সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবি

সড়ক অবরোধ করে ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

১৯ জুলাই ২০১৯

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলসহ চার দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত টিএসসি ও শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা। অবরোধের কারণে শাহবাগ ও আশপাশ এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনকারীদের চার দফা দাবি হলো- যে কোনো মূল্যে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনা, দুই মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার ফল দেওয়া এবং ক্যাম্পাসে সব ধরনের বহিরাগত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও রিকশা ভাড়া নির্ধারণ। এসব দাবিতে গত ১৫ জুলাই

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ১৭ জুলাই দুপুরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন তারা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুর ১টার সময় তারা সেখান থেকে গিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। এতে শাহবাগসহ আশপাশ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ২টার সময় দাবি আদায়ে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা। কর্মসূচির মধ্যে আছে- ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, বিক্ষোভ মিছিল; শাহবাগ মোড় ও উপাচার্য কার্যালয় অবরোধ।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোফাজ্জল সাদাত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আশোফা তাসনিফ বলেন, তাদের মূল দাবি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল করা। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিজের শিক্ষার্থীদের দেখভালই করতে পারছে না; সেখানে আরও দুই লাখ শিক্ষার্থীর দায়িত্ব কীভাবে নেয়! এ ছাড়া তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা ও চৈতালী বাসে ছাত্রী হয়রানিরও বিচার দাবি করেন।

আন্দোলনের মুখপাত্র ও ঢাবির ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র শাকিল আহমেদ বলেন, তারা কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিলেও প্রশাসন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা লাগাতার কর্মসূচি পালন করবেন।

প্রথম দিনের মতো বৃহস্পতিবারও আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে শাহবাগে যান ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। সেখানে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই পর্যাপ্ত সেবা পায় না। তাদের রেজাল্টের জন্য ৭ থেকে ৮ মাস অপেক্ষা করতে হয়। অথচ সেই বিশ্ববিদ্যালয় অন্যদের দায়িত্ব নেয়। তিনি দ্রুত বিষয়টি সমাধান করার দাবি করেন।

এদিকে অবরোধের কারণে শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, বাংলামোটর, টিএসসি, মৎস্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। রাস্তায় আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার বলেন, মানুষের সমস্যা করে কোনো আন্দোলন হতে পারে না। আন্দোলনে তারও একাত্মতা রয়েছে, তবে সড়ক বন্ধ করে নয়।





© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: [email protected] (প্রিন্ট), [email protected] (অনলাইন)