বোর্ড কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেবে: ডমিঙ্গো

২০ আগস্ট ২০১৯ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ছবি: ফাইল

জোহানেসবার্গ-দোহা হয়ে আজ বিকেলে ঢাকা; মিরপুরের ক্যাম্পে যোগ দেবেন কাল। দেশ থেকে বিমানে ওঠার আগেই গতকাল দুপুরে হোয়াটসঅ্যাপে সমকালের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন টাইগারদের নতুন কোচ ক্রেইগ রাসেল ডমিঙ্গো। টাইগারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন তিনি। জানান, শুধু এ জন্যই অন্য কোনো দেশে কোচের জন্য আবেদন করেননি। টেস্টে ভালোমানের পেসার বের করা, ওয়ানডেতে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ চারে নিয়ে যাওয়া ছাড়াও ডমিঙ্গো জানালেন, তার অন্যতম লক্ষ্য থাকবে টি২০-তে বাংলাদেশকে আরও ভালো দলে পরিণত করা। তবে সব যে রাতারাতি হবে না- সে কথাও মনে করিয়ে দেন এই প্রোটিয়া। জানিয়েছেন, প্রথম সিরিজটি তিনি শুধুই পর্যবেক্ষণ করবেন, তার আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হবে নভেম্বরে ভারত সফর থেকে। স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ই তিনি প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছেন বিসিবির কাছ থেকে।

সমকাল: বাংলাদেশে আপনাকে স্বাগতম।

ডমিঙ্গো: আপনাকে এবং আপনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ আমাকে কাজের সুযোগ করে দেওয়ায়।

সমকাল: কাল (আজ) তো ঢাকায় আসছেন। সপরিবারে, না একা?

ডমিঙ্গো: হ্যাঁ, কাল ঢাকায় পৌঁছাব। আমি একাই আসছি। পরিবার সঙ্গে নিতে পারব না। বাচ্চাদের স্কুল আছে। ওরা দক্ষিণ আফ্রিকাতেই থাকবে। আমি যাব-আসব। ওরাও নিশ্চয়ই কখনও কখনও ঢাকায় বেড়াতে যাবে।

সমকাল: এখন তো বিশ্বে ভালো কোচের খুব চাহিদা। দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, পাকিস্তান কোচ খুঁজছে। এর থেকে আপনি বাংলাদেশকে বেছে নিলেন। নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো কারণ আছে?

ডমিঙ্গো: গত পাঁচ বছরে বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করা দল বাংলাদেশ। দলগত ও ব্যক্তিগতভাবে ভালো করছে। বাংলাদেশের উন্নতির ওপর আমি দৃষ্টি রাখছিলাম। আসলে এমন একটা অগ্রসরমান দলের সঙ্গে যুক্ত হতে চাচ্ছিলাম, যাদের কিছু দিতে পারব এবং কাজ করে আনন্দ পাব। আমার বিশ্বাস, আমি সঠিক জায়গাতেই যাচ্ছি। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশকে ভালো একটা দলে পরিণত করতে চাই। তারা যাতে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে পারে।

সমকাল: বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি সম্পর্কে আপনার কি ধারণা আছে? এ দেশের মানুষ দ্রুত ফল পেতে চায়। দল ভালো খেললে প্রশংসা পাবেন। খারাপ খেললে দুয়ো শুনতে হবে।

ডমিঙ্গো: বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি সম্পর্কে আমি সবটা জানি না। তবে উপমহাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি তো একই রকম। বলতে গেলে ক্রিকেটপাগল মানুষ। এই ধরনের পরিবেশে কাজ করার আনন্দ আছে। সমর্থকদের চাপের কথা মাথায় রেখেই ভালো করার চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। আমি চেষ্টা করব দর্শকদের খুশি করতে। আর খারাপ খেললে দুনিয়াজুড়েই দুয়ো দেওয়া হয়। দক্ষিণ আফ্রিকাতেও এটা হয়।

সমকাল: বিসিবির কাছ থেকে ক্রিকেট অবকাঠামো সম্পর্কে কোনো ধারণা পেয়েছেন?

ডমিঙ্গো: কিছু ধারণা পেয়েছি। একাডেমি ও এইচপিতে ভালো ট্রেনিং হয়। শুনেছি, পাইপলাইনে প্রতিভাবান অনেক খেলোয়াড় আছে। আশা করি, ওখান থেকে জাতীয় দলে ভালো কিছু ক্রিকেটার সম্পৃক্ত করতে পারব। তারা যাতে আগামী দু-তিন বছরে ভালোভাবে তৈরি হতে পারে।

সমকাল: তিন ফরম্যাটের মধ্যে বাংলাদেশ শুধু ওয়ানডেটা ভালো খেলে। টেস্ট ও টি-২০ র‌্যাংকিংয়ে নিচের দিকে রয়ে গেছে। আপনার ফোকাসটা কোথায় থাকবে?

