ডার্ক থ্রিলার ধাঁচের ছবির মূল চরিত্র আমিই

২৬ আগস্ট ১৯ । ০০:০০

জাকিয়া বারী মম। মডেল ও অভিনেত্রী। মাছরাঙা টিভিতে আজ রাতে প্রচার হবে তার অভিনীত ধারাবাহিক 'ঘরে বাইরে'। সম্প্রতি বলিউডের 'ম্যাক্স কি গান' নামের একটি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। চলচ্চিত্র, নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে-



'ম্যাক্স কি গান' ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখছেন। নতুন ভুবনে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

এক কথায় বলতে গেলে দারুণ। একেবারে নতুন পরিবেশে নতুন মানুষদের সঙ্গে কাজ করেছি। গত শুক্রবার পর্যন্ত ভুটানে ছবিটির দৃশ্যধারণ হয়। শুটিংয়ের দিনগুলোয় সহশিল্পীদের বেশ সহযোগিতা পেয়েছি। ফয়সাল সাইফের পরিচালনায় 'ম্যাক্স কি গান'-এর গল্পে রয়েছে নানা চমক। এতদিন দেশের পর্দায় অভিনয় করে দর্শকদের মন যেভাবে জয় করেছি, আশা করি বলিউডেও ভালো কিছু করতে পারব।

ছবির গল্পটি কী নিয়ে?

এক কোটিপতির জীবনের নানা গল্প নিয়ে এগিয়েছে ছবির কাহিনী। ওই কোটিপতি ব্যক্তি মনে করে, অর্থের জোর থাকলে সব করা যায়। এমনকি তার মৃত ভাইকেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব! সেখান থেকেই একের পর এক নারকীয় হত্যালীলায় মেতে ওঠে ম্যাক্স। বাকিটা দর্শকরা পর্দায় দেখবেন।

আপনার চরিত্র কী রকম?

ছবিতে সিবিআই অফিসারের চরিত্রে দর্শক আমাকে দেখতে পাবেন। চরিত্রটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। ছবির চিত্রনাট্য পড়ার যতটা না চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে, শুটিংয়ে যাওয়ার পর আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং লেগেছে। ডার্ক থ্রিলার ধাঁচের গল্পটিতে বলতে গেলে ছবির মূল চরিত্র আমিই।

ছবিটি নিয়ে কেমন আশাবাদী?

এটি আমার প্রথম অভিনীত হিন্দি ছবি। প্রথম সবকিছু তুলনাহীন। অনেক প্রস্তুতি নিয়ে শুটিংয়ে নেমেছি। খুব ভালো লেগেছে এমন একটি ছবিতে অভিনয় করতে পেরে। ছবির গল্প ও চরিত্র দুটোই দাগ কাটবে বলে আমি বিশ্বাস করি। পরিচালকও বেশ যত্ন নিয়ে কাজটি করেছেন।

অনেকদিন ধরেই 'ঘরে বাইরে' নাটকটি প্রচার হচ্ছে। নাটকটি নিয়ে কেমন দর্শক সাড়া পাচ্ছেন?

পারিবারিক গল্পটিতে বাস্তবজীবনের ছায়া খুঁজে পেয়েছেন বলে অনেকের নাটকটি ভালো লাগছে বলে জানিয়েছেন। যে রকম গল্প আর চরিত্রে কাজ করতে চাই, এটা সে রকমই নাটক। নানা রকম সুখ-দুঃখ, সংকট, সংশয়, টানাপড়েন আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যায় মানুষের জীবন। কখনও কখনও সত্যিকারের কাছের মানুষ চেনা যায় না। ঘরে-বাইরে নাটকে বহুমুখী সমস্যার মধ্যেও মানুষ ভালোবাসে, নতুন স্বপ্নে জেগে ওঠে। এখানে আমি অভিনয় করছি 'দীপা' চরিত্রে।

আগের চেয়ে অভিনয় ব্যস্ততা বেড়েছে। ক্লান্তি ভর করে না?

ক্লান্তি বোধ করাই স্বাভাবিক। আবার কাজে ডুব দিলে সেটি কেটেও যায়। প্রতিদিন নতুন নতুন চরিত্রের মাধ্যমে নতুন এক মমকে আবিস্কারের চেষ্টা করি। চরিত্রের সন্ধানে ক্লান্তির ছাপটা চলে যায়। প্রতিদিন নতুন চরিত্রে অভিনয় করা মানেই চ্যালেঞ্জ, যা সবসময় উপভোগ করি।

নিজের অভিনীত নির্দিষ্ট কোন চরিত্রটিকে ভালো লাগে?

নির্দিষ্ট কোনো চরিত্রের প্রতি আলাদা ভালো লাগা নেই। চরিত্রের যুক্তি, চরিত্রের উদ্দেশ্য ও চরিত্রের চারপাশের বিষয়বস্তু আমার পছন্দ না হলে আমি সেই চরিত্রে কাজই করি না। তাই যখন কোনো চরিত্রে কাজ করি, সেটিই থাকে আমার ধ্যানজ্ঞান।

আপনার কাজের চেয়ে ব্যক্তিজীবন নিয়ে বেশ আলোচনা শোনা যায়...

হতে পারে। কিছু মানুষ আছে যারা আসলে সার্বক্ষণিক অন্যের বিষয় নিয়ে মেতে থাকতে পছন্দ করেন। অন্যদের মুখরোচক আলোচনা নিয়ে তারা আলোচনা করে আনন্দও পান। মিডিয়ার ব্যাপারে আমার অবজারভেশনে একটা বিষয় উঠে এসেছে- তাহলো এখানে যতটুকু না ঘটে, তার চেয়ে বেশি কিছু মানুষের মুখে মুখে রটে যায়। এখানে মানুষ মুখে অনেক নীতি কথা বললেও বাস্তবে তা নয়। এই যে আমি মন দিয়ে অভিনয় করছি- এটা নিয়ে কিন্তু একেবারেই আলোচনা হচ্ছে না। কোন নাটকে কেমন অভিনয় করলাম, খারাপ কি ভালো- সেটা নিয়ে আলোচনা হওয়ার বিষয় আছে। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। হচ্ছে আমি কার সঙ্গে প্রেম করি, স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে কি-না ইত্যাদি ইত্যাদি। বিষয়টা কিন্তু আমার বাসার দরজার ভেতরের আলোচনা। আমার ব্যক্তিজীবন কেমন যাবে, সেটা একান্তই আমার সিদ্ধান্ত।
 
আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com