রিকশাচালকদের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা

০৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় রিকশায়ালাদের সড়ক অবরোধ- ফোকাস বাংলা

রাজধানীর তিনটি সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে মঙ্গলবারও সড়ক
অবরোধ এবং বিক্ষোভ করেছে শত শত রিকশাচালক ও মালিক। এতে রাজধানীর একাংশের
যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে যানজট।
যাতায়াতে ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়ে নাকাল হতে হয় নাগরিকদের।

রিকশাচালক ও
মালিকদের দাবি, রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। রিকশার জন্য পৃথক
লেন করে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এ অবস্থায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ
সাঈদ খোকন রিকশাচালক-মালিকদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তিনি তাদের চায়ের
আমন্ত্রণ জানান। সড়ক অবরোধ করে ভোগান্তি সৃষ্টি না করার অনুরোধ জানান
তিনি।

অবরোধকারীরা এ আশ্বাসে দুপুরের পর কয়েকটি এলাকা থেকে অবরোধ তুলে নেন।
কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে রাত হয়ে যায়। ১০ মিনিটের পথ যেতে নগরবাসীর
দুই ঘণ্টা লেগে যায়। অনেকে গন্তব্যে না গিয়ে বাসায় ফিরে যান।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুড়িল, বাড্ডা, রামপুরা ও মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার
সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে জড়ো হয়ে কয়েক হাজার রিকশাচালক বিক্ষোভ শুরু করেন।
তারা লাঠিসোটা নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। ফলে প্রগতি সরণিতে যানচলাচল
সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অফিসমুখী নগরবাসীকে পড়তে হয় মহাবিড়ম্বনায়। অনেকে
হেঁটেই গন্তব্যের দিকে রওনা হন। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে না পেরে বাসায়
ফিরে যায়। সন্তানদের নিয়ে ভীতিকর উদ্বেগের মধ্যে পড়তে হয় অভিভাবকদের।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক পূর্ব) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান
জানান, প্রগতি সরণীতেও রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রিকশামালিক-চালকরা
সকালেই এ সড়ক অবরোধ করে। ফলে সেখানে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্য সড়কগুলোতে
যানজট বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী সমকালকে বলেন,
মঙ্গলবার সড়ক অবরোধের নির্ধারিত কোনো কর্মসূচি ছিল না। সায়দাবাদ এলাকায় তাদের
মানববন্ধন কর্মসূচি ছিল। শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচির জন্য যান চলাচলে কোনো
সমস্যা হয়নি। কিন্তু কিছু রিকশাচালক মুগদা, মানিকনগর ও প্রগতি সরণির
বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় অবরোধ করে। এ জন্য তার সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীকে
তিনি ওই এলাকায় পাঠান। কিন্তু অবরোধকারীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

তিনি
বলেন, বুধবার ১১টায় ২৫ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সংগঠনের কার্যালয়ে সংবাদ
সম্মেলনের মাধ্যমে তারা পরবর্তী কর্মসুচি দেবেন। এছাড়া ১১ জুলাই
প্রেসক্লাবে সভা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচিও
অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান মালিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আর এ জামান বলেন,
যেসব রিকশা মালিক ও চালক তাদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মঙ্গলবার
রাস্তায় অবরোধ এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে, তারা বিএনপি-জামাতের লোক। তারা
এখন হাইব্রিড আওয়ামী লীগ হয়েছে। সুবিধা লোটার জন্য রিকশা-ভ্যান
মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ব্যানারে মমতাজ উদ্দিন নামের একজন রিকশাচালক ও
মালিকদের উস্কানি দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে রিকশা-ভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন
বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, রিকশা চলাচলের জন্য রাস্তার দুপাশে
পৃথক লেন করে দেওয়া হবে। সেটা না করা পর্যন্ত এসব সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ
করা যাবে না। সে পর্যন্ত আন্দোলন-অবরোধ চলবে। তবে দুপুরে মেয়র
মোহাম্মদ সাঈদ খোকন তাদের চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এ জন্য দুপুরের পরই
অবরোধ তুলে নেয়া হয়। মেয়র যখন সময় দেবেন, তারা যাবেন। তবে দাবি মানা না হলে বুধবারও সকাল থেকে সড়ক অবরোধ চলবে।

তিনি বলেন, কিছু সংগঠন আদালতে মামলা ঠুকে অবৈধ রিকশার লাইসেন্স দিয়ে
যাচ্ছে। এসব অবৈধ রিকশা উচ্ছেদ করা প্রয়োজন। এগুলো তুললে প্রধান সড়কে রিকশা
বন্ধের প্রয়োজন হবে না।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)