ডমিঙ্গো: আমি দেখেছি, দেশের মাটিতে খুব ভালো ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ। তিন ফরম্যাটেই ভালো খেলে। হোমে তারা যাতে অপ্রতিরোধ্য একটা দল হয়ে ওঠে, সে চেষ্টাটাই করব। পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও জিততে শিখব। এজন্য ভালো একটা পরিকল্পনার দরকার হবে। আগামী মাসের হোম সিরিজটা দেখার পর সেটা করব। তবে টিভিতে খেলা দেখে যেটা বুঝেছি, নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় উন্নতি ঘটাতে পারলেই ভালো দল হয়ে উঠবে বাংলাদেশ। যেমন পেস বোলিং নিয়ে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে কার্যকর ফাস্ট বোলিং করা শিখতে হবে। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি২০র জন্য শক্তিশালী বোলিং ইউনিট গড়ে তুলতে হবে। আমি দেখেছি, বাংলাদেশে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। তাদের ভালোভাবে গাইড করা গেলে আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠবে।

সমকাল: এই মাস থেকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হলো। এটা কি কোনো নতুন চ্যালেঞ্জ?

ডমিঙ্গো: হ্যাঁ, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ নতুন শুরু হলো। ভারত সফর দিয়ে আমরা চেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রবেশ করব। নভেম্বরে ভারতে দুটি টেস্ট খেলব। আমার কাজ হলো, ওই সিরিজের জন্য ভালোমানের একটা দল তৈরি করা। যাতে করে সিরিজ থেকে কিছু পয়েন্ট নিতে পারি। আমার লক্ষ্য হলো, টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে আগামী দুই বছরে পাঁচ থেকে ছয় নম্বরে জায়গা করে নেওয়া। ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে সাত নম্বর থেকে সেরা চারে যাওয়া। একইভাবে টি২০ ফরম্যাটেও উন্নতি ঘটানো।

সমকাল: সামনে পর পর দুটি টি২০ বিশ্বকাপ। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আর ২০২১ সালে ভারতে হবে টুর্নামেন্ট দুটি। যদিও এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ এখনও ভালো দল হয়ে উঠতে পারেনি। টি২০ নিয়ে নিশ্চয়ই আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে?

ডমিঙ্গো: আশা করি বিশ্বকাপ আসতে আসতে বাংলাদেশ টি২০-তেও ভালো দল হয়ে উঠবে। এখানেই কোচ হিসেবে আমার চ্যালেঞ্জ। একটা ভালো টি২০ দল বানাতে যা যা করা দরকার, এর সবই করব।

সমকাল: খেলোয়াড় নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিসিবি আপনাকে কেমন ধারণা দিয়েছে?

ডমিঙ্গো: উনারা বলেছেন, আমি দল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় থাকব। দু'জন নির্বাচক, ম্যানেজার এবং আমি স্কোয়াড বানাব। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আমাদের সমন্বয় করবেন। আমাদের সমন্বিত চেষ্টায় ভালো কিছু হবে আশা করি। আর ম্যাচের ১১ জন নির্বাচন করব আমি ও অধিনায়ক।

সমকাল: বিসিবি কি বলেছে, আপনাকে কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা দেবে?

ডমিঙ্গো: হ্যাঁ, বলেছে আমি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারব। বলেছে, দলের ভালোর জন্য, উন্নতির জন্য সব কিছু করতে পারব।

সমকাল: বিসিবি কর্মকর্তারা চান হেড কোচ ভালো কাজের পাশাপাশি একজন ভালো অভিভাবকও হবেন। প্রয়োজনে ক্রিকেটারদের শাসন করবেন?

ডমিঙ্গো: বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য যেটা ভালো হবে তার জন্য আমি সব কিছু করব। আমাকে যেমন বোর্ডের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তেমনি খেলোয়াড়দেরও তো একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হবে।

সমকাল: বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কতজনের সম্পর্কে আপনার জানাশোনা আছে?

ডমিঙ্গো: খুব বেশি না। এক-দু'জনকে চিনি। তারা বিশ্বমানের ক্রিকেটার বলেই চিনি। সাকিব তাদের অন্যতম। তার সম্পর্কে জানি। কাজ শুরু হলে বাকিদের সম্পর্কে ধারণা নেওয়া শুরু করব।

সমকাল: বাংলাদেশে মিডিয়া কিন্তু সার্বক্ষণিক ক্রিকেট দলকে অনুসরণ করে?

ডমিঙ্গো: আমাদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই মিডিয়ার সাহায্য লাগবে। আশা করি, আপনাদের কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা পাব। ইতিবাচক রিপোর্ট করবেন। মিডিয়ার সাহায্য ছাড়া বর্তমান বিশ্বে কিছু করা কঠিন। আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারাও নিশ্চয়ই আমার এবং আমার দলের পাশে থাকবেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: [email protected] (প্রিন্ট), [email protected] (অনলাইন)