরে বসবাস করা ১০ লক্ষাধিক মানুষেরও যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে এ সড়কের কাজ শেষ করতে পারেনি সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত ঠিকাদার। পোর্ট কানেকটিং রোডের একটি অংশ কোনোভাবে ব্যবহারের উপযোগী করা হলেও নয়াবাজার থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত অংশটির অবস্থা ভয়াবহ। মূল সড়ক থেকে প্রায় চার ফুট ওপরে রাস্তার দুই পাশে ড্রেন করায় পুরো রাস্তা হয়ে গেছে পুকুরের মতো। পানি জমে থাকায় ও বড় বড় গাড়ি চলাচল করায় পোর্ট কানেকটিং রোডের নয়াবাজার, সরাইপাড়া ও সাগরিকা পয়েন্টে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। ভারী গাড়ি এসব গর্তে পড়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের অবস্থাও অভিন্ন। দুই বছরের নির্ধারিত সময়সীমায় শেষ হয়নি এ সড়কের সংস্কার কাজ। আগ্রাবাদ থেকে হালিশহরে যোগাযোগের প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে এক্সেস রোড। চলতি বছরের জুনে এ সড়ক সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বড়পুল থেকে বেপারীপাড়া পর্যন্ত কংক্রিটের আস্তরণ দিয়ে সড়ক উঁচু করা হলেও শেষ হয়নি কার্পেটিংয়ের কাজ। আবার বেপারীপাড়া থেকে আগ্রাবাদ মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু'পাশে ড্রেনেজের কাজ শেষ হলেও এখনও কংক্রিটের আস্তরণও পড়েনি মূল সড়কে। তাই বৃষ্টি এলে পানি জমে থাকছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কেও। তাই এখানেও তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্তের।

চট্টগ্রাম নগর থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামে আসা যাওয়ার একমাত্র পথ কর্ণফুলী ব্রিজ। প্রতিদিন এ পথে আসা-যাওয়া করে লক্ষাধিক মানুষ। কিন্তু এ ব্রিজে ওঠার গোলচত্বরেই এবড়ো-খেবড়ো হয়ে আছে সড়ক। এক কিলোমিটারের সংযোগ সড়কে হাঁ করে আছে ছোট-বড় শতাধিক গর্ত।

বেহাল অবস্থায় আছে চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেট থেকে মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট পর্যন্ত সড়কটি। সড়কের উত্তর পাশে বড় নালা থাকলেও সেগুলো ময়লা-আবর্জনায় অনেকটা ভরাট হয়ে আছে। আবার নালার ওপর গড়ে উঠছে নানা স্থাপনা। জলাবদ্ধতায় সড়কের ওপর পানি জমে থাকায় ফরেস্ট গেট এলাকা, মুরাদপুর মোড় ও এন মোহাম্মদ প্লাস্টিকের সামনের পয়েন্টে বিপজ্জনকভাবে আছে শতাধিক গর্ত। একইভাবে এবড়ো-খেবড়ো হয়ে আছে নগরীর সিরাজউদ্দৌলা রোড, আরাকান সড়ক, বাকলিয়া ডিসি রোড, নিউমার্কেট থেকে টাইগার পাস রোড, বিমানবন্দরগামী সড়কের সিমেন্ট ক্রসিং এলাকা, বহদ্দারহাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথার সড়ক।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ৯ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন বলেন, 'টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের বেশিরভাগ সড়কেরই অবস্থা বেহাল। নগরীর প্রবেশমুখ অলংকার মোড় থেকে শিউলি পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত সড়কটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিটি করপোরেশন জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ শুরু করেছে। তবে বর্ষা দীর্ঘায়িত হলে সড়ক সংস্কার করতেও সময় লাগবে বেশি।'

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: [email protected]