মানুষ বিদেশে গিয়ে যেন প্রতারিত না হয় :প্রধানমন্ত্রী

২৬ আগস্ট ১৯ । ০০:০০

সমকাল ডেস্ক

রোববার নিজ কার্যালয়ে অভিবাসনবিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশিরা যেন প্রতারিত না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। মানুষ যেন ধোঁকাবাজিতে না পড়ে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া দরকার। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে তুলতে রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ বিদেশে গিয়ে যেন অকালে হারিয়ে না যায়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ তারা এ দেশেরই নাগরিক। তাদের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব সরকারের। গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিবাসনবিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সরকারপ্রধান এ নির্দেশনা দেন। খবর বাসস, ইউএনবি ও বিডিনিউজের।

বিদেশে লোক পাঠাতে দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু দালাল শ্রেণির লোক গ্রামেগঞ্জে ঘোরে। সোনার হরিণ ধরার স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের বাইরে পাঠায়। এরপর তাদের কোনো খবর নেয় না। আত্মীয়স্বজন চাপ দিলে তাদের থেকে আবার টাকা নেয়। এভাবে একটা অনিয়ম প্রচলিত আছে।

অভিবাসনবিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, অনেক দেশে আমাদের মেয়েরা যায় কাজ করতে। যারা তাদের কাজ করতে পাঠাচ্ছে, কী ধরনের কাজ তারা করতে যাচ্ছে তার জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় না। ফলে তারা কাজ করতে  পারে না। তারা অত্যাচারের শিকার হচ্ছে।

এসব অনিয়ম বন্ধ করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও সভায় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এগুলো যাতে বন্ধ হয় তার জন্য এরই মধ্যে তাদের স্মার্ট কার্ড দেওয়া, টেলিফোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাইরে গমনেচ্ছুদের জন্য সারাদেশে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার করা হয়েছে। প্রবাসে গমনেচ্ছুরা এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করবে এবং তারপর তাদের পাঠানো হবে। তবে এসব সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও অনেকে দালালের খপ্পরে পড়ে বিপদে পড়ে যায়। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অনেক বাংলাদেশির মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেন শেখ হাসিনা।

দেশের বাইরে কাজ করতে গিয়ে মানুষ যেন প্রতারণার শিকার না হয়, সেজন্য জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কর্মক্ষম যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের দেশে কর্মক্ষম যুবসমাজ রয়েছে, সেটা আমাদের জন্য বিরাট শক্তি। তাদের বিভিন্ন কাজের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে। এখন আমরা শুধু শ্রমিক পাঠাব না, দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে হবে। এতে যিনি যাবেন তিনি লাভবান হবেন; দেশও লাভবান হবে।

সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com