ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু

২৬ আগস্ট ১৯ । ০০:০০

সমকাল প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ডেঙ্গু রোগী কমছে। প্রতিদিনই পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে।

গত চব্বিশ ঘণ্টায় বা শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে গতকাল রোববার সকাল ৮টার মধ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ২৯৯ জন। গতকাল মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬৮। তবে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণে দেখা যায়, ৭ আগস্ট সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪২৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চলতি বছর এটিই একদিনে আক্রান্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা। এরপর প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা ওঠানামা করছে। ৮ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির এ সংখ্যা যথাক্রমে ২৩২৬, ২০০২, ২১৭৯, ২৩৩৫, ২০৯৭, ১২০১, ১৮৮২, ১৯৩৩, ১৭২১, ১৪৬০, ১৭০৬, ১৬১৫, ১৫৭২, ১৬২৬, ১৫৯৭, ১৪৪৬, ১১৭৯ ও ১২৯৯।

ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে রোগটি ছড়াতে শুরু করে। ঈদের পর রাজধানী ঢাকার তুলনায় বাইরের জেলায় রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং এখনও তা অব্যাহত আছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত চব্বিশ  ঘণ্টায় আক্রান্ত এক হাজার ২৯৯ জনের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ৬০৭ এবং বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ৬৯২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ৬৩ হাজার ৫১৪ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৭ হাজার ৪০৫ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এখনও পাঁচ হাজার ৯৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে রাজধানীর ৪১ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে তিন হাজার ২৬৮ এবং অন্যান্য বিভাগের হাসপাতালে দুই হাজার ৬৭২ রোগী ভর্তি আছেন।

গতকাল দুপুরে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে স্কুলশিক্ষক জীবন নাহার রত্নার মৃত্যু হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায়। তিনি সাঁথিয়া ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে রত্না ঢাকায় তার বাবার বাড়ি এসে জ্বরে আক্রান্ত হন। ওই অবস্থাতেই গ্রামে ফিরে যাওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। পরে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল দুপুরে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। এর আগে সকালে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যু হয় চিকিৎসারত শিশু মাহফুজার। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে। গত শনিবার মাদারীপুরে মৃত্যু হয় গৃহবধূ সুমি আক্তারের। ওইদিন বিকেলে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। সুমি আক্তারের গ্রামের বাড়ি শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি এলাকায়। এ নিয়ে চলতি বছর ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ৪৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ৪৯৬, মিটফোর্ডে ৩৮৯, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৮৬, সোহরাওয়ার্দীতে ৩০৩, বিএসএমএমইউতে ১৬৭, পুলিশ হাসপাতালে ৬৫, মুগদায় ৩০৬, বিজিবি হাসপাতালে ১২, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১১ হাহার ৯৩৫, কুর্মিটোলায় ২২৩, কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ১৪, জাতীয় অর্থোপেডিক পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ১৪, বাংলাদেশ মেডিকেলে ৫০, হলি ফ্যামিলিতে ১২৩, বারডেমে ২৪, ইবনে সিনায় ৪২, স্কয়ারে ৪৮, কমফোর্টে ২, শমরিতায় ৫, ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৫৬, ল্যাবএইডে ২১, সেন্ট্রালে ৭৪, হাই কেয়ারে ১৬, হেলথ অ্যান্ড হোপে ৫, গ্রিন লাইফে ২৬, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১০১, ইউনাইটেডে ৪০, খিদমায় ১১, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেলে ২৬, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে ৫২, অ্যাপোলোতে ৬৯, আদ-দ্বীনে ৪২, ইউনিভার্সেল মেডিকেলে ৩০, বিআরবি হাসপাতালে ৩, আজগর আলীতে ৪০, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ১৭, উত্তরা আধুনিকে ৫৪, সালাউদ্দিনে ৩৮, পপুলারে ২০, উত্তরা ক্রিসেন্টে ১৩, আনোয়ার খান মডার্নে ২৬ জনসহ তিন হাজার ২৬৮ রোগী ভর্তি আছেন।

এ ছাড়া রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ঢাকায় ৬৮৩, ময়মনসিংহে ১৬২, চট্টগ্রামে ৪১৪, খুলনায় ৬৫৪, রাজশাহীতে ২৪৬, রংপুরে ১০৭, বরিশালে ৩৭৩, সিলেটে ৩৩ জনসহ মোট দুই হাজার ৬৭২ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

৪৭ মৃত্যু নিশ্চিত করল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর :ডেঙ্গুতে চলতি বছর ১৬৯টি মৃত্যুর খবর পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৮০টি মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনা করেছে অধিদপ্তরের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। গতকাল রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ৮০টি মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ৪৭ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত কারণে হয়েছে। মৃত্যুর অন্য ঘটনাগুলোর পর্যালোচনাও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com