ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুনের বাড়ির প্রাচীর ভাঙল দুর্বৃত্তরা

১৪ আগস্ট ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা- সমকাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিএনপির ভাইস
চেয়ারম্যান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সাবেক সাংসদ
অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশিদের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে
গুঁড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বাড়িটিতে বর্তমানে 'মডার্ন এক্সরে ও প্যাথলজি
ক্লিনিক' নামে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মঙ্গলবার রাত ২টা থেকে
সকাল ৭টা পর্যন্ত এ তাণ্ডব চালানো হয়ে।

কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানা
না গেলেও এ ঘটনায় শহরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন
রাজনৈতিক দলের নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে বুধবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল
কবীর, সদর থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদক আল-মামুন সরকার, জেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি,
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম
সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক
সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল
পরিদর্শন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে মডার্ন ক্লিনিকের
পশ্চিম পাশে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, শিশু বিশেষজ্ঞ
ডা. মো. জাকারিয়া, শহর যুবলীগের আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন রনি, সদর উপজেলা
যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু কাউছার, শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম
আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম তৌছির, ব্যবসায়ী উবায়দুল হক, মো. বাছিরসহ বেশ কয়েকজন
মিলে প্রস্তাবিত 'ডা. জাকারিয়া মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল' প্রতিষ্ঠার
জন্য একটি জায়গা কেনেন। তবে প্রস্তাবিত হাসপাতালের রাস্তার জায়গা মডার্ন
ক্লিনিকের দখলে আছে দাবি করে গত ৩ জুলাই প্রস্তাবিত হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক ডা. জাকারিয়া ওই জায়গা দখলমুক্ত করার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর
মেয়রের কাছে লিখিত আবেদন জানান।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত বুলডোজার নিয়ে এসে প্রথমে
মডার্ন ক্লিনিকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ওই ক্লিনিকের সীমানা
প্রাচীর, রোগীদের বসার স্থান (ওয়েটিং রুম) গুঁড়িয়ে দেয়। বুধবার সকাল
৭টা পর্যন্ত এ তাণ্ডব চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা এ সময় কয়েকটি ট্রাক্টরে
ক্লিনিকের মালপত্র ভাংচুর ও লুট করে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে মডার্ন ক্লিনিকের পরিচালক আজিজুল হক বলেন, দুর্বৃত্তরা ক্লিনিক
ভাংচুর ও সীমানা প্রাচীর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ক্লিনিকের দুটি
ফটক, একটি জেনারেটর, একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও একটি এসি ট্রাকে তুলে
নিয়ে যায়। এ ছাড়া ক্লিনিকের তিনটি জেনারেটর, সাতটি এসি, একটি
আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও ৫টি কম্পিউটার ভেঙে ফেলে। এতে তাদের প্রায় ৫০ লাখ
টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির বলেন, তিনি বিষয়টি
শুনেছেন। তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে সেখানে ভাংচুর চালানো হয়নি।

তিনি বলেন,
প্রায় দুই মাস আগে চিকিৎসক মো. জাকারিয়া রাস্তাটি দখলমুক্ত করার জন্য আবেদন
করেছিলেন। আবেদনটি প্রকৌশল শাখায় রয়েছে। তিনি ভাংচুরের ঘটনার নিন্দা ও
দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, আমি এ
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত,
তদন্তসাপেক্ষে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রাতের আঁধারে ভাংচুর
চালানো হলেও কেউ অভিযোগ করেনি। সকালে শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ
ঘটনায় মামলা হলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শহর যুবলীগের আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন রনি বলেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে
জড়িত নন। তিনি ঈদের দিন থেকেই অসুস্থ। তিনি বলেন, সেখানে ২৬ শতক জায়গা কিনে
চিকিৎসক জাকারিয়াসহ বেশ কয়েকজন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছি।

 পৌর এলাকার বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন
বলেন, প্রস্তাবিত হাসপাতালে আমার শেয়ার আছে। তবে ভাংচুর সম্পর্কে কিছুই
জানি না।

ডা. জাকারিয়া বর্তমানে মালদ্বীপ অবস্থান করায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ভবনের মালিক হারুন-আল-রশিদ দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা
যায়নি। তবে তার একজন আত্মীয় জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তারা মামলা করবেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)