সংযোগ নেই তবু মামলার আসামি!

ঈশ্বরগঞ্জ

০৯ সেপ্টেম্বর ১৯ । ০০:০০

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

নিজের নামে কোনো সংযোগ নেননি মো. রিপন মিয়া। কিন্তু তার নামে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার অভিযোগে বিদ্যুৎ আইনে মামলা হয়েছে। মামলা হওয়ার প্রায় দুই বছর পর গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে পুলিশ রিপনকে ধরতে অভিযান শুরু করলে পরিবার জানতে পারে মামলার বিষয়টি। ফেরারি রিপনের পরিবার মামলা থেকে নিস্কৃতি পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন বিদ্যুৎ বিভাগ ও আদালতে। এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।

ঈশ্বরগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি)। পিডিবি কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালের শেষের দিকে ময়মনসিংহ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটির বাদী হন বিদ্যুৎ বিভাগের শম্ভুগঞ্জ কার্যালয়ের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান। এতে সাক্ষী হন ঈশ্বরগঞ্জ কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নিরঞ্জন কুণ্ডু, লাইনম্যান মো. হায়দার আলী, ইলেকট্রিশিয়ান মো. হুমায়ুন কবীর ও সাহায্যকারী মো. সুরুজ আলী। মামলায় আসামি করা হয় মো. রিপন মিয়াকে। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসেনপুর গ্রামের একরাম হোসেনের ছেলে।

বিদ্যুৎ বিভাগের মামলার অভিযোগটিতে বলা হয়, মো. রিপন মিয়া একজন বৈধ বিদ্যুৎ গ্রাহক, যার হিসাব নম্বর দেখানো হয়-৩০৬৫/৩১৬৪। ওই হিসাবের অনুকূলে সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত সর্বমোট ৩৯ হাজার ৮৬৯ টাকা বকেয়া থাকায় ২০ আগস্ট ২০১৭ সালে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। কিন্তু গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করে নিজ উদ্যোগে সংযোগ নিয়ে ব্যবহার করায় ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযানের সময় ধরা হয়। তাৎক্ষণিক সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। গ্রাহক অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় এক হাজার ৫০ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় মামলায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিল আদায়সহ ক্ষতিপূরণ আদায়ের নিমিত্তে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ আইনে মামলা করা হয়।

প্রতিপক্ষ রিপন মিয়ার নামে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগেও রিপনের নামে সংযোগের কোনো নথি নেই। রিপনের মা আম্বিয়া খাতুনের নামে একটি সংযোগ রয়েছে রিপনদের বাড়িতে। সংযোগটি আগে রিপনের বাবা একরাম হোসেনের নামে ছিল। কিন্তু চরহোসেনপুর গ্রামে পাশাপাশি দু'জন একরাম হোসেন হওয়ায় বিদ্যুৎ বিলের কাগজ নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। তাই আম্বিয়া খাতুন নিজের নামে সংযোগটি স্থানান্তর করে নেন। তাদের কোনো মাসের বকেয়াও নেই। কিন্তু রিপনের নামে বিদ্যুৎ বিভাগের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের ঈশ্বরগঞ্জ কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রশান্ত ধর জানান, বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com