প্রজ্ঞাপনের কপি পৌঁছতেই ৭ মাস!

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তর

১৬ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক ও সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির প্রায় সাত মাস পর সমকাল সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার নথি রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে। খুব শিগগির সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (২য়) আদালত থেকে নথি রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। সেখানেই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে মামলাটি স্থানান্তরের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেই প্রজ্ঞাপনটি সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত পেয়েছে গত ১৪ জুলাই। সাত মাস বিলম্ব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, এমনটি হওয়ার কথা নয়। তবে প্রজ্ঞাপনটি পৌঁছতে কেন এত দেরি হলো তা তদন্ত করে দেখা হবে।

সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (২য়) আদালতের অতিরিক্ত পিপি ওয়াজ করুনী লকেট প্রজ্ঞাপন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল সোমবার জানান, আলোচিত শিমুল হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। আদেশ এরই মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, পিপি, শাহজাদপুর থানা পুলিশ এবং রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১১ জুলাই পৌঁছলেও বিচারক ১৪ জুলাই নির্দেশনা দেন। লকেট আরও জানান, হয়তো দু-একদিনের মধ্যেই নথি রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে।

এ মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বাদী সাংবাদিক শিমুলপত্নী বেগম নুরুন্নাহার দেড় বছর আগে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। সাবেক জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির জন্য তখনই সুপারিশপত্র পাঠান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তাহমিনা বেগম ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন। এরপর প্রজ্ঞাপনটি এ বছর ১১ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসে।

অন্যদিকে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণসহ বিচার শুরুর আগে সব আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন প্রক্রিয়া গত দেড় বছরেও সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সম্পন্ন হয়নি। নানা কারণে সাতবার পিছিয়েছে চার্জ গঠন প্রক্রিয়া। মামলার প্রধান আসামি শাহজাদপুর পৌরসভার সাময়িক বরখাস্ত মেয়র হালিমুল হক মিরু জেলা কারাগারে থাকলেও বাকি ৩৭ জন উচ্চ আদালতের মাধ্যমে জামিনে রয়েছেন।

২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মিরুর গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে পরদিন মারা যান শিমুল। ওই ঘটনায় মিরু ও তার সহোদর মিন্টুসহ ৪০ জনকে আসামি করে শাহজাদপুর থানায় মামলা করেন শিমুলের স্ত্রী।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)