ভুল ডায়াগনসিস ৪২ শতাংশের!

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রাজবংশী রায়

জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডেঙ্গু রোগী
শনাক্ত হয়। এরপরই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত গাইডলাইন ধরে ডেঙ্গু
রোগীর চিকিৎসাও দেওয়া হয়। ওই রোগীর মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
ডেঙ্গুজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে ঘোষণা করে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) গঠিত
'ডেথ রিভিউ' কমিটির পর্যালোচনা বলছে ভিন্ন কথা।


দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে গত সোমবার পর্যন্ত স্বাস্থ্য
অধিদপ্তরে মৃত্যু পর্যালোচনার জন্য ডেঙ্গুতে মৃত ২০৩ জনের নমুনা পাঠানো হয়।
ডেথ রিভিউ কমিটি ১১৬টি মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনা করে বলছে, ৬৮ জনের মৃত্যু
ডেঙ্গুজনিত কারণে হয়েছে। অন্যদের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত কারণে নয়। তবে কোন
কারণে অন্য ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করেনি ওই কমিটি। মৃত্যু
পর্যালোচনায় গঠিত ডেথ রিভিউ কমিটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিকিৎসা
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এখন সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কে সঠিক। ডেথ রিভিউ
কমিটি না-কি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ডেথ রিভিউ কমিটির পর্যালোচনা সঠিক হলে
মৃত ৪২ শতাংশ মানুষ হাসপাতালে ভুল ডায়াগনসিসের শিকার হয়েছেন। আর এ কারণে
তারা ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই মৃত্যুর দায় কার ওপর
বর্তাবে, সেই সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্নিষ্টদেরই নিতে হবে।


রোগ শনাক্তকরণে চিকিৎসকদের ভুল হয়েছিল কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ সমকালকে বলেন, 'ভুল
ডায়াগনসিস যে দু-একটি ক্ষেত্রে হয়নি তা বলা যাবে না। আইইডিসিআর থেকে কিন্তু
বারবার বলা হয়েছে; ঘোষিত মৃত্যুগুলোর বিষয়েই কেবল নিশ্চিত হওয়া গেছে।
যেগুলো নিশ্চিত হওয়া যায়নি সেগুলো আমরা আবারও পর্যালোচনা করব এবং মৃত্যুর
সঠিক কারণ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গুও হতে পারে। আবার
ক্ষেত্র বিশেষে অন্য কারণও হতে পারে।' যদি ভুল ডায়াগনসিসের কারণে কোনো
রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে দায় কে নেবে- এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান
তিনি।


রোগ শনাক্তকরণ না করে হাসপাতালে কিসের ভিত্তিতে চিকিৎসা হয়েছিল- এমন
প্রশ্নের জবাবে ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আপনারা জানেন; রোগীর রোগ শতভাগ
ক্ষেত্রে কিন্তু আমরা নিশ্চিত করতে পারি না। মেডিকেলে একটি টার্ম আছে, যেটি
হলো- লক্ষণ দেখে চিকিৎসা করা। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে আমরা দেখি, রোগী
ব্লাডপ্রেশার, শ্বাস-প্রশ্বাস ও হার্টবিট ঠিক আছে কি-না। একজন মানুষ যখন
অজ্ঞান হয়ে যায়, আমরা কিন্তু তখনও জিজ্ঞেস করি, তার ব্লাডপ্রেশার,
শ্বাস-প্রশ্বাস ও হার্টবিট ঠিক আছে কি-না। কোনো রোগীকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া
হলে তখনও কিন্তু এ তিনটি জিনিস ঠিক থাকছে কি-না তা দেখা হয়। কাজেই আমাদের
চিকিৎসা কিন্তু ঠিক আছে।


ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখযোগ্য নয় দাবি করে মহাপরিচালক বলেন, বিশ্বের
১২৮টি দেশে এবার ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। কিন্তু
বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম। এবার মৃত্যুর হার .০০২ শতাংশ।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, মৃত্যুর হার এক শতাংশের কম হলে তা
স্বাভাবিক। হাসপাতালের বহির্বিভাগ, বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও চেম্বারে
চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের সবাইকে হিসাবের আওতায় আনা হলে মৃত্যুর হার আরও কম
হতো। তবে একটি মৃত্যুও কাম্য নয়।


এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ
নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক ও আন্তর্জাতিক
উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর'বি) উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা.
মাহমুদুর রহমান বলেছেন, হাসপাতালে ডায়াগনসিস কিসের ভিত্তিতে হলো? হাসপাতালে
তো এনএস-ওয়ান, আইজিএম, আইজিজি পরীক্ষা অথবা প্লাটিলেট কাউন্ট করে ডেঙ্গু
নিশ্চিত করছে। অপরদিকে আইইডিসিআর শুধু পিসিআর করে ডেঙ্গু নিশ্চিত করছে।
জ্বর আসার পর প্রথম চার দিনের মধ্যে পরীক্ষা করলে পিসিআর পজিটিভ হবে। এরপর
পিসিআর আর পজিটিভ হবে না। হাসপাতাল যদি আইজিএম টেস্টের মাধ্যমে ডেঙ্গু
নিশ্চিত করে, সেটি কিন্তু পিসিআর নিশ্চিত করছে না। পিসিআর চার দিন পর্যন্ত
পজিটিভ হবে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সবার রক্ত পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।
এখানেই সমস্যাটি হচ্ছে। জ্বর হওয়ার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে
যদি আইজিএম পরীক্ষা করে ডেঙ্গু পজিটিভ হয়, সেটি সঠিক। পিসিআর দেখে মৃত্যু
নিশ্চিত করলে আপনাকে পিসিআর অনুযায়ী ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কাজও করতে হবে।
সেক্ষেত্রে ডেঙ্গু চিকিৎসার গাইডলাইন পরিবর্তন করতে হবে।


ডেঙ্গুতে মৃত্যু পর্যালোচনার নামে যা করা হচ্ছে সেটি সঠিক নয় জানিয়ে
অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, প্রথমত মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর
জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এমনটি করছে। দ্বিতীয়ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পরে
কেউ স্ট্রোকে মারা গেলে ডেঙ্গুতেই তার মৃত্যু হিসাব করতে হবে। আরও কিছু
সমস্যা মৃত্যুর প্রভাবক হতে পারে। কিন্তু কেউ কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত
হলে সেটিই তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে গণনা করতে হয় এবং বিশ্বস্বাস্থ্য
সংস্থার এটিই নিয়ম। তৃতীয়ত পিসিআর করে ৬৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
তাহলে আক্রান্ত হাজার হাজার মানুষের ক্ষেত্রে কেন পিসিআর পরীক্ষা করা হলো
না? এভাবে মৃত্যুর হার .০০২ শতাংশ দেখানো হচ্ছে। এ ধরনের পদ্ধতি কোনো
বিজ্ঞানভিত্তিক নয়। সত্য ঘটনা প্রকাশ করা কোনো অন্যায় নয়। তাহলে কেন এমন
করা হচ্ছে- এ প্রশ্ন করেন তিনি।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এসব বিষয় নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের যোগ্যতা নিয়েও
প্রশ্ন তোলেন এই জ্যেষ্ঠ রোগতত্ত্ববিদ। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর এতবড়
প্রাদুর্ভাব ঘটল, অথচ এ নিয়ে এক্সপার্ট কনসালটেশন বা বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
নেওয়া হয়নি। আমি যখন পরিচালক ছিলাম, তখন যে কোনো ন্যাশনাল ক্রাইসিসে
বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছি, নিজেদের মধ্যে কোনোকিছু গোপন রাখিনি। তাদের
পরামর্শ নিয়েছি। কিন্তু এবার তা হয়নি। কেন হচ্ছে না সেটি জানি না। তবে
ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে এখন থেকে বছরব্যাপী পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।
সবাইকে নিয়ে আলোচনা করে পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে।


মৃত্যু ও পর্যালোচনা :ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত ২৩ ডেঙ্গু রোগীর
মধ্যে ১৩টি পর্যালোচনা করেছে কমিটি। তাদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত
কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ওই কমিটি। ঢাকা শিশু হাসপাতাল থেকে পাঠানো
১০টির মধ্যে ৪টি পর্যালোচনার পর কমিটি বলছে সবার মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু। শহীদ
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে পাঠানো ৭টির মধ্যে ৩টি
পর্যালোচনা করে কমিটি। ডেঙ্গুজনিত কারণে কারও মৃত্যু হয়নি বলে দাবি করেছে
কমিটি। মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে পাঠানো ১৫টির মধ্যে ৪টি মৃত্যুর
ঘটনা পর্যালোচনা করে কমিটি মাত্র ২ জনের মৃত্যু পেয়েছে। কুর্মিটোলা
জেনারেল হাসপাতাল থেকে পাঠানো ২টি মৃত্যু ঘটনা পর্যালোচনা করে কমিটি ২টিই
ডেঙ্গুজনিত কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনটির মধ্যে দুটি মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু বলে কমিটি
নিশ্চিত করেছে। মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে পাঠানো দুটি, সম্মিলিত সামরিক
হাসপাতাল থেকে একটি মৃতদেহের নমুনা পাঠানো হলেও তা এখনও পর্যালোচনা করা
হয়নি। রাজধানীর সরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৩টি মৃত্যু
পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি পর্যালোচনা করে ১৫ জনের
মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কমিটি।


রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে
পাঠানো তিনটি মৃত্যুর মধ্যে দুটি পর্যালোচনা করে একজনের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত
কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল
থেকে ১০টি মৃতদেহের নমুনা পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে ছয়টি পর্যালোচনা করে
চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্য দু'জনের মৃত্যু কারণ জানানো হয়নি।
বারডেম হাসপাতাল থেকে পাঠানো চারটি মৃত্যুর মধ্যে দু'জনের নমুনা পর্যালোচনা
করে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। ইবনে সিনা হাসপাতাল থেকে পাঠানো
সাতটির মধ্যে পাঁচটি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি ডেঙ্গুজনিত কারণে
হয়েছে। স্কয়ার হাসপাতাল থেকে পাঠানো ১২টির মধ্যে ১০টি পর্যালোচনা করেছে
কমিটি। এই হাসপাতালের সবক'টি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত কারণে বলে নিশ্চিত করা
হয়েছে। পান্থপথের শমরিতা হাসপাতাল থেকে পাঠানো দুটির মধ্যে একটি মৃত্যু
ডেঙ্গুজনিত কারণে হয়েছে। ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে পাঠানো
একজনের নমুনা পর্যালোচনা করে তা ডেঙ্গুজনিত কারণে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে পাঠানো একটি মৃত্যু পর্যালোচনা করে কমিটি বলেছে,
এটি ডেঙ্গুজনিত নয়। গ্রিন লাইফ হাসপাতাল থেকে চারটি মৃত্যুর নমুনা পাঠানো
হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে চারটি পর্যালোচনা করে একটি ডেঙ্গুজনিত কারণে হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে পাঠানো হয়েছে ছয়টি। পর্যালোচনা করা
হয় তিনটি। এরমধ্যে দু'জন মারা গেছে ডেঙ্গুতে। ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে
পাঠানো আটটির মধ্যে সাতটি পর্যালোচনা করা হয়। কমিটি বলছে ছয়টিই ডেঙ্গুজনিত
মৃত্যু। এ্যপোলো হাসপাতাল থেকে পাঠানো পাঁচটির মধ্যে পাঁচটিই পর্যালোচনা
করেছে কমিটি। সব মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত। ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
থেকে পাঠানো চারটি মৃত্যু পর্যালোচনা করা হয়। সবই ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু।
বিআরবি হাসপাতাল থেকে পাঠানো সাতটি মৃত্যু পর্যালোচনা করা হয়। তিনজনের
মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু। এভাবে রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মোট ১০১টি মৃতদেহের নমুনা পাঠানো হয়। সেগুলোর মধ্যে
পর্যালোচনা করা হয় ৭৪টি। কমিটি ৪৯টি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করে।
অন্য ২৫টি মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গুজনিত নয় বলে দাবি করলেও কমিটি ওই সব মৃত্যুর
সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেনি প্রতিবেদনে।


সারাদেশের চিত্র :সারাদেশ থেকে ডেঙ্গুজনিত কারণে ৩৯টি মৃতদেহের নমুনা
পাঠানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। সেগুলোর মধ্যে ১৪টি পর্যালোচনা করে চারটি
ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেছে ডেথ রিভিউ কমিটি। অন্য ১০টি মৃত্যুর কারণ
ডেঙ্গুজনিত নয় বললেও কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানানো হয়নি।


ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু পর্যালোচনায় গঠিত আট সদস্যের কমিটির প্রধান ও
আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, একটি
দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত না হয়ে আমরা কোনো তথ্য
প্রকাশ করতে পারি না। মৃত্যু পর্যালোচনার প্রক্রিয়া বর্ণনা করে এই পরিচালক
আরও বলেন, মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনটি ধাপে কাজ করা হয়। হাসপাতাল থেকে
তথ্য পাওয়ার পর মৃত ব্যক্তির সমস্ত ক্লিনিক্যাল তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর
মৃত্যুর কারণ জানার জন্য উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থার তথ্য বিচার ও নমুনা
সংগ্রহ করা হয়। তৃতীয় ধাপে ল্যাবে পরীক্ষায় দায়ী ভাইরাস পেলে ডেঙ্গুতে
মৃত্যুর বিষয়টি হিসাব করা হয়। এ কারণে হাসপাতাল থেকে বলা হলেও আমরা সঙ্গে
সঙ্গে তা ঘোষণা করি না।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)